ঢাকা, রবিবার,৩০ এপ্রিল ২০১৭

ফ্যাশন

দেশীয় ফ্যাশনে ২০১৬

সাবিরা সুলতানা

২৬ ডিসেম্বর ২০১৬,সোমবার, ১৭:৩৫


প্রিন্ট

ফ্যাশন এখন মানুষের জীবনযাত্রার অন্যতম একটি অনুষঙ্গ। প্রায় সব মানুষই কিছুটা হলেও ফ্যাশন সচেতন। তাই সারা বছরই ফ্যাশন নিয়ে চলে নানা আয়োজন। বাজারে আসে নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক। কোনোটা ক্রেজ হিসেবেও দেখা দেয়। ২০১৬ সালের ফ্যাশন ট্রেন্ড কেমন ছিল সংক্ষেপে একবার দেখে নেয়া যাক। এ বিষয়ে জানাচ্ছেন ফ্যাশন হাউজ চরকার কর্ণধার ও ডিজাইনার জাভেদ কামাল
২০১৬ সালের ফ্যাশন ছিল মূলত কাটিং প্যাটার্ন-নির্ভর। অন্য বছর যেমন- ভ্যালু এডিশন অর্থাৎ এমব্রয়ডারি, কারচুপি, ব্লক, বাটিক, জারদৌসি অর্থাৎ মিডিয়াম-নির্ভর ফ্যাশন ট্রেন্ড দেখা গেছে; এ বছর ছিল কাটিং প্যাটার্ন-নির্ভর। বিভিন্ন ধরনের প্যাটার্ন ব্যবহার করা হয়েছে কামিজের হাতা ও ঝুলে, সালোয়ার ও পালাজ্জোর ডিজাইনে। রাউন্ড কাট, ফিশ কাট, এক্সট্রা লার্জ, অ্যারো ও সিঙ্গেজ অ্যারো এরূপ বিভিন্ন প্যাটার্ন দেখা গেছে সিঙ্গেল কামিজে। কামিজের লেন্থ ছিল অবশ্য আগের বছরের মতোই লং ও এক্সট্রা লং।
এ ছাড়া প্রিন্টেড কাপড়ের চেয়ে সিঙ্গেল কালারের ব্যবহার বেশি দেখা গেছে পোশাকে। কামিজের সাথে সালোয়ার ও চুড়িদারের ব্যবহার এ বছর বেশ কম ছিল। এর বদলে পালাজ্জো, ডিভাইডার বেশি চলেছে। এখানেও প্যাটার্নে বৈচিত্র্য দেখা গেছে। পালাজ্জো ও ডিভাইডারে অ্যারো কাটিং, এক্সট্রা লার্জ প্যাটার্ন দেখা গেছে বেশি।
এ ছাড়া ওয়েস্টার্ন প্যাটার্নের পোশাকও বেশ জনপ্রিয় ছিল। তবে এবার এতে বৈশিষ্ট্য ছিলÑ দেশীয় ও ইস্টার্ন কাপড় ব্যবহার করে ওয়েস্টার্ন প্যাটানের পোশাক তৈরি করা।
শাড়ির ক্ষেত্রে এ বছরের বৈশিষ্ট্য হলো- বুনন-বেজ ডিজাইন। উইভিংয়ের নকশায় বৈচিত্র্য এনে মূলত শাড়িতে ডিজাইন করা হয়েছে। শাড়ির ডিজাইনে ভ্যালু এডিশনের ব্যবহার ছিল কম। এবার মিক্স উইভিংয়ে করা শাড়ি বেশ চলেছে। যেমন- মসলিনের সাথে এন্ডি মিশিয়ে শাড়ি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া কাতানের চাহিদা ছিল ব্যাপক। টিনএজ মেয়েদের স্কার্ফ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ইস্টার্ন-ওয়েস্টার্ন সব ধরনের পোশাকেই স্কার্ফের ব্যবহার ছিল টিনএজদের ফ্যাশনের অংশ।
এ ছাড়া ছিল পাঞ্চ। জর্জেট ও লিলেন কাপড় দিয়ে অল সিজনে পরার উপযোগী পাঞ্চর ব্যবহার নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিল।
এ বছর পোশাকের ম্যাটেরিয়াল হিসেবে জর্জেট ও লিলেন কাপড়ের ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ছিল সুতি কাপড়।
রঙের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার ছিল বেশি। এ ছাড়া পোশাকে মাল্টিকালারের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখ করার মতো।
ছেলেদের পোশাকে শার্টের প্রচলন ছিল বেশি। বছরের শুরুর দিকে চেক শার্টের চাহিদা বেশি থাকলেও শেষের দিকে শেডের শার্ট জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
পাঞ্জাবির বেলায় বছরজুড়েই ছিল লং পাঞ্জাবির প্রাধান্য। শর্ট পাঞ্জাবি তেমন দেখা যায়নি। প্রিন্ট ও লিলেন কাপড়ের পাঞ্জাবি ছিল এ বছরের পাঞ্জাবির মূল ট্রেন্ড। ভ্যালু অ্যাডিশনের পাঞ্জাবিগুলোতে মূলত প্লেট ও বেনে কারুকাজ দেখা গেছে।
ফ্যাশন বাজার
ফ্যাশন বাজার বিশেষ করে দেশীয় বুটিক হাউজগুলোর জন্য বছরটা খুব একটা ব্যবসাসফল ছিল না। ঈদ ও পয়লা বৈশাখ ছাড়া তেমন জমে ওঠেনি বুটিক হাউজগুলোর পসরা।
এসব কারণে সারা বছর হাউজগুলোকে মূল্যছাড় দিতে দেখা গেছে। এ ছাড়া বড় ব্যান্ডশপ বাজারে আসায় অনেক ছোট হাউজ বন্ধও হয়ে গেছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫