ঢাকা, সোমবার,২৯ মে ২০১৭

ভ্রমণ

যেতে পারেন খৈয়াছড়া ঝরনায়

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

১৭ ডিসেম্বর ২০১৬,শনিবার, ১৭:৩৯


প্রিন্ট

আকার-আকৃতি ও গঠনশৈলীর দিক দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝরনাগুলোর একটি মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া। এর মোট ৯টি মূল ধাপ এবং অনেক বিচ্ছিন্ন ধাপ প্রমাণ করে যে এমন আরেকটা ঝরনাও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে দেশের ভ্রমণপিয়াসী মানুষ। অনেকে রাতে চাঁদের আলোয় ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পাহাড়ের পাদদেশে তাঁবু টাঙ্গিয়ে অবস্থান করছেন। প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি সেতুবন্ধন করে, সবুজের চাদরে ঢাকা বনানী রূপের আগুন ঝরায়, যেখানে প্রকৃতি খেলা করে আপন মনে, ঝুম ঝুম শব্দে বয়ে চলা ঝরনাধারায় গা ভিজিয়ে মানুষ যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ থেকে নিজেকে ধুয়ে সজীব করে তুলছে খৈয়াছড়া ঝরনায়।

খৈয়াছড়া ঝরনা

খৈয়াছড়া এলাকার পাহাড়ে অবস্থান বলে এর নামকরণ করা হয়েছে খৈয়াছড়া ঝরনা। মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া বাজারের উত্তর পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪.২ কিলোমিটার পূর্বে ঝরনার অবস্থান। এর মধ্যে এক কিলোমিটার পথ গাড়িতে যাওয়ার পর বাকি পথ যেতে হবে হেঁটে। বাঁশের সাঁকো, ক্ষেতের আইল, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, ছড়া, অন্তত চারটি পাহাড় পেরিয়ে যখন ঝর্ণার স্বচ্ছ জলে যখন গা ভিজাবেন, তখন মনে হবে পথের এই দূরত্ব খুব সামান্য।
টলটলে শান্ত পানির চুপচাপ বয়ে চলার ধরনই বলে দেবে এর উৎস অবশ্যই বিশাল কিছু থেকে। স্থানীয় লোকদের বাড়ি ও ক্ষেতের আইলের পাশে বেড়ে উঠেছে আম, নারিকেল আর পেঁপের বাগান। এরপর শুধু ঝিরিপথ ধরে এগিয়ে যাওয়া। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবিষ্কার করবেন লাল আর নীল রঙের ফড়িংয়ের মিছিল! যত দূর পর্যন্ত ঝিরিপথ গেছে তত দূর পর্যন্ত তাদের মনমাতানো ঝিঁঝি পোকার গুঞ্জন শোনা যায়। হাঁটতে হাঁটতেই শুনতে পাওয়া যায় পানি পড়ার শব্দ। চার পাশে মন ভালো করে দেয়া সবুজ দোল খাচ্ছে ফড়িংয়ের পাখায়। মাঝে মাঝে এখানে শোনা যায় হরিণের ডাক। যেতে যেতে পরিচয় হবে বুনো অর্কিড, পাথরে লেগে থাকা প্রায় অদৃশ্য সবুজ শেওলা, অচেনা পাখিদের ডাক, ঘাসের কার্পেট বিছানো উপত্যকার সাথে। কিছুদূর হেঁটে একটা মোড় ঘুরলেই চোখের সামনে নিজের বিশালতা নিয়ে হাজির হবে খৈয়াছড়া ঝর্ণা। অনেক ওপর থেকে একটানা পানি পড়ছে।
ওপরের ওঠার পর এর সৌন্দর্য আপনার সমস্ত কষ্ট ভুলিয়ে দিবে। ওপরে উঠলে দেখা মিলবে আরো একটি ধাপের। এর বাম পাশ দিয়ে সামান্য হাঁটলেই দেখা মিলবে অপর তিনটি ধাপের। এতেও যদি আপনার মন না ভরে তাহলে এই তিনটি ধাপের পাশ দিয়ে পাহাড় বেয়ে উঠে যান আরো ওপরে, সেখানে আশপাশের বহুদূর বিস্তত পাহাড় আর জঙ্গলের অপূর্ব দৃশ্য কিছুক্ষণের জন্য হলেও আপনাকে ভুলিয়ে দেবে আপনার পরিশ্রম আর নিরাপদে নিচে ফিরে যাওয়ার ভাবনার কথা।

কিভাবে যাবেন : ঢাকার যেকোনো বাস কাউন্টার থেকে চট্টগ্রামগামী বাসে উঠবেন। যাওয়ার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই পৌরসদর পার হয়ে বড়তাকিয়া বাজারের আগে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে নামবেন। ঢাকার ফকিরাপুল, সায়দাবাদ থেকে সোহাগ পরিবহন, গ্রিন লাইন পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, টিআর ট্রাভেলসের বাস যায় চট্টগ্রাম। এ ছাড়া শ্যামলী, হানিফ, সৌদিয়া, ইউনিক, এস আলম ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাসও চলে এ পথে।

থাকবেন কোথায় : বড়তাকিয়া বাজারে থাকার কোনো হোটেল নেই। কিন্তু আপনি চাইলে স্থানীয় চেয়ারম্যানের বাংলোয় উঠতে পারেন। মিরসরাই-সীতাকুণ্ডে খুব বেশি ভালো থাকা ও খাবার হোটেল না থাকলেও চট্টগ্রাম শহরের শুরুতে একেখান মোড়ে থাকার জন্য রয়েছে ‘মায়ামী রিসোর্ট’ ও খাবারের জন্য রয়েছে কুটুম্ববাড়ি রেস্তোরাঁ। বড়তাকিয়া থেকে যেকোনো গাড়িতে ৪০-৪৫ মিনিটে আপনি পৌঁছতে পারবেন।

গাইডের জন্য যোগাযোগ : খৈয়াছড়া ঝর্ণার যাওয়ার পথে পাহাড়ের পাদদেশে দেখা মিলবে অসংখ্য গাইডের। ৩০০-৪০০ টাকায় পর্যটকদের ঝর্ণা পর্যন্ত গাইড করবে তারা। অন্তত ৩০ জন যুবক নিয়মিত সহযোগিতা করছেন পর্যটকদের। তারেক ০১৮৩২৫৮৬৭৬৭, সোহেল ০১৮৫২৪৮৩৯৯০।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫