ঢাকা, শনিবার,২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

প্রাণি ও উদ্ভিদ

ভূতুড়ে হাঙরের ভিডিও শোরগোল নেট-দুনিয়ায়

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৮ ডিসেম্বর ২০১৬,রবিবার, ১৯:৫৩ | আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬,রবিবার, ২০:০৩


প্রিন্ট

এক ঝলক দেখে ঠাহর করা শক্ত- সে বেঁচে আছে কি মরে গেছে! আসলে চোখদুটো এমনিতেই খুব ফ্যাকাশে, তার উপর আবার পাতার বালাইও নেই! ফলে, রূপ দেখে যদি মৃত বলে মনে হয়, মানুষের আর দোষ কী!
সেই জন্যই চিমেরার নাম রাতারাতি মানুষের জগতে হয়ে যায় ঘোস্ট শার্ক বা ভূতুড়ে হাঙর। ভূত যেমন হাওয়ায় ভেসে বেড়ায়, সেরকমই এই প্রজাতির হাঙরও ভেসে বেড়ায় সাগরের অতলে। প্রাণিবিদরা বলে থাকেন, শুধু চোখই নয়, আকার-আয়তন সব দিক থেকেই প্রাণিটিকে প্রথমবার দেখলে বুকের রক্ত ছলকে উঠবে!
আসলে এর মাথা থেকে ধড়ের সংয়োগরেখা পর্যন্ত অনেকগুলো কাটা কাটা দাগ দেখা যায়। দেখতে অনেকটা সেলাইয়ের দাগের মতো। গায়েও থাকে অদ্ভুত কিছু দাগ। তাছাড়া এদের দাঁত থাকে না। স্রেফ মাড়ির জোরেই খাদ্য চিবিয়ে হজম করে এরা। সবচেয়ে বড় কথা, পুরুষ চিমেরার যৌনাঙ্গ থাকে মাথায়। ইচ্ছে মতো তা বর্জনও করতে পারে এরা!
সব মিলিয়ে এই ভূতুড়ে হাঙর নিয়ে কৌতূহল, জল্পনা-কল্পনা সবই ছিল পুরোদমে। কিন্তু এই প্রথম ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেল তাকে। তা বলে এটা মনে করা যাবে না- সেই ভূতুড়ে হাঙর ঘুরে বেড়াচ্ছিল চোখের সামনে, দেখতে পেয়ে তার চালচলন রেকর্ড করে নেওয়া হয়েছে। তাহলে ব্যাপারটা কী?
জানা গেছে, যে ভিডিও ফুটেজটি এতদিনে লোকসমক্ষে এসেছে, সেটা রেকর্ড করা হয়েছিল ২০০৯ সালে। সেই সময় ক্যালিফোর্নিয়া এবং হাওয়াই সংলগ্ন সাগরজলের গভীরে ডুব দিয়ে প্রাণিবিদরা একটি অভিযান চালাচ্ছিলেন। তখন তাঁরা সাগরের অনেকটা গভীরে গিয়ে নানা কিছু রেকর্ড করেন। পরে সেই রেকর্ডিং ফুটেজ দেখে চমকে ওঠেন নিজেরাই! দেখেন, রেকর্ডিংয়ে ধরা দিয়েছে এক চিমেরা বা ভূতুড়ে হাঙর। আরও চাঞ্চল্যের ব্যাপার, যে চিমেরাটিকে দেখা যাচ্ছে ভিডিওয়, সেটা বেশ বিরল প্রজাতির! খুব সম্ভবত তার নাকের ডগা নীল রঙের!
নিঃসন্দেহে উত্তেজনার ব্যাপার, সন্দেহ নেই! একে তো এই প্রথমবার এক রহস্যময় চিমেরা ধরা দিল ক্যামেরায়, তার উপর আবার দেখা গেল সে নিজের গোত্রেও বিরল! তবে এই অনুমান সঠিক কি না, তা প্রাণিবিদরা এখনই বলতে পারছেন না। হতেই পারে, ওটা সাধারণ এক চিমেরা। কোনও কারণে রেকর্ডিংয়ে তার নাকের ডগায় একটা নীল ছোপ চলে এসেছে!
ফলে আপাতত প্রস্তুতি চলছে সেই ভূতুড়ে হাঙরকে কয়েদ করার! সেটাও খুব একটা সহজ কাজ নয়। প্রথমে তাকে খুঁজে বের করতে হবে। তার পরে রয়েছে কয়েদ-পর্ব। এই হাঙর আয়তনে যেরকম বিশাল ও চলাফেরায় ক্ষিপ্র, তাতে তাকে কয়েদ করাটা বেশ মুশকিলের কাজ!
তবে অসম্ভবও কিছু নয়! ফলে পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এগোনোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন প্রাণিবিদরা!

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫