ঢাকা, শনিবার,২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

প্রাণি ও উদ্ভিদ

ঢাবি শিক্ষকের গবেষণা

দীর্ঘস্থায়ী রোগে ঔষধি উদ্ভিদ বেশ কার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ নভেম্বর ২০১৬,মঙ্গলবার, ১৮:৫২


প্রিন্ট

দীর্ঘস্থায়ী বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় লোকজ ঔষধি উদ্ভিদ বেশ কার্যকর। আর এজন্য গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবায় লোকজ-ঔষধী উদ্ভিদের ওপর আস্থা বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন তার এক গবেষণায় এসব তথ্য তুলে ধরেছেন।

এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে মঙ্গলবার এক সেমিনারে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় ঔষধি উদ্ভিদের ব্যবহার নিয়ে তার গবেষণা কার্যক্রম চালানো হয়। এতে তিনি দেখেন জন্ডিস, শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া, আমাশয়, কৃমি, পেটের পীড়া, দুর্বলতা ও চর্মরোগের মতো ক্রনিক ডিজিজের জন্য স্থানীয় মানুষ লোকজ ঔষধি উদ্ভিদের ওপরই বেশি নির্ভর করেন।

ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, তার গবেষণাব মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিতে ব্যবহৃত উদ্ভিদগুলোকে তালিকাভুক্ত করা, একটি নির্দিষ্ট রোগের ক্ষেত্রে ঔষধি উদ্ভিদ ব্যবহারে স্থানীয় জনগণের ঐক্যমত যাচাই করে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী ঔষধি উদ্ভিদগুলো বের করা, বিপন্ন ঔষধি উদ্ভিদগুলোকে খুঁজে বের করা ও তা সংরক্ষণের ব্যাপারে সুপারিশ করা।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের আশে পাশে পরিচালিত তার এই গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়- ১২৪টি ঔষধি উদ্ভিদ ২৪৪টি ব্যবহারবিধির মাধ্যমে ৫৩টি রোগ নিরাময়ে স্থানীয় লোকজন ব্যবহার করেন। প্রত্যেকটি ঔষধি উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও স্থানীয় নাম, গোত্র, ব্যবহৃত অংশ, রোগ-অভিযোগ ও ব্যবহারবিধি উক্ত গবেষণায় নথিভুক্ত করা হয়। স্থানীয় লোকজন উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ যেমন- পাতা, ফুল, ফল, বীজ, মূল, কাণ্ড, বাকল, কষ ইত্যাদি ঔষধি অংশ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। এর মধ্যে পাতা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণে আরো দেখা যায়- ১২৪টি ঔষধি উদ্ভিদের মধ্যে ৫৩টি বীরুধ, ৩৯টি বৃক্ষ, ১৯টি গুল্ম ও ১৩টি লতা জাতীয়। ব্যবহার-বিধি বিশ্লেষণে দেখা যায়- সবচেয়ে বেশি ঔষধ সরাসরি সেবন করা হয়, বাকিগুলো বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। স্থানীয় লোকদের মতে, শতকরা ৫৯ ভাগ ঔষধি উদ্ভিদ বন-জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করা হয়। আর বাকি ৪১ ভাগ বাড়ি-ঘরের আশপাশ থেকে সংগ্রহ করা হয়। কাটা-ছেড়া, জন্ডিস, শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া, আমাশয়, কৃমি, পেটের পীড়া, দুর্বলতা, চর্মরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ এসব রোগের ক্ষেত্রে ঔষধি উদ্ভিদের ব্যবহারে স্থানীয় লোকেরা সব চেয়ে বেশি ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এসব রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদগুলো হলো দুর্বাঘাস, আসামলতা, পিশাচ, মেন্দা, থানকুনি, বনধনিয়া, উদাল, কালমেঘ, নিম, শিশু, বেহলম, তুলসি, রামতুলসি ও অর্জুন। এসব ঔষধি উদ্ভিদের উপর সাধারণ লোকের আস্থাও প্রায় শতভাগ বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫