ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

মোদির উত্থান কেন বিপজ্জনক?

মিনা ফারাহ

২৪ ডিসেম্বর ২০১৬,শনিবার, ১৯:৫৫


মিনা ফারাহ

মিনা ফারাহ

প্রিন্ট

দুর্নীতিপরায়ণ কংগ্রেস ডায়নেস্টিকে মাইনাস করে, একেবারে ফেরারি বানিয়ে সবার আগে পরিবর্তনের অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিলেন মোদি, পরে যা ছড়িয়ে গেছে পশ্চিমে। ট্রাম্পের অভ্যুত্থানে শঙ্কিতদেরকে বলছি, উগ্রবাদ নিয়ে ট্রাম্প নয়, মোদির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন। কারণ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আদর্শ এবং সব কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করেছে, উপমহাদেশের জন্য কতটা বিপজ্জনক। ক্ষমতায় আসার পরেই উগ্রবাদের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অস্থির করছেন অঞ্চলিক রাজনীতি। বিষয়টিতে আমাদের দ্বিচারিতা বনাম ট্রাম্পকে নিয়ে মিডিয়ার গুজব রটানো- বিস্ময়কর। বিজেপির সন্ত্রাস গুম হয়ে গেছে মিডিয়ায়। বাবরি মসজিদ কিংবা গুজরাট গণহত্যা দিবস এলে একটি কলামও দেখি না। মিডিয়া দিয়ে শুধু সরকারকেই সেবা দিতে হলে, সেটি দিয়ে জনগণ করবে কী? জাতি হিসেবে এটি এক ধরনের দেউলিয়াপনা।
যে কাজটি ট্রাম্প হয়তো করবেন না, সেটিই করছে বিজেপি। সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হওয়া উচিত ভারতীয় দূতাবাসগুলোর সামনে। যারা এসব সমর্থন করছে, তারাও বিক্ষোভের টার্গেট হওয়া স্বাভাবিক। কারণ বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এসব ঘটনা বাড়ার সাথে অদ্ভুত মিল। বাংলাদেশে মূর্তি ভাঙলে ট্রাম্পের করণীয় কী? অবিভক্ত ভারত কায়েম কিংবা আওয়ামী লীগকে চিরজীবন ক্ষমতায় রাখা ট্রাম্পের এজেন্ডা নয়। আমেরিকাতে কয়েকটা মসজিদ-মন্দিরে আগুন দিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। অন্য দিকে, ৭০ বছর ধরে উগ্রবাদের কোনটা বাকি আমাদের উপমহাদেশে?
বিজেপি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরব না হয়ে যদি শুধু ট্রাম্পের দোষ খুঁজতে থাকি, সঙ্কটের সমাধান তো হবেই না; এদিকে সংখ্যালঘু শূন্য হতে পারে বাংলাদেশ। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ গণতান্ত্রিক দেশের প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতা বলে কিছু নেই। ট্রাম্প জানেন, সংখ্যালঘুদের শ্রম ছাড়া মার্কিন অর্থনীতি অচল। অথচ সংখ্যালঘু বিতাড়ন কিংবা অবিভক্ত ভারতবর্ষ প্রশ্নে আগাগোড়াই বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট। ট্রাম্পের লম্ফঝম্পই বেশি। গণভবনকেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে বৈশ্বিক রাজনীতি আলাদা করাই সবার জন্য মঙ্গল।
কংগ্রেস যেখানে শেষ, বিজেপির শুরু। বিজেপি মানেই মোদি। ইন্দিরার ভোট কেলেঙ্কারি, জরুরি অবস্থা জারি আর জেলে যাওয়ার পরে এবার একটার পর একটা চমক মোদির। অতীতে প্রথম দফায় বিজেপির ক্ষমতার মূলেও নাকি তার কৃতিত্ব।
কাশ্মির, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ... ক্ষমতায় এসেই লাগাতার অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা। বিষয়টি আর সংখ্যালঘুতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আঞ্চলিক সঙ্ঘাতে রূপ নিতে চলেছে। এই লক্ষ্যে আওয়ামী লীগকে বানাতে চায় সারোগেট। কংগ্রেসের পর, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী শক্তির গোড়া পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে মাঠে নেমেছে বিজেপি এবং সাঙ্গপাঙ্গরা। নিজেদের এজেন্ডা পূরণেও রেকর্ড। কংগ্রেসের পর, দেশীদের মধ্যে বিভক্তি যে পর্যায়ে নিয়ে গেছে বিজেপি, অপেক্ষা এখন পরাজয়ের।
হিলারি ক্লিনটন, সোনিয়া গান্ধী, বেনজির ভুট্টো, ইন্দিরা গান্ধী... ফেরারি ডায়নেস্টিরা ভাবতেন, ভোটাররা খুবই বোকা এবং ক্ষমতা চিরস্থায়ী। যেমন ভাবছে সারোগেট ডায়নেস্টি। ইন্টারনেটের প্লেনে চড়ে মানবসভ্যতার রকেট যাত্রা সত্ত্বেও ভয়ানক সঙ্কটে মনুষ্যত্ব। এর বিরুদ্ধেই পরিবর্তনবাদীদের মুভমেন্ট। উদাহরণস্বরূপ, সরকারের আঙ্কারায় অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারি চলবে; কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা যাবে না! আইন অনুযায়ী সব অভিযুক্তেরই কারাগারে থাকার কথা।
নালিশ দেয়া জাতি আমরা, ওইখানেই সীমাবদ্ধ। পশ্চিমারা সমাধান করলে, ‘১/১১’ হলো কেন? স্বার্থে ব্যাঘাত না ঘটলে কিছুই করা হবে না। নালিশ দেয়ার সংস্কৃতি আমাদের রাজনৈতিক অভিশাপ। এই দেশে তিনটি ক্যুর মধ্যে ২টা কংগ্রেস, ১টা বিজেপির কৃতিত্ব। ১/১১-এর পর, ৫ জানুয়ারি শেষে, ৯২ দিন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে ১৮ রাষ্ট্রদূতের ‘ক্যু’-এর মূলে কারা? খালেদার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদূতদের অফিসে নালিশ দিয়েছিল কংগ্রেস এবং সারোগেট লিগ। এরপরই তার অফিসে ১৮ রাষ্ট্রদূত হাজির। ওই দিনের পরেই পল্টন মরা, বিরোধী দলের আন্দোলন হাওয়া। ১/১১, ৫ জানুয়ারি, রাষ্ট্রদূতদের ক্যু... প্রতিনিয়ত আঘাতে বিএনপির রাজনৈতিক চামড়া এত বেশি মোটা হয়ে গেছে, এখন কোনো কিছুতেই কাজ হয় না। কোনোরকম মুভমেন্ট ছাড়াই জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বসিয়ে দেয়া কি চাট্টিখানি কথা? পশ্চিমের নোংরা ঘাঁটতে নিজেদের পাণ্ডিত্য জাহির করি, কিন্তু দেহের ক্যান্সার নিয়ে পুরোপুরি নীরব মিডিয়া। সংখ্যালঘু থেকে নির্বাচন ক্রাইসিস, সব কিছুতেই রাজনৈতিক ফ্যাশন।
চীন-যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বে, পরাশক্তিরা সৃষ্টি করেছে নিজস্ব ব্লক এবং সারোগেট রাষ্ট্র। দুই ব্লকের মতবিরোধে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধেরও সম্ভাবনা। আমেরিকার সারোগেট ভারত, চীনের সারোগেট পাকিস্তান। ভারতের সারোগেট লিগডায়নেস্টি। এই অঞ্চলে ভারতকে দাদাগিরির ক্ষমতা দিয়েছে আমেরিকা। এরই অংশ হিসেবে অস্ত্র, বিদ্যুৎ, পরমাণু শক্তি, সাবমেরিন, উন্নতির খনি; যে যেভাবে পারছে ব্যবহার করছে বাংলাদেশকে। এসব অস্ত্রের প্রয়োজন কী, কে ভাবে? মিডিয়া যা দেখাচ্ছে, আসলে তা নয়। আসল ঘটনা, যুদ্ধ শুরু হলে ভূরাজনৈতিক সুবিধার কারণে বাংলাদেশকে ঘাঁটি বানানোই পরাশক্তিদের লক্ষ্য। আর এই বিষয়কে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে বিজেপি। মোদির লক্ষ্য বিশ্বনেতাদের মঞ্চে বাজিমাত করা।
আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ব্যাপক হারে ছড়িয়ে যাচ্ছে। কংগ্রেস আমলেও রামু-উখিয়ার মতো ঘটনা অহরহ, কিন্তু বিজেপির প্রতিক্রিয়া অন্য রকম। বিশ্বজিৎ দাসের ঘটনা এখন ঘটলে সরকারকে অন্য রকম জবাব দিতে হয়তো বাধ্য করা হতো। যেমন হচ্ছে সাম্প্রতিককালে। এবার আর কংগ্রেসের মতো নয়; কিছু ঘটলেই সশরীরে হাজির। দিল্লি থেকে কড়া নোটিস। সংখ্যালঘু নির্যাতন আসলেই করছে কারা? এস্টাবলিশমেন্টের টার্গেট কারা? বিএনপি-জামায়াতের ওপর দায় চাপানোর উদ্দেশ্য দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। এদিকে, ২০ দলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব প্রায় শেষের পথে। ভারতের উগ্রবাদে আঞ্চলিক যুদ্ধের গন্ধ, যা ছড়িয়ে যেতে পারে পুরো উপমহাদেশে। রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে ব্যবহৃত হবে বাংলাদেশ, কিন্তু নিজেকে রক্ষা করতে হবে অবশ্যই।
অবিভক্ত ভারতের আওয়াজ যেন ইউনাইটেড স্টেটস্ অব ইন্ডিয়া। বিজেপির বক্তব্য, অফিসিয়াল পতাকা, কর্মকাণ্ডে শঙ্কা পড়ে। মিডিয়া সত্য লিখছে না অনেক ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইছে না। যা হোক, সবার উচিত, উগ্রবাদ বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক হওয়া।
মাত্র আট বছর বয়সেই যে দলে যোগ দিয়েছিলেন মোদি, সেই ‘আরএসএস’-এর সদস্যের হাতেই গান্ধী খুন। কারণ, ভারত ভাগের বিরুদ্ধে তারা। হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে দ্রুতই নেতাদের নজর কাড়েন মোদি। রাজনীতির তাড়নায় মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিয়ের ৯ দিনের মাথায়, নববধূ যশোদা বেনকে ত্যাগ করে সন্ন্যাসী। যশোদা এখনো জীবিত, কিন্তু সন্ন্যাসব্রতের পরিবর্তন হয়নি।
পার্টির শিখরে পৌঁছানোর আগে যে ভয়ানক সাম্প্রদায়িক কাজটি করেছিলেন, বাবরি মসজিদ ভাঙার প্রস্তুতি হিসেবে আদভানীর নেতৃত্বে এবং কংগ্রেসী প্রধানমন্ত্রীর সমর্থনে রথযাত্রার সফল আয়োজন। এরপর তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।
বাবরি মসজিদ ভাঙার পর যে ভয়ানক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, অন্তত মিডিয়ার তো ভুলে যাওয়ার কথা নয়। গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোকে ছাইচাপা দিয়ে অহেতুক বিষয় নিয়ে মাতামাতি কেন? তসলিমা এবং তার ‘লজ্জা’ বইটিকে বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করেছে বিজেপি, এখনো করছে। বরাবরই লেখিকাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে সাম্প্রদায়িক গণ্ডগোলের হাতিয়ার হিসেবে পুষছে। এভাবে প্রমাণ করেছে, ৯/১১-এর উগ্রবাদীদের সাথে বিজেপির আদর্শের পার্থক্য নেই।
২০০৯-এর তদন্ত রিপোর্টে যাদের নাম, এদের অনেককেই মাথায় রেখেছে সারোগেট মহল। তদন্ত রিপোর্টে ‘বিজেপি এবং আরএসএস’-কে বলা হয়েছে মসজিদ ভাঙার আর্কিটেক্ট। বিজেপি এবং মোদির সব সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের তথ্য ইন্টারনেটে। এগুলোকে প্রাধান্য দিলে, কেষ্টবেটাকে ধরা যেত, মূর্তি ভাঙাও কমতো। উল্টো রেডিক্যালিজমের অভিযোগ এনে প্রতিপক্ষকে বিনাশ করতেই চরম দণ্ডের উৎসব এবং জাতীয়তাবাদী শক্তিকে কবরে পাঠানোর কাজে অনন্য উচ্চতায় বিজেপি। ভারতেরই কমিশনের তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, মোদি-বাজপেয়ি-আদভানীদেরই জেলে থাকার কথা। বিজেপি ক্ষমতায় যাওয়ায় সন্ত্রাসীরা মুক্ত।
২০০২ সালে গুজরাট গণহত্যায় তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার পর সন্ত্রাসী খোঁজার প্রয়োজন কতটা? সুতরাং সন্ত্রাস দমনে বিজেপির ভূমিকা আমাকে হাসায়। এই দলটা হচ্ছে, সর্ষের মধ্যে ভূত। ক্ষমতায় না এলে আমেরিকা কখনোই মোদির কপাল থেকে সন্ত্রাসীর তকমা তুলে নিত না, আমেরিকাতেও ঢুকতে দিত না। ২০১৩ পর্যন্ত তিনবার ভিসা দেয়নি। এখন তারাই হোয়াইটওয়াশ করা মোদিকে হোয়াইট হাউজে আনার জন্য ব্যস্ত। আগেও লিখেছি, পুঁজিবাদেই বাজিমাত।
ক্ষমতায় আসার পরই বারবার কাশ্মিরে উত্তেজনা। এ জন্য অন্যপক্ষকে দোষ দেয়ার সুযোগ তেমন নেই। বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুদ্ধের মর্যাদা আলাদা। বিশ্বনেতা হতে মরিয়া নরেন্দ্র মোদি।
কংগ্রেসের হাত থেকে কিছুটা ছাড় পেলেও, বিজেপির মিছরির ছুরিতে ফেঁসে গেছে আওয়ামী লীগ। আশঙ্কা হয়, চাইলেও বের হতে দেবে না। পারিকরদের চতুরচক্র যেভাবে এগোচ্ছে, এতে প্রথম ক্যাজুয়ালটি হতে পারে বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশীরা নীরব কেন?
বাবরি মসজিদের সন্ত্রাস, বিজেপির অন্যতম রাজনৈতিক ও আদর্শগত সাফল্য। মন্দির ভাঙলে অনেক কিছু কিন্তু অন্যগুলো ভাঙলে তেমন নয়, বিজেপির অভ্যুত্থানের পর অভিযোগ দেশী সংখ্যাগরিষ্ঠদের। কংগ্রেসের পর এরা আরো বেশি মাত্রায় বিভক্ত করেছে দেশীদেরকে। এখন এ দেশে সরকার সমর্থক না হলেই যেন সন্ত্রাসী। ফলে শুধু দুই দলেই নয়, বিভক্তি কাশ্মির-প্যালেস্টাইনের মতো বললেও অত্যুক্তি হবে না।
আমার অভিজ্ঞতা। সংখ্যালঘু পরিবারে জন্ম হওয়ায় ৬০, ’৭০, ’৮০-এর দশকের অনেক কিছুই খুব কাছ থেকে দেখা। সংখ্যালঘু হ্রাসের ব্যাখ্যাও অন্য রকম। দুর্নীতিবাজ কংগ্রেসের পর, বিজেপির রেডিক্যালিজম বুঝতে কষ্ট না হওয়ার কারণ, ৯/১১ দেখেছি খুব কাছ থেকে, এখন দেখছি সংস্করণগুলো।
’৬০-’৭০-এর দশকেও সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটত। আবার দুষ্টদের বিচারে বসতেন অসাম্প্রদায়িক সংখ্যাগরিষ্ঠরাই। সাম্প্রদায়িকতার বিষয়টি তখন ক্ষণজীবী এবং ভোটের রাজনীতির বাইরে ছিল। তখন যেকোনো ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক ও অভিন্ন জাতীয়তাবাদে আবদ্ধ সবাই। ১৯৬৪-৬৫-এর দাঙ্গা আর যুদ্ধ দেখেছি। কিন্তু চিত্রটা মোটেও এ রকম নয়। বরং সরকারের ঘোষণায় ভারতের সব কিছু নিষিদ্ধ হলে, এইপারের ব্যবসায় এবং সংস্কৃতিতে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। উদাহরণস্বরূপ, তখন এফডিসি থেকে একটার পর একটা কালজয়ী ছবির জন্ম, কিন্তু এখন ভারতীয় চ্যানেলের দাপটে এফডিসির চেহারা পল্টনের মতোই মরা। এসব বলার অর্থ, কোনো বিশেষ দল বা দেশের প্রতি বিদ্বেষ নয়; বরং আঞ্চলিক উগ্রবাদের পোস্টমর্টেম, যার ভুক্তভোগী কোটি কোটি মানুষ।
হিন্দুত্ববাদের অভ্যুত্থানে ৫ জানুয়ারির চেয়েও অধিক অনিশ্চিত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। জনমতকে পুরোপুরি মাইনাস করে একটি দল এবং ব্যক্তির সম্মতিতে চুক্তি করা প্রচণ্ড অস্বাভাবিক। চুক্তি হচ্ছে গোপনে, তা কাউকে দেখানো হয় না। অস্ত্র বিক্রির মতোই, এত চুক্তির কী প্রয়োজন, তাও জানে না কেউ। চুক্তিগুলোতে অশনিসঙ্কেত আছে কি না, অবশ্যই গণভোটে দিয়ে যাচাই করার বাধ্যবাধকতা আছে। জনগণকে বাইরে রেখে এইভাবে চুক্তির দৃষ্টান্ত কোনো গণতান্ত্রিক দেশেই নেই। সুন্দরবনের বিরুদ্ধে, রামপাল প্রকল্পের পক্ষে আওয়ামী লীগের কোনো ব্যাখ্যা ধোপে টিকবে না। কাশ্মির গণহত্যায় ভারতের পক্ষ নিয়েছে ধামাধরার। উপসর্গগুলো ভালো নয়, হচ্ছেটা কী?
এ দিকে আনন্দবাজারিরা বেশ খোলামেলা। যেন ওটাই আমাদের সংবাদপত্র। খবর, নতুন করে আবারো নাকি একগুচ্ছ চুক্তি হতে যাচ্ছে। হঠাৎ সফর পেছাল। তাহলে কি আরো অজানা চমক? আনন্দবাজারিদের খবরে কেউই উদ্বিগ্ন নয়, যদিও পারিকরেরা নাকি স্পর্শকাতর দায়িত্বও চান। সত্যিকার দেশপ্রেম থাকলে কোনো কিছু দিয়েই এসব করানো যেত না।
মোদির অভ্যুত্থানে শঙ্কিত না হলে অন্যদের অভ্যুত্থানে হওয়ার কারণ নেই। ট্রাম্প, বরিস জনসন, নাইজেল ফারাজদের অভ্যুত্থানে শঙ্কিত নই। আমি ওই প্রতিবেশীর কারণে শঙ্কিত, যারা বেড়ার ওপার থেকে অবিভক্ত উপমহাদেশের স্বপ্ন দেখছে। তার চেয়েও অধিক শঙ্কিত, যারা ওইসব উগ্রবাদীকে সমর্থন দিয়ে, দেশের ভিন্নমতাবলম্বীদেরকে সন্ত্রাসী বানিয়ে হত্যা-নির্যাতন করছে।
সুতরাং পশ্চিমাদের কাছে নালিশ বাদ দিয়ে নিজেদের সেইফ এক্সিট খুঁজে বের না করলে, একদিন সার্বভৌমত্বের সর্বনাশ হতে পারে।

ই-মেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫