ঢাকা, শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭

গল্প

প্রাচ্যকলা ও প্রাচ্যকলার আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী

ড. আব্দুস সাত্তার

০১ ডিসেম্বর ২০১৬,বৃহস্পতিবার, ১৬:৩৫


প্রিন্ট

আমাদের উপমহাদেশের নিজস্ব আদি শিল্পকর্মের রূপ এবং তার মর্মবাণীর অনুসন্ধান করতে গেলে অজন্তা গুহাচিত্রের সাহায্য নেয়া এবং সেই সঙ্গে ইলোরার ভাস্কর্য শিল্পের কথাও স্মরণ করা যায়। কারণ চিত্র এবং ভাস্কর্য উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের নিজস্ব শিল্পের প্রাচীন ধারার সন্ধান পাওয়া যায়। খ্রিষ্টের জন্মের দশ বছর পূর্ব হতে যার যাত্রা শুরু। অজন্তা ইলোরায় যেসব চিত্র এবং ভাস্কর্য রয়েছে তার সর্বত্রই বৌদ্ধ ধর্মের নানা বিষয়ের প্রাধান্য রয়েছে। ইলোরায় নির্মিত ভাস্কর্যের ধারা অনুসরণ করে তৎকালে এবং তার পরবর্তী সময়েও পাথর খোদাই করে প্রচুর ভাস্কর্য শিল্পের জন্ম দেয়া হয়েছে। যার ঢেউ লেগেছিল উত্তরবঙ্গেও। শতবর্ষ আগে আয়োজিত উত্তরবঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনে যোগদানকারী পণ্ডিত ও ঐতিহাসিকেরা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে এরূপ অসংখ্য মূল্যবান ভাস্কর্য যত্রতত্র অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখেছেন। উত্তরবঙ্গ, সাহিত্য সম্মিলন নামক গ্রন্থের ১৯৩-১৯৫ পৃষ্ঠায় এ বিষয়ে বিষদ বর্ণনা রয়েছে।
অজন্তা গুহাচিত্রে ব্যবহৃত রং, রেখা এবং বিষয় পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। অসংখ্য শিল্পী অজন্তার অনুসরণে চিত্রকর্ম করেছেন। ভারতের বিখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসু দীর্ঘ দিন অজন্তা চিত্রের অনুশীলন করেছেন। যে কারণে তার চিত্রে অজন্তার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু তাই বলে তিনি অজন্তা চিত্রের অনুকরণ করেননি। তিনি অজন্তার ধারা ও পদ্ধতির বিষয় আত্মস্থ করে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে শিল্পের জন্ম দিয়েছেন। যাকে অজন্তা-পরবর্তী ধারা হিসেবে গণ্য করা যায়। এ ধারার শিল্পীদের মধ্যে শিল্পী কানু দেশাই, চিন্তামনি কর, রামগোপাল, অসিত কুমার হালদার, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চারু রায় প্রমুখ শিল্পীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একই সময়কালের আরো কিছু শিল্পী প্রাচ্যধারায় কাজ করলেও তাদের কাজে ইউরোপীয় কিংবা বলা যায় পশ্চিমা ধারার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এসব শিল্পী তাদের কাজে ত্রিমাত্রিক পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। ফলে তাদের চিত্রে ব্যবহৃত পোশাকের ভাঁজে ভাঁজে আলোছায়ার প্রাবল্য যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে মানুষের শরীরেও। যা ইংল্যান্ড থেকে ভারতবর্ষে আগত শিল্পীদের পূর্বে লক্ষ করা যায়নি। পশ্চিমা ধারায় উদ্বুদ্ধ শিল্পীদের মধ্যে বামাপদ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজা রবি বর্মা, পূর্ণচন্দ্র চক্রবর্তী প্রমুখ শিল্পীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর পরবর্তী পর্যায়ে ব্রিটিশ শিল্পীদের প্রভাবে এবং ব্রিটিশ সরকার প্রবর্তিত পশ্চিমা ধারার শিক্ষাব্যবস্থার কারণে শিল্পের ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী ধারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু তার পরেও অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু, অসিত হালদারসহ বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী ধারার শিল্পীর সহযোগিতায় ইন্ডিয়ান আর্ট বা ওরিয়েন্টাল বা প্রাচ্যচিত্র কলার চর্চাঅব্যাহত থাকে। কিন্তু প্রাচ্যধারার শিল্পকলা, শিক্ষাদানের প্রতিষ্ঠানের বড়ই অভাব ছিল। কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্ট নামক প্রতিষ্ঠানের একটি বিভাগ, ইন্ডিয়ান সোসাইটি অব ওরিয়েন্টাল আর্ট এবং শান্তিনিকেতনের কলা ভবন এই তিনটি স্থানে প্রাচ্যধারা চিত্র চর্চার সুযোগ ছিল। কিন্তু ক্রমান্বয়ে ইংরেজদের প্রভাবের কারণে এসব স্থানেও প্রাচ্যধারার শিল্প শিক্ষার সুযোগ সঙ্কুচিত হয়ে যায়। এমতাবস্থায় চল্লিশের দশকে শিল্পী জয়নুল আবেদিনসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী পশ্চিমা ধারায় শিল্প শিক্ষা শেষে ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের কারণে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় এসে চারু ও কারুকলা শিক্ষার যে প্রতিষ্ঠান (বর্তমান চারুকলা অনুষদ) গড়ে তোলেন, সেই প্রতিষ্ঠানে প্রাচ্যকলা বিভাগ নামে একটি বিভাগ সৃষ্টি করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর অভাবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধই থেকে যায়। তবে প্রথম পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে দু’জন শিক্ষার্থী এ বিভাগে শিক্ষা নিয়েছেন বলে জানা যায়। এদের মধ্যে ছিলেন একজন শিক্ষকের স্ত্রী এবং তাজুল ইসলাম। শিল্পী রশিদ চৌধুরী একপর্যায়ে বিভাগটির দায়িত্ব নিলে তাজুল ইসলাম প্রাচ্যকলা বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু রশিদ চৌধুরী বিদেশী মেয়েকে বিয়ে করার কারণে চাকরি চলে যায়। ফলে তাজুল ইসলাম নিজে নিজে কাজ করে শিক্ষা সমাপ্ত করলে স্বাভাবিক কারণেই বিভাগটি বন্ধ হয়ে যায়।
চীন জাপান কোরিয়া এবং ইন্ডিয়ান প্রাচ্যধারার শিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কারণে আব্দুস সাত্তার অর্থাৎ আমি বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রাচ্যকলা বিভাগে ভর্তি হতে চাইলে (১৯৬৮-৬৯ শিক্ষাবর্ষ) তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শিল্পী আনোয়ারুল হক শিক্ষকবিহীন বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভাগে কোনো ছাত্র ভর্তি করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন। অধ্যক্ষের কথা শুনে আমি কিছুটা হতাশ হলেও আমার মত পরিবর্তন করলাম না। ফলে আমার প্রবল ইচ্ছার কারণে শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ আমাকে প্রাচ্যকলা বিভাগে ভর্তি করে নিলেন। বইপুস্তক এবং ম্যাগাজিনের বিভিন্ন ছবির সাহায্য নিয়ে শিক্ষক ছাড়াই আমি আমার চিত্র চর্চার কাজ চালিয়ে যেতে থাকলাম। বেশ কিছু দিন পর ছাত্র আন্দোলন এবং আমার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রি-ডিগ্রি কোর্সের শিক্ষক ম. আবুল হাশেম খানকে প্রাচ্যকলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ করা হলো। কিন্তু তিনি প্রাচ্যকলা বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন না। তবু তার সহযোগিতায় আমি আমার কাজ চালিয়ে যেতে থাকলাম। তৎকালে প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রদর্শনীগুলোতে প্রদর্শিত আমার প্রাচ্যধারার চিত্রকর্ম দেখে অনুপ্রাণীত হয়ে কিছু কিছু ছাত্র-ছাত্রী প্রাচ্যকলা বিভাগে ভর্তি হতে শুরু করল। শিক্ষা শেষে আমি যখন উক্ত বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলাম, তখন থেকে অধিক হারে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হতে থাকল। সেই থেকে প্রাচ্যকলা বিভাগ বর্তমান অবস্থায় রূপ লাভ করেছে। বর্তমানে এই বিভাগ থেকে পাস করা বেশ কিছু শিল্পী প্রাচ্যধারায় চিত্র চর্চা করছেন। এ ছাড়া প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষকেরাও নিয়মিতভাবে প্রাচ্য ধারায় চিত্র চর্চা এবং প্রদর্শনীও করছেন। ইতোমধ্যে দেশে প্রাচ্যধারার শিল্পীদের একাধিক সংগঠনও তৈরি হয়েছে। এ সংগঠনগুলো নিয়মিত প্রদর্শনীর আয়োজনও করছে। ফলে দেশ-বিদেশের শিল্পপ্রেমী মানুষ আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যমণ্ডিত সংস্কৃতির পরম্পরাগত শিল্পকর্মের ধারা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সুযোগ লাভ করছেন। ফলে ক্রমান্বয়ে প্রাচ্যকলা দেশে এবং বিদেশের দর্শক এবং বোদ্ধাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই শিল্প চর্চার প্রাচ্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান মলয়বালার ‘ওরিয়েন্টাল পেইন্টিং স্টাডি গ্রুপ’ সম্প্রতি আয়োজন করে ষষ্ঠ ওরিয়েন্টাল পেইন্টিং এক্সিবিশন (৮-১৩ নভেম্বর ২০১৬)। এবারই প্রথম বাংলাদেশের শিল্পীদের পাশাপাশি ভারতের প্রাচ্যধারার খ্যাতিমান শিল্পীদের চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। ফলে প্রদর্শনী পেয়েছে আন্তর্জাতিক রূপ। এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলার অনুসারী ছাত্র-ছাত্রীরাও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে। এবারই প্রথম প্রদর্শনীতে পাঁচটি পুরস্কারও প্রদান করা হয়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহ দেয়ার জন্য। প্রদর্শনীতে যারা পুরস্কার পেয়েছে তারা হলো : ১. নিপা রানী সরকার (প্রথম পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা), ২. রায়হান আহমেদ (দ্বিতীয় পুরস্কার ৩০ হাজার টাকা)। উল্লেখ্য, রায়হান আহমেদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের ছাত্র। ৩. সামিনা জামান (তৃতীয় পুরস্কার ২০ হাজার টাকা), ৪. আবু হোসাইন (সম্মান পুরস্কার পাঁচ হাজার টাকা) এবং ৫. হাসুরা আকতার- (সম্মান পুরস্কার পাঁচ হাজার টাকা)।
ষষ্ঠ ওরিয়েন্টাল পেইন্টিং এক্সিবিশনে ভারতীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণের কারণে প্রদর্শনীর মর্যাদা বেড়েছে। বেড়েছে সৌন্দর্যও। ভারতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন- ১. অনুরাধা গয়েন ২. অর্ঘ দ্বীপ্তকর ৩. দিলীপ ব্যানার্জি ৪. গোপাল ঘোষ ৫. হরেণ দাস ৬. ইন্দ্রা দুগার ৭. মনিন্দ্র ভূষণ গুপ্ত ৮. মানিকলাল ব্যানার্জি ৯. মৃণাল কান্তি দাস ১০. মিন্টু নায়ার ১১. রিনা রায় ১২. সমীর রায় ১৩. সুমিতা সেন ও ১৪. স্বপন দাস। এ সব শিল্পীর মধ্যে কারো কারো কাজে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ওয়াশ পেইন্টিং ঘরানার ছাপ স্পষ্ট। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- প্রায় প্রত্যেক শিল্পীর বিষয় উপস্থাপন, পোশাক এবং রঙ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যেমনটি প্রকাশ পেয়েছে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কানু দেশাই, নন্দলাল বসু, চিন্তামনি কর, অসিত কুমার হালদার, চারু রায়, রাম গোপাল বিজয়ওয়ার গিয়া, পূর্ণচন্দ্র চক্রবর্তী প্রমুখ বিখ্যাত শিল্পীর কাজে। এটাই ভারতীয় শিল্পীদের শিল্পকর্মের বিশেষত্ব। প্রাচ্যধারার কিংবা পশ্চিমা ধারার সব শিল্পকর্মেই জাতীয়তাবাদের বিষয় প্রাধান্য পেয়ে থাকে। এ জন্যই ভারতের শিল্পীদের কাজ ভারতীয় শিল্প হতে পেরেছে। যে কারণে ভারতের শিল্পকর্ম সমগ্র বিশ্বে জনপ্রিয়ও হয়েছে। এ সব বিষয় বিবেচনায় রেখে বলা যায় যে, ভারতের শিল্পীদের চিত্রকর্ম আমাদের জন্য বিশেষ বার্তা বহন করে নিয়ে এসেছে।
আমাদের বাংলাদেশে যারা প্রাচ্য রীতিতে চিত্র চর্চা করেন তাদের মধ্যে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন- ১. আব্দুস সাত্তার ২. আফরোজা জামিল কংকা ৩. অমিত নন্দী ৪. আরিফ মাহমুদ অনিক ৫. আজাদী পারভিন ৬. বিকাশ আনন্দ সেতু ৭. দিলরুবা লতিফ ৮. দীপ্তি দত্ত ৯. এলহাম হক (খুকু) ১০. ফাহিমদা খাতুন, ১১. জেন নেসার ওসমান, ১২. কান্তিদেব অধিকারী ১৩. লক্ষণ কুমার সূত্রধর ১৪. লুৎফুন নাহার ১৫. মলয়বালা ১৬. মাতুরাম চৌধুরী ১৭. মহসিন কবির ১৮. মমতাজ পারভীন ১৯. নার্গিস পারভীন ২০. নাসিমা খান কুইনি ২১. নাজমা আকতার ২২. নাজনীন আকতার ২৩. রাবেয়া বেগম লিপি ২৪. রশিদ আমিন ২৫. রিয়াজুর ইসলাম সোহেল ২৬. রফিক আহমেদ ২৭. শাহনাজ শাহীন ২৮. শঙ্কর মজুমদার ২৯. সুমন কুমার বৈদ্য ৩০. সুশান্ত কুমার অধিকারী ৩১. সুস্মিতা শাহা রিমি ৩২. সুমন কুমার সরকার ৩৩. সুমিত কুমার ৩৪. তাজুল ইসলাম ৩৫. জাহাঙ্গীর আলম এবং ৩৬. জাহিদ মুস্তাফা। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী এসব শিল্পীর প্রায় সবাই প্রাচ্যধারার প্রতিনিধিত্ব করে এমন চিত্রকর্মই প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করেছেন। কারো কারো কাজে সমসাময়িক বিষয় যেমন স্থান পেয়েছে তেমনি স্থান পেয়েছে ধর্মীয় বিষয়ও। বাংলাদেশে যে প্রাচ্যরীতির চিত্রকর্ম ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এ প্রদর্শনী সেই ইঙ্গিত বহন করে। উন্নয়নের ইঙ্গিত বহন করছে ঢাকা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের চিত্রকর্মও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীরা হলো- আবু হোসাইন, এ কে এম গোলাম উল্লাহ নিশান, আরিফুল ইসলাম, চন্দন কুমার সরকার, ইতি রাজবংশী, হাশুরা আকতার রুমকী, হাসিবা ইয়াসমিন, হোসেন আলী, হরেন্দ্রনাথ রায়, মহিমা বেগম, নাজমুল হাসান, নিপা রানী সরকার, নন্দিতা সুতার, সামিনা জামান, শাহনাজ আকতার, সানজিদা আকতার, তৌহিদা হক। রাজশাহী থেকে অংশগ্রহণ করেছে- আলভিনা সালাম, হাদিউজ্জামান, নাজমুন আরা খান, ওবায়দুর রহমান, রায়হান আহমেদ, স্মৃতি দাস, সোহাগ খন্দকার, তানই সরকার এবং ওয়াহিদা সুলতানা। এ সব ছাত্র-ছাত্রীর যেমন উচ্চমান সম্পন্ন চিত্রকর্ম রয়েছে তেমনি রয়েছে দুর্বল কাজও। হাসুরা আকতার, হাসিবা ইয়াসমিন, হোসেন আলী, নিপা রানী সরকার, সামিনা জামান, শাহনাজ আকতার, সনজিদা আকতার, ওবায়দুর রহমান, আয়হান আহমেদ এবং নাজমুন আরা খানের চিত্রকর্ম দর্শক দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে এবং প্রদর্শনীকে সমৃদ্ধ করেছে।
এবারের প্রদর্শনীর আরো একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হচ্ছে ভারতের ২ শিল্পী কর্তৃক প্রাচ্যকলা বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ওয়াশ পদ্ধতির চিত্রকর্মের কর্মশালা পরিচালনা। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করতে আসা শিল্পী সমীর রায় এবং স্বপ্ন দাস আট দিনব্যাপী কর্মশালা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পরিচালনা করেছে। ১৯০০ সালের যাত্রালগ্নে শিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ রীতির স্বচ্ছ জলরঙের অভিজ্ঞতা, জাপানি ওয়াশ পদ্ধতি এবং নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে যে ‘ওয়াশ পদ্ধতি’ বা ‘ধোয়া চিত্ররীতির’ প্রবর্তন করেছিলেন সেই প্রবর্তিত ওয়াশ পদ্ধতিতেই ভারতের শিল্পীদ্বয় ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাদান করেছেন। ছাত্র-ছাত্রীরাও শিল্পীদের পেয়ে অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে সময়ের সদ্ব্যবহার করেছে। তারা অত্যন্ত মনোযোগসহকারে ওয়াশ পদ্ধতি হৃদয়ঙ্গম করতে সচেষ্ট থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিত্রকর্ম করতে সক্ষম হয়েছে। আর এরই মধ্য দিয়ে প্রদর্শনী এবং কর্মশালার আয়োজনকারী ‘ওরিয়েন্টোল পেইন্টিং স্টাডি গ্রুপ’ কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। এ সফলতার পেছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এবং চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেনের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ ছাড়া প্রাচ্যকলার প্রচার প্রসারের লক্ষ্যে অসাধারণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন মিখাইল আই ইসলাম। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি সফল ব্যবসায়ী এবং শিল্পের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ আবুল খায়ের লিটু প্রাচ্যধারার শিল্পের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন এবং এ শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। নিসার হোসেন আশা প্রকাশ করেছেন ভবিষ্যতে এ প্রদর্শনীতে চীন, জাপান, কোরিয়াসহ প্রাচ্য বা এশিয়ার আরো অনেক দেশের শিল্পী অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রাচ্যধারার প্রদর্শনীকে অধিক সমৃদ্ধ ও জনপ্রিয় করবে। ওরিয়েন্টাল পেইন্টিং স্টাডি গ্রুপ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে প্রাচ্য চিত্রকলার আন্দোলন দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে এবং প্রাচ্যকলাকে জনপ্রিয় করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে- এ প্রত্যাশা আমাদের সবার।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫