ঢাকা, শনিবার,২৭ মে ২০১৭

উপন্যাস

সাক্ষাৎকার 

বই জ্ঞানময়ী, স্নেহময়ী, প্রেমময়ী এবং জ্বালাময়ী : পলাশ মাহবুব

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,বুধবার, ১২:২০ | আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,বুধবার, ১২:২৬


প্রিন্ট

পলাশ মাহবুব, জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার। লিখছেন অনেকদিন ধরে। সাহিত্যের অধিকাংশ শাখায় কাজ করেছেন এবং করছেন। লেখালেখিতে নিজস্ব একটি কথনভঙ্গি তৈরি করতে সমর্থ্য হয়েছেন তিনি। এবারের বইমেলায় সাতটি নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে এই লেখকের। বইমেলা এবং লেখালেখি নিয়ে কথা হলো তার সাথে।

আজ থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু হচ্ছে। কেমন লাগছে? 
লেখক-পাঠক এবং প্রকাশকদের কাছে ফেব্র“য়ারি মাসটি অন্য আর দশটি মাসের মত নয়। আমরা পুরো বছর অপেক্ষা করি ফেব্র“য়ারির জন্য। ফেব্র“য়ারি আমাদের ভাষার মাস, পৃথিবীর দীর্ঘতম বইমেলার মাস। আগামীকাল থেকে শুরু সেই মাস। খুব ভালো লাগছে। আশাকরি এবছর একটি অসাধারন বইমেলা পাবো আমরা।

এবারের মেলায় আপনার কি কি বই প্রকাশিত হবে? 
নতুন বইয়ের সংখ্যা ৭-৮টি হবে। আর বেশ কয়েকটি বই পুনঃমুদ্রিত হবে। নতুন বইয়ের মধ্যে আছে কিশোর উপন্যাস ‘লজিক লাবু’। এটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী। টো টো কোম্পানি সিরিজের এবারের উপন্যাস ‘টো টো কোম্পানি ও বীরপ্রতীকের মেডেল’ আসবে অন্বেষা থেকে। ছোটদের গল্পের বই ‘সূর্যমুখিরা দুইবোন’ প্রকাশিত হবে অন্যপ্রকাশ থেকে। পাঞ্জেরী থেকে আসবে কিশোর গল্পের বই ‘তালা’ এবং ছড়াগ্রন্থ ‘থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে’। তাম্রলিপি প্রকাশ করবে বড়দের গল্পের বই ‘রোমিওপ্যাথি’। অনিন্দ্য প্রকাশ বের করবে প্রেমাণুকাব্য সিরিজের দ্বিতীয় বই ‘প্রেমাণুকাব্য-২’। পাশাপাশি ১৫ বছর আগে প্রকাশিত প্রেমাণুকাব্য-১ বইটিও অনিন্দ্য পুনঃমুদ্রণ করবে। এছাড়া কিশোর উপন্যাস ‘পিটি রতন সিটি খোকন’ নতুনভাবে আসবে পাঞ্জেরী থেকে এবং কিশোর গল্পগ্রন্থ ‘বই খুললেই ভুত’ পুনঃমুদ্রিত হচ্ছে অনিন্দ্য প্রকাশন থেকে।

আপনার প্রথম বই কতসালে প্রকাশিত হয়?
১৭ বছর আগে, ২০০০ সালে প্রথম বই প্রকাশিত হয়। বইয়ের নাম ‘পিপিলিকার পাখা’। বইটি প্রকাশ করেছিল জাগৃতি প্রকাশনী।

লেখালেখিতে আগ্রহি হওয়ার কারণ কি?
আগ্রহি হওয়ার প্রথম কারণ, ভুল ধারণা। লেখালেখিকে প্রথমে সহজ ভেবেছিলাম। কিন্তু শুরু করার পর দেখলাম ঘটনা পুরো উল্টো। লেখালেখি কঠিনেরও কঠিন। কিন্তু ভালোবাসা যেহেতু হয়ে গেছে তাই ফেরার উপায় নেই। কঠিনেরেই ভালোবাসিলাম। হা হা হা।

আপনার আজকের এই পর্যন্ত আসার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?
আমার ধারণা একজনের লেখক হওয়ার পেছনে তার নিজের অবদানটাই সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ কোনও বাবা-মা’ই প্রথম দিকে চান না সন্তান লেখালেখি করুক। এইম ইন লাইফ রচনায় লেখক হওয়ার বিষয়টি কখনো শেখানো হয়না। কারণ আমাদের দেশে শুধুমাত্র লেখালেখি করে সম্মানজনক ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন এখনো সম্ভব না। এটি একটি অনিশ্চিত যাত্রা। সুতরাং আমার তো মনে হয় লেখক হওয়ার ঝুঁকি প্রথমে নিজেকেই নিতে হয়। আমিও তাই নিয়েছি। তবে এ পর্যন্ত আসার পেছনে বহু মানুষের সহযোগিতা, উৎসাহ, প্রেরণা আর ভালোবাসা ছিল। যা এখনো আছে। আশাকরি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অনেকে বলেন প্রযুক্তি যেভাবে আগাচ্ছে তাতে করে বইয়ের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
এ বিষয়ে আমার ভাবনটা একটু ভিন্ন। আমি মনে করি প্রযুক্তির নানা মাধ্যম আসলেও বইয়ের আবেদন থাকবে। কারণ বিছানায় বালিশের পাশে মাথার কাছে বই রাখা আর ল্যাপটপ রাখার অনুভূতি কিন্তু এক না। পড়তে পড়তে বুকের ওপর বই রেখে ঘুমিয়ে পড়ার সুখ আপনি কোথায় পাবেন, যদি বই না থাকে? সুতরাং বই থাকবে। অন্তত পৃথিবীতে মানুষ যতদিন আছে ততদিন তো থাকবেই। কারণ বই একইসাথে জ্ঞানময়ী, স্নেহময়ী, প্রেমময়ী এবং জ্বালাময়ী’।

বাংলাদেশের সাহিত্য নিয়ে আপনার মতামত জানতে চাই
সাহিত্য নিয়ে মন্তব্য করার মতো পর্যায়ে এখনো যেতে পারিনি আমি। আর কিছু সময় যাক। এই প্রশ্নের উত্তর না হয় তখন দেয়া যাবে।

সাহিত্যের কোন শাখা নিয়ে আপনার লিখতে ভালো লাগে? 
কবিতা এবং প্রবন্ধ ছাড়া বাকি প্রায় সবকিছুই লেখা হয়েছে। তবে গল্প আর উপন্যাস লেখায় আগ্রহ বেশি। আর ছড়া অনেকটা সহজাত হয়ে গেছে।

বইকে কি আপনি পণ্য মনে করেন?
আমি কি মনে করি সেটা বড় কথা না। তবে বাস্তবতা বলছে, বই অবশ্যই একটি পণ্য। তবে বিশেষায়িত পণ্য। অন্য সাধারণ পণ্যের চেয়ে বইয়ের মর্যাদা আলাদা। কিন্তু দিনশেষে বই একটি পণ্য। তা না হলে মেলা করার দরকার ছিলনা।

বইয়ের প্রচারনার বিষয়টিকে অনেকে নেতিবাচকভাবে দেখেন। আপনি কিভাবে দেখেন?
অবশ্যই ইতিবাচক হিসেবে দেখি। বইয়ের প্রচারনা খারপ কিছু না। বিশেষ করে আমাদের দেশে যেখানে দিনে দিনে বইয়ের পাঠক কমে যাচ্ছে সেখানে তো বইয়ের প্রচারণার বাড়তি মনযোগ দেয়া উচিত। আরেকটা বিষয় হচ্ছে একজন প্রকাশক বইয়ের পেছনে বিনিয়োগ করেন। তিনি তার বিনিয়োগ উঠিয়ে আনার জন্য বিজ্ঞাপন দিতেই পারেন। তাছাড়া ভালো জিনিসের প্রচারণা চালানো তো খারাপ কিছু না। তাছাড়া বই তো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না যে তার বিজ্ঞাপন করা যাবেনা।

শুধু বইমেলা কেন্দ্রীক বই প্রকাশনাকে আপনি কীভাবে দেখনে ? 
খারাপভাবে দেখার কোনও সুযোগ নেই। কারণ বইমেলা ছাড়া এখন নতুন বই খুব একটা প্রকাশিত হয়না। আমাদের পুরো প্রকশনা জগতটাই তো বইমেলা কেন্দ্রিক। তাছাড়া ব্যক্তিগতভাবে আমি শত ফুল ফুটতে দেয়ার পক্ষে। সব ফুলকেই যে সুবাস ছড়াতে হবে তাতো নয়। 

লেখক এবং প্রকাশকের সর্ম্পক কেমন হওয়া উচতি? 
ভালো সম্পর্ক ছাড়া তো ভালো কিছু প্রত্যাশা করা যায়না। তবে লেখক-প্রকাশকের সম্পর্ক হতে হবে তারচেয়েও বেশি কিছু। তাদের দুয়ের মধ্যে থাকা উচিত স্বপ্নময় একটি সম্পর্ক। ভালো কিছু করার এবং উপহার দেয়ার আন্তরিক সম্পর্ক।

নতুন লখেকদরে জন্য আপনার পরার্মশ কী?
সেই পুরোনো পরামর্শ। লিখতে হলে পড়তে হবে।

আপনার পাঠকদরে জন্য কছিু বলুন
আমার পাঠকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। অতি ভালোবাসা নিয়ে তারা আমাকে পাঠ করছেন। এই ঋণ শোধ করার সামর্থ্য আমার নেই। আমি পাঠকের ভালোবাসার ঋণ খেলাপি।

আপনার প্রয়ি লখেকদরে নাম বলুন 
অনেক অনেক প্রিয় লেখক আমার। প্রতিনিয়ত সেখানে নতুন নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে। আমি মুগ্ধ হয়ে তাঁদের লেখা পড়ি। আর মনে মনে ভাবি, ইস! যদি তাঁদের মতো লিখতে পারতাম।

আপনাকে যদি আলাদনিরে চরোগ দওেয়া হয় তাহলে কী করবনে? 
আলাদিনের চেরাগ দিলে সবাই যা করে সেটাই করবো। চেরাগে ঘঁষা দেবো। হা হা হা।

লেখালেখি নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি? 
পরিকল্পনা একটাই। লিখে যেতে চাই। লিখে যেতে চাই। লিখে যেতে চাই।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫