ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

সংবিধানের শেষ রক্ষা বনাম অদৃশ্য মানব

মিনা ফারাহ

০৬ ডিসেম্বর ২০১৬,মঙ্গলবার, ১৮:৪৮


মিনা ফারাহ

মিনা ফারাহ

প্রিন্ট

গরুর কোনো সংবিধান লাগে না
সর্বোচ্চ ৮০ বছরের মানবজীবনের প্রায় ৩৫ ভাগই ঘুমিয়ে কাটে। এসেই চলে যায় যৌবন। জেঁকে ধরে মধ্যবয়সের সঙ্কট। যত্নে পোষা শারীরিক সম্পদগুলো হয়ে ওঠে মৃত্যুর কারণ। ডাক্তার, কোর্ট, পারিবারিক যন্ত্রণা... কালো কেশের শ্বেতবর্ণ ধারণ। বোঝার আগেই কোয়ালিটি অব লাইফ- ডেড।
অন্য দিকে, বন্যপ্রাণীরা শান্তিতে। ২০০০ বছর আগে ও পরে গরুর জীবন পরিবর্তনহীন। ভোটাভুটির বালাই নেই। যত দিন বাঁচে কোয়ালিটি অব লাইফ, শতভাগ। আর কচ্ছপ হয়ে জন্মালে আনন্দের সীমা নেই। ডাক্তারের সাহায্য ছাড়াই ৪০০ বছর আয়ু। মানুষই একমাত্র প্রাণী, জন্ম থেকেই যারা অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতে অক্ষম। এরই অন্যতম, সংবিধান।
আইনস্টাইন, ‘যদি এক কাজ বারবার করো, প্রতিবারই একই ফল পাবে।’ আমার মতো অনেকেই জেমস জয়েসের ‘ইউলিসিস’ কিংবা সেক্সপিয়ারের ‘হ্যামলেট’ হজম করতে অক্ষম। আবার অনেকেরই মুখস্থ। মানুষের চিন্তাশক্তির কাছে পরাজিত বন্যপ্রাণী। প্রশ্ন, সংবিধানের শেষ রক্ষা হবে কি না!
যারা বাম আদর্শ বোঝেন, জানেন, ৭৪-৭৫ এর মার্কসিস্ট, মাওইস্টরাও বর্তমান সংসদে ঢুকলেন কিভাবে! মৌলিকত্ব হারিয়ে সংবিধানটি এখন ডান-বামদের কাঠগড়ায় প্রায় অস্তিত্বহীন। ১৫তম সংশোধনী এনে ৫ জানুয়ারিতে যা করা হলো, কচ্ছপ হয়ে বাঁচাই উত্তম। পক্ষে না গেলে মানবাধিকারের প্রতিটি রিপোর্টের বিরুদ্ধেই অবস্থান বামবিলাসীদের। কাজটি খুব কঠিন হলেও কথিত কমরেড হওয়ার হাত থেকে সংবিধানকে শেষ রক্ষা করতেই বৈশ্বিক আলোচনা করব।
১/১১ এর আবহাওয়া আবারো উত্তপ্ত করার চেষ্টায় লিপ্ত সংবিধানবিরোধীদের সংখ্যা উদ্বেগজনক। অশুভ বামচিন্তা ঘিরে ফেলেছে। পত্রিকায় শুভ্রকেশী প্রবীণ ব্যারিস্টারের ভবিষ্যদ্বাণী, অমুকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তমুকে প্রধানমন্ত্রী হবেন। অর্থাৎ সংবিধান ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন। দেশজুড়েই অস্বাভাবিক আবহাওয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসে। তবে কি ৫ জানুয়ারির চেয়েও ভয়াবহ কিছু ঘটানোর চেষ্টা চলছে আগামী নির্বাচনগুলোতে? সফল হলে ভিন্নমত নিশ্চিহ্নহ্ন। মার্কিন নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশীদের সর্বোচ্চ আগ্রহের পর, আমাদের সংবিধানের শেষ রক্ষায় করণীয় কী?

সংখ্যালঘু খিজির খানের সংবিধান শোডাউন
লাইভ টিভিতে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ, আপনার যদি না থাকে আমার কপিটা নিন। সংবিধান আমি পড়েছি, আপনি পড়েছেন? আমার সন্তান এই দেশের জন্য রক্ত দিয়েছে। সংবিধানের স্বাধীনতা কেন অক্ষত রাখতে হবে, হিলারির মঞ্চ থেকে মিলিয়ন ডলারের বার্তাটি পাকিস্তানি ইমিগ্রান্ট- খিজির খানের। প্রমাণ করলেন, সংবিধানই সর্বোচ্চ শক্তি। অন্যথায় নানা কারণে, উন্নত বিশ্বে থাকাটা বিশেষ শ্রেণীর মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব।
সংখ্যায় এবং নির্বাচনে, আমেরিকাতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে কোটি কোটি সংখ্যালঘু। ৩৬ বছর প্রবাসে আমিও দুই গোলার্ধেই আজীবন সংখ্যালঘু, যে পরিচয় আমাকে সারাজীবন উজ্জীবিত করেছে। কৈশোরের অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর। কথায় কথায় দাঙ্গা। একজন গরুকে পূজা করে, অন্যজন পশুর ঠ্যাং ছুড়ে মারে। ‘৩৬ বছর পর আরো অবনতির কারণ, বামবিলাসীদের সংবিধান ঘৃণা।’ ৪৭ সনের ৩৭ ভাগ, ৭১ এ কমে ২২। ২০১৬ সালে সাড়ে ৮ ভাগ, হেঁটে আসেনি। এটা সাম্প্রদায়িক অসম্প্রীতির চরম দৃষ্টান্ত। পশ্চিমা দেশগুলোতে তৃতীয় বিশ্ব থেকে দেশত্যাগীদের সংখ্যা ধুমিয়ে বাড়ার কারণ জানে ভুয়া পশ্চিমবিরোধীরা। রাজনীতিতে এমন অশুভ প্রভাবের বিরুদ্ধে বারবারই সতর্ক করছি। বিষয়টির ওপর অনেক বেশি আলোকপাতের প্রয়োজন।
যারাই অসাংবিধানিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রী বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত, খিজির খানের বক্তব্য ওই সব অপশক্তির বিরুদ্ধে। মানুষের চিন্তাচেতনা হবে বহুমাত্রিক। অবশ্যই সাম্রাজ্যবাদী ওয়াশিংটনের সমালোচনা করব কিন্তু সত্যও লিখব। হয়তো বলবে, বাংলাদেশে পুঁজিবাদ নেই? এর উত্তর, চীন-রাশিয়া-ভিয়েতনাম...। ’৭২ সনে নিক্সন যা পেরেছিলেন চীনে, ৬০ বছরেও কিউবাতে পারেনি ওয়াশিংটন। তবে চীনের সংবিধান থেকে মাও-লেলিনের ভূত কখনোই তাড়াতে পারেনি বলেই, দেশে দেশে ক্যাস্ট্রো। ওদের দেশে কোনো কিছুতেই ভিন্নমতের অধিকার নেই। জানি, চীন-রাশিয়া পুঁজিবাজারের দ্বিতীয় চাকা। কিন্তু কিউবানদের জীবন এখনো রেশনের দোকানে সীমাবদ্ধ।
দেশে হয়তো এমন একজন পশ্চিমাবিরোধী শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, কমিউনিস্ট খুঁজে পাওয়া কঠিন, আমেরিকাতে যারা আসেনি, কিংবা সন্তানদের পশ্চিমে রাখেনি। পছন্দের তালিকায় হার্ভার্ড, বেতনের তালিকায় ডলার। বাংলাদেশী ডান-বামদের নৈতিক কম্পাসটি বোঝার সাধ্য নেই। তবে তৃতীয় বিশ্বের দেশত্যাগীদের ১ নম্বরে কেন বাংলাদেশ, এটা মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। শাসক হয়েও সন্তানদের দেশে রাখেন না।
শ্বেতাঙ্গ খ্রিষ্টানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় নানা কারণে তারাও কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতো অসহিষ্ণু হতে পারত। এখানে এসেই সংবিধানের বাধ্যবাধকতা। এই কারণেই আকাশ-পাতাল পার্থক্য সত্ত্বেও সাদা-কালোরা আমাদের মতো সাম্প্রদায়িক নয়। অথচ ধর্ম বাদে পাক-ভারত উপমহাদেশের সংখ্যালঘুদের সবকিছুই এক হওয়া সত্ত্বেও, ৭০ বছরেও কমেনি অসহিষ্ণুতা। কথায় কথায় পশ্চিমের উদাহরণ। কিন্তু এদের সংবিধান থেকে কিছুই শিখল না। খিজির খানের ঘটনা পাকিস্তানে ঘটলে পরের দিনই রাস্তায় লাশ পড়ত।

সত্যের সন্ধানে
আমাদের সমস্যা, চোখ-কান বন্ধ রেখে যা খুশি করব। পশ্চিমাবিরোধী সেøাগান দিয়ে জনপ্রিয় হবো। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে রক্তাক্ত-দীর্ঘ দেয়াল, কিন্তু দেশী সমালোচকদের চোখ, ট্রাম্পের দেয়ালের দিকে।
অনেকেই জানে না, কিউবা-মেক্সিকোর বর্ডারে প্রতিদিনই তৃতীয় বিশ্ব থেকে আসা মানুষের ঢলে থাকে বাংলাদেশীরাও। একনায়কেরাই ভূমধ্যসাগর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ভয়াবহ মানবদুর্যোগের জন্য দায়ী। মানবজমিন ডিসেম্বর ১৫, ‘বিয়ের বয়সেই অধিকাংশ প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হচ্ছে।’ কোনো রকমে কিউবা-মেক্সিকোতে পৌঁছালে, আমেরিকার মুক্ত জীবন। ৫ জানুয়ারির ঘটনার পর, ভিন্নমতের দেশত্যাগীদের সংখ্যা কত? ওই দিন সংবিধানকে খুন করেছে বামবিলাসীরা। কেনেডি, বুশ, ক্লিন্টন ডাইনেস্টিকে যারাই অবসরে পাঠাল, অনেক ভোটারই বাংলাদেশী। সংবিধান অক্ষত থাকলে, ভোটের শক্তিই যথেষ্ট।

সংবিধানকে ‘কমরেড’ বানানো যাবে না
ফাউন্ডিং ফাদাররা যা লিখেছেন, আড়াই শ’ বছর পরেও অক্ষত। ক্যাপিটল হিলের একটি সংশোধনীও ব্যক্তি স্বার্থে নয়, বরং তৃতীয় বিশ্বের জন্য বারবার ইমিগ্রেশন আইন রিফর্ম করে কোটা বাড়িয়েছেন শ্বেতাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ আইন প্রণেতারাই। সর্বশেষ রিফর্ম ১৯৮৬-এর পর থেকেই। এদিকে বৈধ-অবৈধরা স্রোতের মতো ঢুকছে।
হেগেল, মার্কসবাদ, লেলিনবাদ, সামাজিক গণতন্ত্র ইত্যাদি পড়েছি বলেই জানি, সংবিধানের স্বাধীনতা বিকল্পহীন। তবে ’৭২-এর সংবিধানের শুরুতেই হোঁচট। একাধিক কমিউনিনিস্ট দেশ তখন থেকেই প্রভাব খাটানোর ফলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি তুঙ্গে, গণতন্ত্রের মুখোশ পরিয়ে যাকে মানবিক বানানোর চেষ্টা। এদের পৃষ্ঠপোষকতায় রুশ-চীনপন্থীরা বারবারই সংবিধানের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে মৌলিকত্ব নষ্ট করেছে। এই কারণেই মানবাধিকার লাটে উঠেছে। আমেরিকার তুলনা এই জন্যই, গ্লোবাল-বিশ্ব এখন কম্পিউটারে বন্দী (কিউবাতে অবশ্য ইন্টারনেট নিষিদ্ধ)। প্রবাসীদের মাধ্যমেই আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের নৈকট্য। রাজনীতিবিদরাও আমেরিকার নেতিবাচক উদাহরণই পছন্দ করেন। যা হোক, বাস্তব যে, ৪৫ বছরের ৮৫ ভাগ সংশোধনীই ব্যক্তিস্বার্থে। বৈশ্বিক রাজনীতির ক্যামেরায়, বাংলাদেশের সংবিধানের অবস্থা খুব নাজুক। চীন-রাশিয়ার আদর্শ ঠেকাতে ন্যূনতম উদ্যোগ নেই। ডান-বামের দোলনায় দুলছে বাংলাদেশ।
চতুর্থ সংশোধনী দিয়ে শুরু। পঞ্চম সংশোধনীতে নোংরা সাফ করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা। কিন্তু এরশাদ এসেই ভর করলেন ধর্মের ওপর। তার ধারণা, ধর্মের আশ্রয় নিলেই ভোটাররা আজীবন ক্ষমতায় রাখবে। ১৩ আর ১৫তম সংশোধনীর কারণ, ক্ষমতার চামড়া নিয়ে টানাটানি। এইভাবেই ঢুকেছে সামরিক, আধাসামরিক, জরুরি, ধর্ম, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের তালিকা ধরে সংশোধনী। কোনো গণতান্ত্রিক দেশেই এভাবে কাঁচি চালানোর দৃষ্টান্ত নেই।
বিচারক অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফেরানোর আলোচনা। ৭৪ সনে আদালতের হাতে দিলেও এই সংসদ ভাবছে, ১৫তম সংশোধনীর পরেও চীন-রাশিয়ার মতো মোটা হয়নি ক্ষমতা।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এবার ফোনকলের রচনা। খালেদাকে করা ফোনকলটিকে নিয়ে, দুই গোলার্ধের গণতন্ত্রের একটি চমৎকার উদাহরণ দিচ্ছি। ট্রাম্পবিরোধী শিবিরের নেতা রমনির গল্প বাংলাদেশীরা জানে। অথচ তাকেই মন্ত্রী বানাতে আলোচনায় বসেছেন ট্রাম্প। আবার ডেমোক্র্যাটদেরও বড় পদে। কিন্তু একটি ফোনকলকে দুটি বানাতে পারেননি চার বছরেও। লাইন পেতে পাঁচ সেকেন্ড লাগলেও, সদিচ্ছার সময়সীমা আকাশ-পাতাল। এই জন্যই ট্রাম্প-রমনি এক টেবিলে; কিন্তু খালেদা-হাসিনা দুই গ্রহে বসে, চার বছরেও টেলিযোগাযোগটি করতে পারছেন না। তথ্য-প্রযুক্তি এখানে ফেল। একবিংশ শতাব্দীতেও কার্টুন আঁকলেই গ্রেফতার? ডান নাকি বাম, কোন গ্রহে বাংলাদেশ? উন্নতির সেøাগান বজায় রেখে তলে তলে আরো বেশি বাম আদর্শকে ঢুকিয়ে দিচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। কিউবানদের মতো উত্তাপ সইতে গিয়ে ছাই হয়েছে মানুষেরানুভূতি। তবে একনায়কত্ব নিয়ে লুকোচুরি না করার জন্য কমরেড ফিডেলকে ধন্যবাদ।

সত্য বলুন
নির্বাচন ছাড়াই বছরের পর বছর ক্ষমতায় থাকার দৃষ্টান্ত বহু। নির্বাচনের নামে লোকদেখানো ভোটাভুটির দৃষ্টান্তও বহু। হিলারির ২০ লাখ ভোট বেশি পাওয়ার খবরে অতি উৎসাহীদের বলছি, ৫ জানুয়ারিতে তো ভোটই হয়নি, তাই গুনবেন কি? ভোট চ্যালেঞ্জ দূরে থাক, চার বছরেও একটি ফোনকলকে দুটি বানাতে পারেননি। মুখে সংবিধান, কাজে ৫ জানুয়ারির ভোটকেন্দ্রে কুকুর-বেড়ালের বিচরণ এখনো ইউটিউবে (তবে এই পশুদের হাতে ভোটারকার্ড ছিল না)। সত্য লিখুন।
ছোট্ট জীবনকে অর্থবহ দেখতে হলে অশুভ আদর্শ থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। মাও, লেনিন, স্টালিন... রোগের নাম, শতাব্দী ধরে যাদের হাতে খুন হয়েছে কোটি কোটি মানুষ।
প্রেসফ্রিডম নিয়ে ক্যাস্ট্রোকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে উত্তর, কেন? আপনি কি কথা বলছেন না? ‘কমরেড’ বিষয়ে কিছু পড়েছি বলেই অভিনব অনুধাবন। ’৭৩ সালে আলজেরিয়ার ‘ন্যাম সম্মেলনে’ মুজিবের সঙ্গে দেখা না হলে হয়তো সংবিধানের শেষ রক্ষা হতো। হয়তো পার্শ্ববর্তী দেশের মতোই গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা বদল হতো।
দুই দেশের সংবিধান গভীর পর্যবেক্ষণ করে, আদর্শ এবং সংবিধানে মার্কসিস্ট, লেনিনিস্ট-এর যোগাযোগ আবিষ্কার। ৭৫এর সংবিধানটি আলোচনায় থাকলে হয়তো এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। ওয়ানপার্টি ডিক্টেটরশিপে বিশ্বাসী ফিদেল এভাবেই ৬০ বছর ক্ষমতায়। ’৭৩-এর ওই সম্মেলনের কিছু দিন পরেই একদল-একনেতা-এক কণ্ঠের আবির্ভাবে হতবাক বাংলাদেশীরা। কিউবার মতোই চারটি বাদে সব পত্রিকা নিষিদ্ধ। ’৭৫-এর জুনে অবসান হলো ৭২ এর সংবিধানের। তবে বাকশাল গ্রহণ করেনি সদ্য স্বাধীন মানুষ।
ক্যাস্ট্রোর উপদেশ- বিপ্লবী, প্রতি-বিপ্লবীদের ধ্বংস করে নিজের বলয় সৃষ্টি না করলে দেশ শাসন অসম্ভব। ’৭৪-৭৫এ গণহত্যা এবং পাল্টা হত্যার ইতিহাস। ৪০ বছর পরেও সরকারের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বাম। ক্যাস্ট্রো হয়তো জানতেন না, যুদ্ধ করে দুই দেশ স্বাধীন হলেও দুই নেতার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। মুজিব যুদ্ধের সময়ে দেশে না থাকলেও মুখোমুখি যুদ্ধ করেছেন ফিদেল। ক্যাস্ট্রোকে কতবার হত্যা করতে চেয়েছিল সেটা নয়, বরং কেন চেয়েছিল সেটাই আলোচনা।
ক্যাস্ট্রোর মৃত্যুতে প্রবাসী কিউবানদের উল্লাস চলছে। এদের মর্মান্তিক জীবন যারা জানে না তারাই গুজব ছড়ায়। ওয়ানপার্টি স্টেটের কারণেই কিউবান পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন, সক্রিয় ফায়ারিং স্কোয়াড, দুর্ভিক্ষ, নৈরাজ্য, দেশত্যাগের ঢল। ১১ জন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অতিক্রম। বাড়ি নেই, তবে খামারের প্রকল্প সেখানেও। কয়টা বাল্ব জ্বালাবে নির্ধারণ করে স্টেট। আমাদেরও শোনানো হয় সুইচ বন্ধের নিয়মকানুন। ব্যারিস্টার রফিকুল হকেরা কী চাইছেন, বোধগম্য নয়।

অদৃশ্য মানব
কালো চামড়ার জন্য লেখককে ‘অদৃশ্য মানব’ ভাবার অভিযোগ, রালফ এলিসনের কালোজয়ী উপন্যাসে। ‘আমাকে একজন অদৃশ্য মানব ভাবার অভিযোগ। আমার শরীরে বস্তু আছে, যা মাংস আর হাড়, আঁশ আর তরল পদার্থ, এমনকি আমার একটি মনও আছে। ...আমি অদৃশ্য হওয়ার কারণ, মানুষ আমাকে দেখতে অস্বীকার করে। সার্কাসের সাইডশোতে যেমন মুণ্ডুহীন দেহকে ঘিরে থাকে বিকৃত কাঁচের দেয়াল। যখন তারা আমার দিকে আসে, তারা তাদের কল্পনায় শুধু আমাকে ছাড়া শুধু আশপাশকেই দেখে।’
বাংলাদেশী রাজনীতিবিদরাও ভিন্নমতকে ততটুকুই দেখেন, যতটুকু দেখলে সুবিধা। সংবিধানের বিকৃত কাঁচের দেয়াল থেকে ভিন্নমতকে ‘অদৃশ্য মানব’ রূপ দেয়া হয়েছে। ফলে নিজের ভোট তারা নিজের হাতে দিতে পারছে না।
চতুর্থ সংশোধনী শেষে বর্তমানের সবচেয়ে বড় বাধা ১৫তম সংশোধনী। এই সংশোধনী থাকলে ওয়ানপার্টি স্টেটের আদর্শ থেকে বের হওয়া যাবে না। কিন্তু ডান-বামের সংঘর্ষে কোনো দেশ চলতে পারে না। সুতরাং ১৫তম সংশোধনী বাতিল করে গণতন্ত্রকে মুক্তি দেয়া হোক। নাহলে, অবশিষ্ট গণতন্ত্রটুকুও ৭৫-এর মতো ফের কমরেডের আকার ধারণ করতে পারে।

ইমেইল: farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫