ঢাকা, শুক্রবার,২৩ জুন ২০১৭

ভ্রমণ

অপরূপ লোভাছড়া

রুমান হাফিজ

১৯ নভেম্বর ২০১৬,শনিবার, ১৭:৫৭


প্রিন্ট

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নে অবস্থিত এক মনোরম স্থান লোভাছড়া। মূলত লোভাছড়া চা বাগানেরই নাম। আর এই চা বাগানের সূত্র ধরেই বিশাল এলাকার নাম হয়েছে লোভাছড়া। সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটের লোভাছড়া। যেখানে মিশে আছে পাহাড়, মেঘ আর আকাশ। নদীর স্রোতে ইঞ্জিনবিহীন ডিঙি নৌকার ভেসে চলা কিংবা পাথর নিয়ে গন্তব্যে ছুটে চলা বিশালাকারের স্টিমার, সেই সাথে স্টিমারকে ঘরবাড়ি বানিয়ে ফেলা শ্রমিকদের জীবনচিত্র- সব কিছু দেখে মুগ্ধ হওয়া ছাড়া আর কোনো পথই থাকে না। বড় বড় স্টিমারের ছুটে চলার পথ বেয়ে নদীর আস্ফালন, বিশাল সব ঢেউ বুকে অদ্ভুত শিহরণ বইয়ে দেয়। সিলেট থেকে বাসে বা সিএনজিতে কানাইঘাট পৌঁছে সেখান থেকে সুরমা নদীর বুক চিরে নৌকায় যেতে হয় লোভাছড়ায়। আর নৌকায় ওঠার পর থেকেই শুরু হয় নাগরিক কোলাহলমুক্ত, বিষের বাতাসমুক্ত ও যান্ত্রিকতার দাবানল ছাড়া স্নিগ্ধ-সুশোভিত এক নতুন পথচলা। নৌকা চলার কয়েক মিনিট পরই যে কেউ হারিয়ে যাবে নিজ সত্তা থেকে। ইঞ্জিন নৌকার ভটভট শব্দ, নৌকার ঝাঁকুনি, ঢেউয়ের দোলায় অবাক ছন্দে ওপর-নিচ দোল খাওয়া, সীমাহীন আকাশের ক্ষণে ক্ষণে রূপ পাল্টানো রঙ, ঝকঝকে সাদা বকের দলের হাওয়ায় ওড়াউড়ি। নদীপাড়ের মানুষের জীবনচিত্র দেখতে দেখতে আপনি কখন পৌঁছে যাবেন কাক্সিক্ষত লোভাছড়ায় টেরই পাবেন না। লোভাছড়ার যেখানে গিয়ে আপনার নৌকা থামবে, সেই জায়গায়ই নদীর পাথুরে পাড় দেখে বিস্ময়ে হতবাক হবেন নিশ্চয়ই। আর পাশেই চার দিকে বিশালাকারের ডালপালা নিয়ে সগর্বে দণ্ডায়মান বটবৃক্ষকে ঘিরে চা শ্রমিকদের চা-পাতা নিয়ে কাজকারবার দেখতে আপনি থমকে যাবেন। এরপর ২-৩ মিনিট হাঁটলেই হারিয়ে যাবেন সবুজের মাঝে। হাঁটতে হাঁটতেই চোখে পড়বে লোভাছড়ার বাসিন্দাদের অদ্ভুত নির্মাণশৈলীর ছোট ছোট কুটির। কুটির থেকেই চেয়ে থাকা ছোট্ট শিশু-কিশোরদের মায়াবী চাহনি দেখে আপনার মনে হবে- এমন চাহনি কত দিন দেখিনি! চার পাশের মনমাতানো সবুজের শ্যামলীময় মুগ্ধ হয়ে আপনি হাঁটছেন ক্লান্তিহীনভাবে। হঠাৎ করেই থমকে যাবেন, এ কী! রাঙ্গামাটি চলে এলাম নাকি।

আপনার এই বিস্ময়ের কারণ রাঙ্গামাটির মতোই একটি ঝুলন্ত ব্রিজ রয়েছে এই লোভাছড়ায়। আপনি আরো বিস্মিত হবেন, যখন দেখবেন ব্রিজটির গায়ে খোদাই করে লেখা রয়েছে- ব্রিজটি নির্মিত হয় ১৯২৫ সালের এপ্রিল মাসে। তিন টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই ঝুলন্ত ব্রিজ আপনাকে ঘোরের মধ্যে ফেলবে, সেই আমলে এই বনভূমিতে তিন টন ধারণক্ষমতার কোন যানবাহন চলত? কারা বাস করত এখানে? সারি সারি চাগাছ, মুকুলসহ চায়ের পাতা, ঘন নিবিড় বন থেকে ভেসে আসা পাখপাখালির গুঞ্জন আপনাকে বিমোহিত করবে। পথের এক জায়গায় পেয়ে যাবেন শত বছরের পুরনো বিরাটাকার এক বটবৃক্ষ। চার পাশে শতাধিক ডালপালা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বটবৃক্ষটি যেন নিজেকে এই লোভাছড়া চা বাগানের কর্ণধার ঘোষণা করছে। গুচ্ছমূলের বটবৃক্ষটির গোড়ায় রয়েছে নানা রঙের ফুলের আবাস। আর বটবৃক্ষের গায়ে মানুষের পাঁজরের হাড়ের মতো অবিকল দৃশ্য দেখে আপনি বিস্ময়াভিভূত হবেন। বৃক্ষটির গাজুড়ে জন্ম নিয়েছে অমূল্য সব অর্কিড। আর এই বটবৃক্ষটিকেই নিজের প্রিয় আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী।

যেভাবে যাবেন : দেশের যেকোনো জায়গা থেকেই সিলেট এসে বাসে করে যাওয়া যাবে কানাইঘাট। ভাড়া ৬০ টাকা অথবা সিলেট থেকে সিএনজি রিজার্ভ করেও যাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে ভাড়া নেবে ৬০০ টাকার মতো। কানাইঘাট থেকে নৌকায় লোভাছড়ায় যেতে জনপ্রতি ভাড়া নেবে ৩০-৪০ টাকা। চাইলে রিজার্ভ নৌকাও নিতে পারেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫