ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

রকমারি

ফুল চাষ এখন লাভজনক

শওকত আলী রতন

১৭ ডিসেম্বর ২০১৬,শনিবার, ১৭:৪৬


প্রিন্ট

বর্তমানে আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করা হয়। স্থানীয়ভাবে ফুলের চাহিদা থাকায় দিন দিন ফুল চাষের বাজার সম্প্রসারণ হচ্ছে; সেই সাথে এ কাজে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশে যেসব অঞ্চল এরই মধ্যে ফুল চাষে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে, এর মধ্যে মানিকগঞ্জ জেলা অন্যতম। রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী হওয়ায় এবং যোগাযোগব্যবস্থা ভালো থাকায় মানিকগঞ্জের ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
এ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হয়ে থাকে সবচেয়ে বেশি। লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই ফুল চাষের দিকে ঝুঁকছেন এ অঞ্চলের কৃষক। সিঙ্গাইর উপজেলার ধল্লা, জয়মণ্ডপ, মানিকনগর, তালেবপুর, নিলটেক, জাইল্যা- এসব এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন জাতের ফুলের চাষ হয়ে আসছে। এসব ফুলের মধ্যে রয়েছে দেশী আবার কোনোটি বিদেশী প্রজাতির ফুল। গোলাপ, জিপসি, দোলনচাঁপা, গ্যালারি, রজনীগন্ধা, গাঁদা, জারবারা ও ক্যারন ভেলি অন্যতম। এ ছাড়া আরো অন্যান্য প্রজাতির ফুল চাষ করা হয়ে থাকে। তবে যেসব ফুল অধিক লাভজনক, এখানকার কৃষকদের সেই ফুলের দিকে আগ্রহ বাড়ছে। উৎসবভেদে একেক সময় একেক রকম ফুলের চাহিদা রয়েছে বলে জানা যায়।
সারা বছরই মানিকগঞ্জে ফুলের চাষ হয়ে থাকে; তবে নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ফুলের চাহিদা থাকায় ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই এ সময় অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেন কৃষকেরা। বর্ষা মওসুমের পর পরই জমি চাষের উপযোগী করার জন্য এবং চারা তৈরির জন্য দিন-রাত শ্রম দিয়ে জমি তৈরি করে থাকেন। সিঙ্গাইর উপজেলার ধল্লা গ্রামের মো: চান মিয়া ২০ বছর আগে মাত্র ২০ শতাংশ জমিতে প্রাথমিকভাবে গোলাপ ফুলের চাষ শুরু করেন। ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় ধীরে ধীরে জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করেন। বর্তমানে চান মিয়া ২২ বিঘা জমিতে গোলাপি, লাল, সাদা ও নীল রঙের গোলাপসহ রজনীগন্ধা ফুলের চাষ করছেন। জানা যায়, এক বিঘা জমিতে গোলাপ চাষ করার জন্য জমি উপযোগী করতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এরপর প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক ও গাছের পরিচর্যা করলে সারা বছরই নিয়মিতভাবে গাছ থেকে ফুল তোলা যায়। উৎপাদিত ৩০০ ফুল নিয়ে একটি বান্ডেল তৈরি করা হয়। বাগান থেকে প্রতিদিন ৩৫-৪০ বান্ডেল ফুল বিক্রি করতে পারেন। এ বিষয়ে কথা হয় চান মিয়ার ছোট ভাই সোহাগের সাথে। তিনি জানান, ফুল ঝুঁকিমুক্ত ও অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসায়। নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করতে পারলে ভালো মুনাফা পাওয়া যায়। তিনি জানান, সরকার যদি ফুলচাষিদের সুদমুক্ত ঋণ দেয়ার সুযোগ করে দেয়, তাহলে অনেক বেকার যুবক এ পেশায় এগিয়ে আসবেন। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, গাছ ও ফুলের বিভিন্ন সময় সমস্যা নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে গেলে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। তারা নিজেরাই তাদের পূর্বাভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ফুল চাষ করছেন।
সিঙ্গাইর উপজেলার জয়মণ্ডপ ইউনিয়নের হাটখোলা গ্রামের ফখরুল ইসলাম মিঠু তার বড় ভাইয়ের ফুলের বাগান দেখাশোনা করতেন। এরপর তিনি নিজেই এ পেশার সাথে যুক্ত হন। তিনি বর্তমানে ২০ বিঘা জমিতে দোলনচাঁপা ফুলের চাষ করছেন। দোলনচাঁপা গাছ দেখতে অনেকটা ভুট্টাগাছের মতো। সারা বছরই এই দোলনচাঁপার চাষ হয়ে থাকে। সারা দেশের মধ্যে ফখরুল ইসলাম মিঠু চোলনচাঁপা ফুলের সবচেয়ে বেশি আবাদ করে থাকেন। তিনি জানান, ব্যয় বাদ দিলে প্রতি বিঘা জমিতে তার প্রতি মাসে কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা লাভ থাকে। ফুলের বাজার ভালো থাকলে কখনো কখনো এ লাভ দ্বিগুণ মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। ফুল চাষ করে আর্থিকভাবে অনেক ভালো আছেন বলে তিনি জানান। মানিকগঞ্জের কৃষকদের উৎপাদিত ফুল বিক্রির জন্য ঢাকার আগারগাঁওয়ে নিয়ে যান। প্রতিদিন বিকেলে বাগান থেকে ফুল তুলে পরের দিন খুব ভোরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে চলে ১০টা পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এই হাটে আসেন বিধায় ভালো দাম পান ফুলচাষিরা। এটি একটি প্রসিদ্ধ হাট বলে জানান মানিকগঞ্জের ফুলচাষিরা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫