ঢাকা, বুধবার,২৬ এপ্রিল ২০১৭

রকমারি

যে ডাক কেউ শোনেনি!

রুমান হাফিজ

০৩ ডিসেম্বর ২০১৬,শনিবার, ১৫:২৩ | আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৬,শনিবার, ১৫:৩০


প্রিন্ট
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

 নীরব নিস্তব্ধ রাত। আকাশের তারকারা এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে পৃথিবীর দিকে। প্রতিদিন হাজারো স্বপ্ন দেখে মানুষ বেঁচে থাকে পৃথিবীর বুকে। তেমনি কিছু স্বপ্ন নিয়ে সেই রাতে ঘুমিয়েছিলেন সদ্য প্রবাস ফেরত জাহেদ সাহেব। 

মাত্র ক’টা দিন দেশে থাকার জন্যই ছুটিতে আসা। একমাত্র মেয়ে তাহসিন আর স্ত্রী নুসরাত নিয়েই তার সুখের সংসার। বাবা-মা কেউই জীবিত নেই। তাহসিনই জাহেদের একমাত্র আশা-ভরসার কেন্দ্রস্থল। মেয়ের সাথে কাটানো সময়ই তিনি সবচাইতে বেশি সুখ অনুভব করেন। কিন্তু কে জানতো সেই রাতই তার জীবনের শেষ!
রাতের আঁধারে যখন পৃথিবীর সব প্রাণীকুল প্রচণ্ড ঘুমের মধ্যে নিমগ্ন। তখনি মানুষ নামধারী কিছু অমানুষ বাসার গেট ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। দরজায় প্রচণ্ড আঘাত শুনে প্রথমে তাহসিনের আম্মু জেগে ওঠেন। তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখবেন ভেবে যখনি ভেতরের দরজা খুলতে যাবেন, তখনি সন্ত্রাসীরা তাকে ঝাপটে ধরে তার মুখ বেঁধে ফেলে, সেই সাথে জাহেদকে তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরের মধ্যে যা কিছু আছে সব দেখিয়ে দিতে বলে।
‘কোথায় রাখা টাকাপয়সা, স্বর্ণ-গয়না সব বের করে দে, না হয় এখনি তোরা শেষ!’
বেশ কিছু সময় কিছু বলতে পারেননি জাহেদ সাহেব, এরকম অদ্ভুত এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে তিনি এই প্রথম, কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। তিনি দেখতে পেলেন তারই পেছনে প্রিয়তম স্ত্রী কে মুখ, হাত-পা বেঁধে রাখা। এসব দেখে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারেন কিভাবে?
সামান্য কিছু সময় অতিবাহিত হওয়াতে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়েছে তাকে। ছুরি আঘাত কোথায় লেগেছে তা টের পাননি। তবে চতুর্দিক থেকে রক্ত বের হতে শুরু করছে। এ দিকে স্ত্রী বারবার কি যেন বলতে গিয়েও পারছেন না, কারণ তার মুখ বেঁধে রাখা।
ঘরের মধ্যে আওয়াজ শুনতে পেয়ে হঠাৎ ঘুম ভাঙে তাহসিনের। বাবা-মাকে কাছে না পেয়ে কান্না জুড়ে দেয় সে। তখনি তাহসিনকে অন্য এক রুমে তালাবন্ধ করে রাখে ওরা। মেয়ের কান্না শুনে জাহেদ আর সময় নেননি, সব বলে দিলেন তাদের। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। সব কিছু পেয়েও মানুষ নামধারী এসব সন্ত্রাসীরা তার ওপর চালায় অকথ্য নির্যাতন।
নিজের সামনে এভাবে প্রিয় স্বামীর ওপর নির্যাতন দেখে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি স্ত্রী নুসরাত। গায়ের সব শক্তি একত্রিত করে বাঁধন খুলতে চাইলে হঠাৎ মাথার ওপর কিসের আওয়াজ শুনতে পান, তারপর আর কিছুই বলতে পারেননি, প্রচণ্ড আঘাতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। সন্ত্রাসীরা ঘরের সব মূল্যবান জিনিস নিয়ে যায়। শরীর থেকে মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণে একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন জাহেদ।
সন্ত্রাসীদের সামান্য কিছু টাকার লোভে এভাবেই বিদায় নিতে হলো তাকে। পাশেই তালাবদ্ধ রুম থেকে ভেসে আসছে হৃদয়বিদারক কণ্ঠে আম্মু-আব্বু বলে ডাকতে থাকা শিশু তাহসিনের শব্দ। নিষ্পাপ শিশু ছোট্ট তাহসিনের কান্নার আওয়াজ ঘরের ছাদ ভেদ করে পুরো আকাশ বাতাসকে প্রকম্পিত করছে। কিন্তু তার সেই ডাক পৃথিবীর কোনো মানুষ শুনেনি আজো ...!
শিশু সাংবাদিক
মেজরটিলা, সিলেট

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫