ঢাকা, সোমবার,২৬ জুন ২০১৭

প্যারেন্টিং

যখন মা হবি তখন বুঝবি

আশা রহমান

১৯ নভেম্বর ২০১৬,শনিবার, ১৮:৪৮


প্রিন্ট
মায়ের সাথে জোবাইদা ইউসুফ মিম

মায়ের সাথে জোবাইদা ইউসুফ মিম

বন্ধুত্ব মানেই স্বার্থের অনেক ঊর্ধ্বে নির্ভরশীলতা, বিশ্বস্ততা, পারস্পরিক সমঝোতা আর নিখাদ ভালোবাসার এক বিশেষ সম্পর্ক। আর বন্ধু সে-ই যে আজীবন সুখে-দুঃখে, বিপদে আপদে এ বিশেষ সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে। এসব কথা নতুন করে বলার কিছু নেই কিন্তু সেই বন্ধুত্বটা যদি মা-মেয়ের মধ্যে হয়, তবে তা পায় এক নতুন মাত্রা। এর সাথে জড়িয়ে থাকে তাদের ছোট ছোট দুঃখ কথা, সুখ স্মৃতি ও মান-অভিমান।
মানুষের জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেকোনো সময়ই ঘটতে পারে। সেই ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যেতে পারে জীবন। তখন তার পৃথিবীতে বড় আশ্রয় মা। যদি বন্ধু হিসেবে পাশে দাঁড়ান, নিজের মেয়েটিকে বুকে টেনে নেন তাহলে তার জীবনে অন্য কিছুর প্রয়োজন পড়ে না। তেমনি মায়েরও কোনো সমস্যা এসে ভিড়লে মেয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তা সহজেই সমাধান হবে। তারাই তাদের অনুপ্রেরণা ও পথচলার সঙ্গী। মা-মেয়ের মধ্যে বন্ধুত্ব সম্পর্ক অনিবার্য একটি দিক। বন্ধুদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়, স্কুল-কলেজের টিচারদের গল্প, এমনকি নতুন বয়ফ্রেন্ডের কথা বলার মতো বন্ধু মা ছাড়া আর কে হতে পারে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে মাকেই প্রথম বন্ধুত্বের উষ্ণ হাত প্রসারিত করতে হয়। শুধু শেয়ারই নয়, সমান তালে পরামর্শ আদান-প্রদান বা লেটেস্ট কোনো বিষয় নিয়ে হইচই তর্কও। বাড়িতে একদল বন্ধু এলে বাবা যেখানে রাশভার মুখ নিয়ে বেশ কিছুটা দূরে থাকেন, মা সেখানে বন্ধুদের সাথে সহজেই মিশে যেতে পারেন। আসলে সে জন্যই বোধহয় মা-মেয়ের সম্পর্ক এত স্পেশাল হয়। গল্পছলে শেয়ার করতে পারেন ছেলে বেলার সেইসব স্মৃতি, যা হয়তো কখনোই বলা হয়নি কাউকে। আবার সমস্যা যেখানে জটিল, ক্ষত যেখানে গভীর, সেখানেও মা বা মেয়ের মতো পরস্পরকে প্রলেপ আর কেউ দিতে পারে না। এতটা ঘনিষ্ঠ আর নিঃস্বার্থ সম্পর্ক হয় না। পরিবারের অন্য মানুষ যতই কাছের হন না কেন, মা বা মেয়ের মতো পরস্পরের চার দিকে এরকম নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে পারেন না।
মাকে যারা সেরা বন্ধু মনে করেন তাদের একজন ওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ডব্লিউইউবি) এলএলবি অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী জোবাইদা ইউসুফ মিম। পছন্দ করেন উপস্থাপনা, গান, নাচ আর ঘুম। মিম একজন সফল মানুষ হতে চান। পছন্দের পেশা আইনজীবী আর হতে চান সফল উপস্থাপক। মিমের প্রিয় খাবার ভুনা খিচুড়ি, গরুর গোশত আর ডিম। প্রিয় শখ রান্না আর সমুদ্র তীরে ঘুরতে পছন্দ করেন। মা নাজমা ইউসুফ একজন গৃহিণী, তিন ভাইবোনের মধ্যে মিম সবার বড়।
মিম জানিয়েছেন, মা আর আমার সম্পর্ক বন্ধুর মতোই। আমি যেহেতু পরিবারের বড় মেয়ে তাই আমার সাথে সম্পর্কটা সম্পূর্ণ বন্ধুর মতো। আম্মুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আমি বুঝতে শেখার পর থেকেই যাকে আমার প্রথম বন্ধু হিসেবে পেয়েছি তিনি হলেন আমার মা। আম্মুর সাথে আমি সব শেয়ার করতে পারি, যা অন্য কারো সাথে পারি না। মা আর সন্তানের সম্পর্ক আসলেই অদ্ভুত। কখনোই আম্মুকে বলতে হয় না আমার মন খারাপ, আমার হাতে টাকা নেই বা আমার কিছু পছন্দ হয়েছে। সব প্রয়োজনগুলোই আম্মু কিভাবে যেন বুঝে যান। আমার যত বায়না সব আম্মুর কাছেই। মাঝে মধ্যে আম্মু অনেক শাসনও করেন আবার বকাঝকাও দেন। তখন খুব রাগ হয়, জেদ হয়, কষ্ট হয়; কিন্তু আবার কিছু সময় পরে আম্মুই আদর করে ডাকেন।
মাঝে মধ্যে আম্মুর ওপর অনেক রাগ হয় যে, আম্মু অনেক কিছুতেই এত নিষেধ করে কেন? কিন্তু আমার জন্য সবচেয়ে কোনটা ভালো সেটা তো অবশ্যই আমার আম্মুই বোঝেন। আম্মু একটা কথা মাঝে মধ্যে বলেন ‘যখন মা হবি, তখন বুঝবি।’ আমার আর আম্মুর অনেক কিছুতেই যথেষ্ট মিল রয়েছে। যেমন আমরা দু’জনই বাইরের খাবার খেতে খুব পছন্দ করি। ঘুরতেও আমরা পছন্দ করি। আমাদের অনেক মনের মিল আছে এমনকি আমরা দু’জনেই যথেষ্ট আবেগপ্রবণ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫