ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

প্রিয়জন

প্রি য় জ ন পঙ্ক্তি মা লা

রা জু ই স লা ম

২৪ ডিসেম্বর ২০১৬,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

বিজয়গাথা

কোথাও কোনো শব্দ নেইÑনেই কোলাহল
চার দিকে নিস্তব্ধ নীরবতা। কাকের ডাক,
আর শুধু টুপটাপ শিশিরের পতনধ্বনি
এই জনাকীর্ণ সদ্য ফোটা বাংলার বুকে।
আস্তে আস্তে রোদের গন্ধ আসে ভেসে
সাথে বারুদ আর পোড়া মানুষের গন্ধ।
কী বিভীষিকা ছড়িয়ে পড়ে চার দিকে!
পাখিরা চিৎকার করে তাদের স্বাধীনতা
জানান দেয়। দীর্ঘ হয়েছে লাশের মিছিল।

খানিক পরে মিছিল আসে-বিজয় মিছিল;
উল্লাসে ফেটে পড়ে তামাটে মাটির পৃথিবী।
চার দিকে ধ্বনিত হয়Ñ জয় বাংলার জয়।
দোহার প্রিয়জন
জয়পাড়া, দোহার, ঢাকা

শ ফি কু ল ই স লা ম শ ফি ক
একাত্তরের গান

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ
প্রতি প্রাণে থাকবে গাঁথা
বাংলা মায়ের নকশিকাঁথা
বিশ^ জানে আমরা এখন
নইকো অবরুদ্ধ।
বাংলা মায়ের লাখো ছেলে
অস্ত্র হাতে ধন্য
মুক্তিসেনার গর্ব করি
বাংলা মায়ের জন্য।
বাংলা মায়ের থাকবে হাসি
বীরের জাতি প্রাণের চেয়ে
দেশকে ভালোবাসি
শান্তি বারো মাসি।
বোয়ালিয়া, রাজশাহী

হাসান নাজমুল
তারাই নিঃশেষ হয়ে যায়

একদিন তারাই নিঃশেষ হয়ে যায়
দু’চোখে দেখতে পায় না কিছুই,
অশুভ ধান্দায় আঁধারের সীমানায়
শুধু মৃত্যু ছুঁই ছুঁইÑ
জীবন নিয়েই তাদের চলতে হয়,
তারা ধ্বংসের পথে, মনে নিয়ে ভয়
একদিন ধ্বংস হয়েই যায়,
যারা পবিত্র চরিত্রে কলঙ্ক লাগায়
যারা পিশাচের সাথে করে বাস
তারা শিগগিরই আনে সর্বনাশ,
একদিন তারাই নিঃশেষ হয়ে যায়
তারা মরে গিয়েও হয়তো
কামুকতার কথাই কেবল কয়তো
আর ভুলে যাওয়া স্মৃতিতে হাতড়ায়।
প্রিয়জন ১৬১৬
বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ

জুলফিকার আলী
মায়ের অশ্রু ঝরে

বাজল বাঁশি সবার প্রাণে
বিজয়ের সুর মাখা,
যুদ্ধ জয়ে উড়ায় নিশান
বাংলারই পতাকা।

বুকের তাজা রক্ত ঢেলে
যুদ্ধে সোনার ছেলে,
কিশোর বয়স পার করল
নাহি হেসে খেলে।

বাংলা মায়ের জন্য তারা
জীবন করল দান,
ভাই হারাল কত যে বোন
হারায় মা সন্তান।

খেলার বয়স হয় না খেলা
মায়ের অশ্রু ঝরে,
আমার খোকা যুদ্ধে গিয়ে
আর এলো না ঘরে।

উদাস মনে পথের পানে
চেয়ে আছেন মাতা,
ধর্ষিতা বোন বাঙালিদের
ইতিহাসের পাতা।

লাল-সবুজের বিজয় নিশান
বাংলা আনে জিতে,
হায়েনা দল পালায় শেষে
জয়ের বিপরীতে।


শা হ আ ল ম শে খ শা ন্ত
বিজয় উল্লাসে

পুষ্পবনে মুক্ত মনে ভ্রমর করে খেলা
তেরো শত নদীর বুকে ভাসছে সুখের ভেলা
নাচছে ময়ূর পেখম তুলে গানের পাখি বুলবুলি
দোয়েল নাচে লেজ ছড়ায়ে বিজয়ের সুর তুলি।
গগন পবন জল-ভূতল গাইছে একই গান
বিজয়ের উল্লাসে আজ মুগ্ধ সবার প্রাণ
রক্ত দিলো নবীন-প্রবীণ শোষণ থেকে হলাম স্বাধীনÑ
কণ্ঠ থেকে বেড়ি শিকল ভেঙেচুরে পড়ে এ দিন
বিজয় নামের কুসুমকলি ছড়িয়ে দিলো ঘ্রাণ!
সুখের টেউয়ে ভেসে তরী গাইছে মাঝি গান
একই সুরে বাঁধা যে আজ হিন্দু মুসলমান
সব ভেদাভেদ ভুলে গেছে একই যেন প্রাণ।
এই না সুখে ধরার বুকে খুশির নেই তো শেষ
সুখের হাওয়ায় উড়ছে নারীর মাথার এলো কেশ
ইতিহাসে রক্তে লেখা সোনার বাংলাদেশ।


আহাদ আলী মোল্লা
এই পতাকা

একাত্তরের স্বাধীনতায় এই পতাকা হয় কেনা
গয়নাগাঁটি পয়সাকড়ি কিংবা টাকায় নয় কেনা
এই পতাকা রক্তে কেনা তাতে মায়ের নাম লেখা
লাল-সবুজের মধ্যখানে লাখো শহীদের দাম লেখা।

সেই পতাকা পতপতিয়ে ওড়ে হাওয়ার দোল খেয়ে
নয়টি মাসেই ফেলে পালায় পাক হানাদার ঘোল খেয়ে
সেই কাহিনী ভয়াল-করুণ ধোঁয়া চোখের জল দিয়ে
দামালরা তা জয় করেছে শক্তি সাহস বল দিয়ে।

স্বাধীনতার দিব্যিÑ কছম এই পতাকা ফেলব না
হাতে নিয়ে থাকব সোজা তিল পরিমাণ হেলব না
এই পতাকা তোমার আমার রাখতে হবে মান দিয়ে
শত্রু এলে রুখব সবাই শক্তি সাহস জান দিয়ে।
কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫