ঢাকা, মঙ্গলবার,২৫ জুলাই ২০১৭

প্রকৃতি ও পরিবেশ

প্রজাপতির মেলায়

১২ নভেম্বর ২০১৬,শনিবার, ১৬:৩৭


প্রিন্ট

‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি প্রকৃতি পায় নতুন গতি’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে গত ৪ নভেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে হয়ে গেল প্রজাপতি মেলা। কয়েক বছর ধরেই এ মেলা হচ্ছে। মেলায় ঘুরে লেখাটি তৈরি করেছেন
শওকত আলী রতন

প্রজাপতির উড়ে বেড়ানোর দৃশ্যটি অপূর্ব। অবশ্য প্রকৃতিতে এমন দৃশ্যও আজকাল খুব একটা চোখে পড়ে না। গ্রামাঞ্চলের ঝোপজঙ্গলে এমন দৃশ্য এখন কমে গেছে। তাই প্রজাপতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে কয়েক বছর ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে প্রজাপতি মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। এ মেলায় প্রজাপতি সম্পর্কে খুঁটিনাটি বিষয় তুলে ধরেন আয়োজকেরা।
বাতাসে ডানা মেলে উড়ছে হরেক রকম প্রজাপতি। বিচিত্র ও মনোমুগ্ধকর এদের গায়ের রঙ। মেলায় দেখা গেল একসাথে শত শত প্রজাপতির চঞ্চল ওড়াউড়ি। প্রজাপতি যে শুধুই সৌন্দর্য ছড়ায় তাই নয়, এরা পরাগায়নের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি প্রকৃতি পায় নতুন গতি’- এ স্লোগানে গত ৪ নভেম্বর প্রজাপতিপ্রেমীদের ভিড়ে মুখরিত ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান হলের সামনে ভিড় করেন হাজার হাজার দর্শনার্থী। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সচেতনতা ও প্রজাপতি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বাড়াতে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রজাপতি মেলা ২০১৬। দিনব্যাপী মেলায় সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে প্রজাপতি অবমুক্ত ও বেলুন উড়িয়ে এর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। তিনি বলেন, সাত বছর ধরে এ মেলা সবার জন্য উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। এ ক্যাম্পাসকে প্রজাপতির আবাস হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মেলার আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রকৃতি ভালো থাকলে প্রজাপতি ভালো থাকবে আর প্রজাপতি ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকব। দেশে প্রায় ৬০০ প্রজাতির প্রজাপতি রয়েছে। আমরা ৩০৫ প্রজাতির প্রজাপতি চিহ্নিত করেছি। পৃথিবীতে ১৬ গোত্রের প্রজাপতি রয়েছে। আমাদের দেশে আছে ১০ গোত্রের, যা নিয়েই আমরা গবেষণা করছি। এসব প্রজাপতি সংরক্ষণে মানুষকে আরো সচেতন হতে হবে। এ কারণেই মেলার আয়োজন। কুমিল্লা থেকে আগত আনিসুর রহমান নামে এক দর্শনার্থী জানান, এ ধরনের মেলা আমাদের দেশে খুবই কম। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় বছরে অন্তত একবার প্রজাপতি মেলার আয়োজন করতে পারলে অনেকেই প্রজাপতির সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। মানিকগঞ্জ থেকে আসা সোহান জানান, অযত্ন-অবহেলায় যেসব প্রাণী বেড়ে উঠছে, তাদের সম্পর্কে আমরা খুব একটা জানার চেষ্টা করি না। কিন্তু তারাই পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এ মেলায় এসে প্রজাপতি সম্পর্কে জানা-অজানা অনেক তথ্য জানতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। এবারের মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আয়োজনে ৮০ থেকে ৮৫ প্রজাতির প্রদর্শিত প্রজাপতি দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে দেখেন। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের ভেতর ও বাইরে অসংখ্য প্রজাপতির আলোকচিত্র প্রদর্শনী করা হয়। এ মেলার অপরূপ শোভা দেখতে ক্যাম্পাসে ভিড় করেন হাজারো দর্শনার্থী। এবারের মেলায় শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতিবিষয়ক ছবি আঁকা, প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রজাপতির হাট দর্শন, প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা, বারোয়ারি বিতর্ক, প্রজাপতির চেনা প্রতিযোগিতা ও প্রজাপতিবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া মেলায় অতিথিদের জন্য জালে ঘেরা প্রজাপতি প্রদর্শিত হয়। ফুলের ওপর ভর করা এসব প্রজাপতি দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে যায়। লাল, নীল, হলুদ, বেগুনিসহ নানা রঙের প্রজাপতি রঙিন পাখা মেলে ওড়াউড়ি করে রঙ ছড়ায় চার পাশে। এসব প্রজাপতির রঙের জাদুতে মোহিত হন দর্শনার্থীরা। দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতর অবস্থিত প্রজাপতির বিভিন্ন পার্ক ঘুরে দেখেন। প্রকৃতির সাথে প্রজাপতির যেন নিবিড় সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। তাই প্রকৃতিতে প্রজাপতি নেই, এমনটি কল্পনা করা দুরূহ। প্রজাপতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫