ঢাকা, সোমবার,২৯ মে ২০১৭

প্রিয়জন

সল্লু পাগলার দেশপ্রেম

এস আর শানু খান

২৪ ডিসেম্বর ২০১৬,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

নদীর তীরে একটা বটগাছ। আর এই গাছের শিকড় ধরে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়ে দেয় লোকটা। মাঝে মধ্যে নদী থেকে হাতে করে পানি এনে গাছের শিকড়ের ওপর দেয়। আবার শিকড়কে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে বুক ভাসায়। দেশের একটা পতাকা নিয়ে বলে বাবা ও বাবা ওঠো। এই নেও তোমার পতাকা। ধরো বাবা ধরো।
লোকটার নাম সল্লু। সবাই তাকে সল্লু পাগলা বলে ডাকে। সব সময় গায়ে একটা ময়লা চাদর থাকে। চুল, দাড়ি কাটে না। মাথায় জটা পাকানো চুল একটা পতাকা দিয়ে বাঁধা। আর একটা ছোট কাঠিতে সব সময় বাঁধা থাকে ছোট একটা পতাকা। সল্লুর বাড়িতে এখন ঘুঘু চরে। তিনকুলে তার কেউ বেঁচে নেই।
সে অনেক দিন আগের কথা। ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাস। চার দিকে যুদ্ধের দামামা। সল্লুর বাবা ছিলেন একজন প্রাইমারি স্কুলমাস্টার। যুদ্ধের সময় তিনি গ্রামের সব লোককে নিয়ে একটা মুক্তিবাহিনী টিম গড়ে ছিলেন। উৎসাহ জোগাতেন যুবকদের হৃদয়ে যুদ্ধের জন্য। এটাই ছিল তার অপরাধ। সল্লুর মা ছিলেন খুব ধার্মিক ও পর্দানশীন মহিলা। গ্রামের মহিলাদের ধর্ম সম্পর্কে জানাতেন। এটাই হলো তার জন্য কাল। এ নিয়ে সল্লুর মায়ের সাথে কিসমত রাজাকারের একটু মনোমালিন্য হয়। সে বলেÑ একটা কথায় আছে না সুখে থাকলে ভূতে কিলায়! তাই হয়ছে তোমাদের স্বামী-স্ত্রীর। গ্রামে তখন মেলেটারির আখড়া বসে। সল্লুর বাবার ওপর নজর পড়ে মিলিটারিদের। একদিন রাতে সল্লুদের বাসায় আসে মিলিটারিরা। সাথে আসে কিসমত রাজাকারও। সল্লুর বাবাকে না পেয়ে অনেক শাসিয়ে যায় সল্লুর মাকে। বলে কাল সকালের মধ্যে ক্যাম্পে গিয়ে দেখা করে আসতে। দেখা না করলে ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এখন একমাত্র সুপারিশ করতে পারে সল্লুর মা। এবারের মতো বেঁচে যেতে পারে মাস্টার। শুধু কথা নয় সল্লুর মাকে কুপ্রস্তাবও দেয়া হয়। সল্লুর মা কিসমতের মুখে থুথু মারে। পরে কিসমত মিলিটারি এনে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে সল্লুর মাকে। সল্লু তখন খুব ছোট ছিল।
লোকমুখে শোনা যায়, পরে সল্লুর বাবাকেও পাকিস্তানিরা এখানে এনে বট গাছের এই শিকড়ে বেঁধে নিদারুণ নির্যাতন করে মেরে ফেলে। পানির জন্য তার বাবা ছটফট করছিল কিন্তু তাকে পানি দেয়নি সেই পশুরা। তাই তো এখানে এসে সল্লু এখনও কেঁদে কেঁদে বুক ভাসায়। নিজের বাবা-মায়ের এমন মৃত্যু দেখে সল্লু মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যায়। হয়ে যায় স্থায়ী পাগল! শালিখা, মাগুরা

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫