জিয়াউর রহমান আদর্শিক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না : মোজাম্মেল হক

সংসদ প্রতিবেদক

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অবস্থার প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, আদর্শের ভিত্তিতে নয়। তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন আদর্শিক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। মেজর জিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সংসদে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মেজর জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন সেক্টর কমান্ডার ও পরে জেড ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন। তবে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথা মুজিবনগর সরকারের অধীনে যুদ্ধ না করে ওয়্যার কাউন্সিল গঠন করে মুক্তিযুদ্ধ করার প্রস্তাব করায় যুদ্ধকালীন প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানী তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করে পুনরায় সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খুনি খন্দকার মোশতাকের দোসর হিসেবে জিয়া পাকিস্তানের সাথে লস কনফেডারেশন গঠনের চক্রান্তে জড়িত ছিলেন।

মোজাম্মেল হক বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দূতাবাসে চাকরি দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার বন্ধ করার জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ আইনসভা অনুমোদন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী, যুদ্ধাপরাধী আব্দুল আলীমসহ স্বাধীনতা বিরোধীদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চালু করে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন আদর্শিক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না।

মন্ত্রী বলেন, পাক-হানাদার বাহিনীর সমর্থক ছিলেন বলেই ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে সোয়াত জাহাজ থেকে পাকিস্তানি সমরাস্ত্র খালাস করতে উদ্যোগী ছিলেন জিয়া।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.