ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৫ মে ২০১৭

ভ্রমণ

বগুড়ার ঐতিহাসিক স্থাপনা

মো: জাভেদ হাকিম

১২ নভেম্বর ২০১৬,শনিবার, ১৫:৪৬


প্রিন্ট

ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক উত্তরাঞ্চলের জেলা বগুড়া, এ বগুড়াতেই রয়েছে অনেক পৌরাণিক কাহিনীঘেরা নানা স্থাপনা। ঢাকা থেকে খুব বেশি দূরে নয়, তবুুও যাই যাই করে বগুড়ার সৌন্দর্য দেখা হয়নি। কথায় আছে, মক্কার মানুষ হজ পায় না। অনেকটা সেই রকম। তবে এবার সুযোগ মিলে যাওয়ায় আর কালক্ষেপণ না করে জয়পুরহাট থেকে ঢাকা ফেরার সময় ঘুরে বেড়াই দইয়ের জন্য বিখ্যাত জেলা বগুড়া। প্রথমেই ঢুঁ মারি হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখি মাহিসাওয়ারি রহ:-এর মাজার প্রাঙ্গণে। প্রথমেই বলে নেই- ভ্রমণ শুধু বিনোদনই নয়, অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ করারও অন্যতম মাধ্যম। সেই সূত্রেই আমাদের মাজার দর্শন। হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখি মাহিসাওয়ারি রহ: ইসলাম প্রচারের জন্য সেই সুদূর আফগানিস্তানের বলখি থেকে এ মহাস্থানগড়ে আগমন করেন। হিন্দুরাজা পরশুরামকে পরাজিত করে ইসলাম ধর্ম সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। লোকমুখে প্রচলিত আছে, তিনি মাছের পিঠে চড়ে বগুড়া এসেছিলেন, এ জন্য তাকে মাহিসাওয়ারি বলা হয়ে থাকে। ইতিহাসের কোথাও কোথাও পাওয়া যায়, হজরত মীর বোরহান নামে একজন মুসলমান এখানে বাস করতেন। গরু কোরবানি দেয়ার অপরাধে রাজা পরশুরাম সেই মুসলিমকে বলির আদেশ দেন, তখনই হজরত শাহ সুলতান বলখি রহ: তাকে সাহায্য করার জন্য মহাস্থানগড়ে আসেন। আমরাও ১৪০০ শতাব্দীর মুসলিম ধর্মপ্রচারক বলখি রহ:কে শ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করে মাজারের আশপাশ ঘুরে দেখি। দূর-দূরান্তের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মানুষের পদচারণা, সে এক বিশাল কাণ্ড। ভাবখানা যেন এমন- মাজারে মান্নতের জিনিস দিতে পারলেই পেয়ে যাবে সব। এসব ধর্মান্ধতা বৈ কিছু নয়। ভ্রমণ শিক্ষা লাভের অন্যতম মাধ্যম। তারই ধারাবাহিকতায় ঘুরেছি মাজার প্রাঙ্গণ। সেখানে রয়েছে শতবর্ষী বটবৃক্ষ। এর নিচেই রয়েছে কথিত দুধপাথর। কত রঙের মানুষ ভ্রান্ত বিশ্বাসে পাথরে দুধ ঢালছে।
দোকানিদের হরেক পসরা থেকে মুরালি ও মুড়ি-ভর্তা খেয়ে ছুটি বেহুলা-লখিন্দরের বাসরঘর দেখতে। কত শুনেছি বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনী! মনের মাঝে অন্যরকম ভালো লাগা দোলা দেয়। মাজার প্রাঙ্গণ থেকে অল্প সময়েই পৌঁছে যাই গোকুল গ্রামে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা কালের সাক্ষী বেহুলা-লখিন্দরের দুর্গের মতো দেখতে বৌদ্ধ স্থাপনার সদর দরজায়। ততক্ষণে জুমার নামাজের সময় হয়। তাই প্রথমে নামাজ আদায় করে নেই। এরপর জনপ্রতি বিশ টাকা প্রবেশ ফির টিকিট কেটে ঢুকে যাই ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক প্রায় ৪৫′-৫০′ উচ্চতার বৌদ্ধস্তম্ভে। স্তম্ভের ওপরে পূর্ব পাশে চৌবাচ্চাসদৃশ একটি গোসলখানা রয়েছে। এটি বেহুলার বাসরঘর নামে পরিচিত। বাংলাদেশের এটি একটি অন্যতম প্রাচীনতম পুরাকীর্তি। ধারণা করা হয়, সম্র্রাট অশোক এ স্থাপনাটি নির্মাণ করেছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে, আনুমানিক সপ্তম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে এটি নির্মিত হয়েছে। ইট দিয়ে নির্মাণ করা স্তূপটি তিন কোনাবিশিষ্ট। খনন শেষে এখানে ১৭২টি কক্ষ আবিষ্কৃত হয়েছে। আমরা ঘুরে ঘুরে দেখি আর স্মৃতিচারণ করার চেষ্টা করি সেই ছোটকাল থেকে শুনে আসা কল্পকাহিনী। বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনী-নির্ভর করে এ যাবৎকাল অনেক নাটক ও সিনেমা তৈরি হয়েছে। আরো কত হবে কে জানে! এর স্থাপত্যশৈলী এখনো পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

যোগাযোগ : ঢাকার গাবতলী থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস সার্ভিস রয়েছে। পরিবহন ভেদে ভাড়া ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত।

থাকবেন কোথায় : বগুড়া সদর একটি ঐতিহ্যবাহী শহর। রাতযাপনের জন্য বিলাসবহুল থেকে সাধারণ মানের সব ধরনের আবাসিক হোটেলই রয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫