আবার ইয়াহুর শতকোটি গ্রাহকের তথ্য চুরি!

সম্প্রতি দ্বিতীয় বড় সাইবার হামলার শিকার হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ইয়াহু। গত বুধবার নতুন এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইয়াহু কর্তৃপক্ষ। ২০১৩ সালের আগস্টে তাদের ১০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী সাইবার হামলার শিকার হন। ২০১৪ সালে প্রায় ৫০ কোটি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট সাইবার হামলার শিকার হয়েছিল। ওই ঘটনায় আক্রান্ত ব্যবহারকারীর চেয়ে এবারের সংখ্যা দ্বিগুণ। সাইবার হামলার ইতিহাসে এটি একটি অন্যতম বড় ঘটনা। বিবৃতিতে আগের দুই সাইবার হামলার ঘটনাকে পৃথক বলে অভিহিত করেছে ইয়াহু। সান দিয়াগোভিত্তিক আইবস সাইবার সিকিউরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পল মার্টিনি বলেন, প্রত্যেক ইয়াহু ব্যবহারকারীর জন্য এটি আরো একটি খারাপ সংবাদ। পরপর বড় দুই সাইবার হামলার ঘটনা ব্যবহারকারীর মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিপুলসংখ্যক ইয়াহু ব্যবহারকারী নিশ্চিত যে দুই থেকে তিনবার তাদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে ইয়াহুর সুনাম ধরে রাখাটাই এক প্রকার অনিশ্চিতের মধ্যে পড়েছে। 
ইয়াহুর সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, দুই বছর আগে এর নেটওয়ার্কে হামলা করে সাইবার অপরাধীরা। ওই সময় তারা ৫০ কোটির বেশি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়। হাতিয়ে নেয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর নাম, ই-মেইল অ্যাড্রেস, জন্মতারিখ, টেলিফোন নম্বর ও এনক্রিপটেড পাসওয়ার্ড।
মার্কিন ইন্টারনেট ও ওয়্যারলেস টেলিযোগাযোগ কোম্পানি ভেরাইজন কমিউনিকেশন্সের কাছে মূল ওয়েব ব্যবসা বিক্রিতে সম্মত হয়েছে ইয়াহু। এ জন্য ভেরাইজনকে বিনিয়োগ করতে হচ্ছে ৪৮০ কোটি ডলার। গত বুধবার প্রকাশিত সাইবার হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা এ অধিগ্রহণকে ব্যাহত করবে। কয়েক বছর আগের ধারাবাহিক ও বড় দুই সাইবার হামলার ঘটনার কারণে এ অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে হ্যাকাররা ২৮ কোটি ইয়াহু ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড বিক্রির চেষ্টা করলে এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। এর পরই বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা। তবে তদন্তকারীরা প্রতিষ্ঠানটির দাবির বিপরীতে কোনো আলামত খুঁজে পায়নি। ৯ সেপ্টেম্বর ভেরাইজন চুক্তি-সম্পর্কিত এক প্রক্সি ফাইলিংয়ে বলা হয়, ব্যবহারকারীর তথ্যের ‘নিরাপত্তা ভঙ্গ’ অথবা ‘লোকসান, চুরি, অননুমোদিত অধিগ্রহণ’ সম্পর্কে অবগত ছিল না ইয়াহু। গত বুধবার ইয়াহু ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড ‘রিসেট’ করতে বলা হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.