ঢাকা, রবিবার,২৬ মার্চ ২০১৭

গল্প

ডোর বেল এবং আবু মিয়া

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২৭ অক্টোবর ২০১৬,বৃহস্পতিবার, ১৭:৩২


প্রিন্ট

সায়েদাবাদে আবু মিয়াকে প্রায় চলতি গাড়ি থেকে জোর করেই নামিয়ে দিলো হেলপার। কত অনুরোধ করল। বাবা বলে ডাকল। বাজান, একটু সাইড কইরা নামায়া দেও। আল্লাহ তোমার ভালা করব। হেলপারের একই ভাষার নির্দেশ : নামলে নামেন, নইলে টার্মিনালে নামতে অইবো।
আবু মিয়া জানে টার্মিনাল মানে আধা ঘণ্টা হেঁটে আবার এখানেই আসতে হবে। আবু মিয়া বাসের যাত্রীদের সহানুভূতি চায়। কেউ বলে না আহা, বুড়া মানুষডারে একটু সাইড কইরা নামায়া দেও।
কিছুটা অভিমান বুকে জমা করে আবু মিয়া গেটে এগিয়ে যায়।
বাকি রাস্তাজুড়ে রিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল আবার ঠেলাগাড়ি। পা বাড়িয়ে আবার পেছনে হাঁটে। আরেকটা বাসের ধাক্কা খেতে খেতে বেঁচে যায়।
শেষমেশ একটা সুযোগ এসে যায়। এক মহিলাকে হাত উঁচু করে রাস্তা পার হতে দেখে তার সমান্তরাল হাঁটে। আল্লাহর কাছে শোকরগুজার করে লম্বা দম নেয়।
বড় ছেলের বাসা খিলগাঁও। একটু জিরিয়ে তুরাগ বাসে উঠে যাবে। রিকশায় যাত্রাটা খুব রিস্ক, খরচও বেশি। সামনে তাকিয়ে দেখে যানজটে থমকে আছে সব কিছু। সবাই আগে যেতে চায়, কেউ পারছে না। সামনে বিশ-পঞ্চাশটা গাড়ি গতিহীন, তার পরও পেছনের গাড়ির ড্রাইভারে বারবার হর্ন বাজাচ্ছে। বড়ই গোলমেলে ও বিরক্তিকর। আবু মিয়া ভাবে, ঢাকা শহরের বিবেকবুদ্ধি সবই যেন ক্ষয়ে গেছে। ফুটপাথে স্থির হওয়ার উপায় নেই। চলমান হকার, চা দোকানির দখলিস্বত্ব ফুটপাথকে করে রেখেছে প্রায় অস্তিত্বহীন। পথচারীর ধাক্কাধাক্কি একটা অসহনীয় কাণ্ডকারখানা।
পাবলিকের ধাক্কা খেতে খেতে খানিকটা এগিয়ে যায় সে। এখানেও আছে নানা ধান্ধার লোক। কে কোথা থেকে কাকে টার্গেট করছে বলা মুশকিল। আবু মিয়া বাস থেকে নামার আগেই টাকা-পয়সার অস্তিত্ব যাচাই করে নেয়। পায়জামার ফিতার সাথে এক ভাগ, হাতব্যাগে এক ভাগ, পাঞ্জাবির বুকপকেটে বাজে কাগজের ভেতরে আরেক ভাগ। ঢাকা শহর! আবু মিয়ার অধৈর্যের শহর। ভয় জাগানোর শহর। কোনোভাবে এক ভাগের টাকা মাইর গেলে যেন গন্তব্যে পৌঁছানোর টাকাটা থাকে, সে জন্য বাড়তি সতর্কতা। কত চালই তো চালছে রাজধানীর চালবাজেরা। দু-একবার যে ওদের হাতে মার খায়নি এমন নয়। আবু মিয়া সাবধান। এখানে সাবধানেরও মার আছে, সে জানে। সাবধানতার কারণে পথে কিছু খায়নি। পথখাবারে যে কত রকমের বিক্রিয়ার মিশ্রণ থাকতে পারে, আবু মিয়া জানে। ক্ষুধায় কাতর দেহটাকে ছেলের বাসা পর্যন্ত না নিতে পারলে নিরাপদ ভাবা যায় না। হঠাৎ একটা মোটরসাইকেল ফুটপাথে উঠে গোত্তা মেরে আবু মিয়ার পাছায় মারে এক ধাক্কা। আবু মিয়া কিছুটা উড়ে গিয়ে পড়ে দু’জন পথচারীর ওপর। একজন মাঝবয়সী মহিলা চটে যায়।
-দেহ, বয়স্ক মানুষডা কিডা করে? আরেকজন বলে, হেগো ঢাকায় আওনের দরকারডা কী! মোটরসাইকেল আরোহীর হর্নকে পথচারীরা সমীহ করে রাস্তা ছেড়ে দিচ্ছে। যত দোষ আবু মিয়ার। ধাক্কাও খেলো, পাবলিকের গালও হজম করতে হলো। মোটরসাইকেল আরোহী আবু মিয়ার দিকে তাকিয়ে চড়াগলায় বলেÑ হর্ন দিতাছি, বুইড়া হালার পো হুনে না। তেমন কোনো ব্যথা না পেলেও আবু মিয়া পথচারীদের সহানুভূতি আশা করে।
না তার পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। যেন দোষটা তারই। পথচারীদের আড়চোখের দৃষ্টিতে অযাচিত ব্যক্তির শহরে প্রবেশের প্রতিক্রিয়া। আবু মিয়া সাইড নিয়ে পা ফেলে। এরই মধ্যে প্রথম মোটরসাইকেলের পরপর আরো কয়েকটা মোটরসাইকেল ফুটপাথে উঠে যায়। গোঁ গোঁ করে পাবলিকের গায়ে পায়ে ঘষে বৈতরণী পার পাওয়ার চেষ্টা।
ঢাকা শহরের ফুটপাথ কাদের জন্য, আবু মিয়া দ্বন্দ্বে পড়ে। আপন মনে বলে ঢাকার পাবলিক, অহন বোঝ। আমি তো তিন দিন। পোলাগো বাসায় যামু আর ফিরমু। তোমাগো তো সারা বছর। চোখ বুইজ্যা খাও গুঁতা আর ঠেঙ্গানি। মাগার কিছু কইবা না? আড়চোখে চাইবা বুড়া মানুরে যে ঠেঙ্গানি দিতাছে। তোমরাও খাইবা আরো বেশি বেশি। চিরকালের প্রতিবাদী আবু মিয়া। কিন্তু তার প্রতিবাদের ভাষা উচ্চারিত হয় না, ভেতরে ভেতরেই কল্পনার ঝড় তোলে। পাবলিকের গা বাঁচিয়ে চলা সহজভাবে নিতে পারছে না আবু মিয়া। যেন পালাতে পারলেই বেঁচে যায়। সবাই ফেরারি আসামি মনে হয় তার কাছে।
গ্রামে বুড়া মানুষের ইজ্জত আছে, কথার দাম আছে। অধিকার নিয়ে চলা যায়। একজনের কষ্টে দুঃখে অন্যজনের সহানুভূতি।
বড়ই বিশৃঙ্খল শহরের জীবন। এক শ্রেণীর লোক হুকুম জারি করছে, অন্যেরা প্রতিবাদহীন। বেড়াজালে আটকে আছে তাদের জীবন।
আবু মিয়ার ইচ্ছে হয় না শহরগামী হতে। ছয় মাস পর পর একবার আসতে হয় ছেলেদের বাসায়। তিন ছেলে এক এলাকাতেই তিন বাসায় থাকে। ছেলে-ছেলেবউদের আব্দার। সাথে নাতি-নাতনীদের দেখা। ওরা তো লেখাপড়া, টিভি, ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত। খাবার টেবিলে রাতে সবার সাথে দেখা হয়। ওদের সাথে তাল মিলিয়ে হাই-হ্যালো করে দু-চারটি কথা বিনিময়। ছেলেবউ শ্বশুরের পাতে বড় মাছের মাথাটা সঁপে দিয়ে স্বামীর পুলকিত মনের মাত্রা যাচাই করে।
আবু মিয়ার অমৃতে অরুচি।
-না, Ÿউমা ওদের পাতে দাও। এসব খাওয়ার বয়স এখন ওদের।
বউমার বিগলিত জবাব, বাবা খান আপনি। বাড়িতে কী খান, না খান আমরা তো আর দেখি না।
তিন ছেলের বাড়িতে তিন রাত তিন দিন। পত্রিকার ভাষায়- আবু মিয়ার তিন দিনের প্যাকেজ সফর। তারপর ছাড়া গরুর মতো ফিরে যায় গ্রামের লতাপাতার জীবনে। এখানেই তার প্রকৃত নিঃশ্বাস, এখানেই প্রশান্তি।
স্ত্রী মারা গেছে বছর দশেক আগে। একমাত্র মেয়ে নূরী বিধবা হয়ে সে বছরই এসেছে বাবার বাড়ি। বাবা-মেয়ের ছিন্ন সংসার। তার পরও ভাবে আল্লাহ ভালোই রেখেছেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সাথে শোকরগুজার করেন। মেয়ের ঘরের নাতনী স্কুল পাস দিয়ে বসে আছে। নূরী কিছুতেই ওকে ঘরের বাইরে যেতে দেবে না। চার দিকের যা অবস্থা। কোনো ঘটনা দুর্ঘটনাÑ সারাজীবনের জন্য বধির করে দিতে পারে সংসারকে। মেয়ের বিয়ে দিতে পারলেই যেন বেঁচে যায়।
বছরে একবার ছেলেরা গ্রামের বাড়ি যায়। বাপ-মেয়ের লতাপাতার সংসারে তখন দুধের নহর বয়ে যায়। অবশ্য এটা ছেলেদের কীর্তি। আগেভাগেই বাবাকে জানিয়ে সদাইপাতি করার জন্য টাকা পাঠিয়ে দেয়। বউদের সামনে বাবার সারা বছরের দীনতা চাপা পড়ে যায়। বিধবা মেয়েটি সারাক্ষণ ওদের ফাইফরমাশ নিয়ে ব্যস্ত। ছেলেবউরা শতবর্ষী আমগাছ দুটো ঘুরেফিরে দেখে মূল্য যাচাই করে। ওদের হাবভাব দেখে আবু মিয়ার কলজে শক খায়। না জানি কখন বেচে দিতে বলে। ওরা তো জানে না, এখানেই আবু মিয়ার জান। শ্বশুরের সম্পদের হিসাব-নিকাশ করে ঘুরে ঘুরে ধানক্ষেত, সবজি ক্ষেত দেখে আশ্বস্ত হয়।
বাবার সম্পদে ছেলেদের আগ্রহ কম। আবু মিয়া জমির আইল সীমানা ওদের দেখাতে নিয়ে যায়। ওরা উদাসীন। আবু মিয়া ভাবে, দাদার আমলের দেড় শ’ বছরের পুরনো গাবগাছটা তার মৃত্যুর পর অন্যের হয়ে যাবে। নিজ হাতে লাগানো নারকেল-সুপারি বাগান বেহাত হয়ে যাবে। এরই মধ্যে জাল দলিল, ৩০ ধারা, ৩২ ধারা অনেক হয়েছে। নিজেই সামলে নিয়েছে। ছেলেদের এসব নিয়ে বিরক্ত করেনি। আবু মিয়া জানে, বয়স ৬০ পার হলে কোনো মানুষের ওজর-আপত্তি থাকে না। দুনিয়া হয়ে যায় অসার। পুণ্যের অর্জন কমতে থাকে। মৃত্যুভয় তখন মানুষকে আল্লাহর দিকে এমনিতেই ধাবিত করে, কিন্তু সওয়াব কমে যায়। মানুষের জওয়ানকালের ইবাদতই শ্রেষ্ঠ। তখনকার ইবাদতের মূল্য আল্লার কাছে অনেক বেশি পছন্দনীয়। কখনো সাত গুণিতক, কখনো সত্তর, কখনো সাত শ’ গুণ বেশি।
মেয়ের ঘরের নাতনীর বিয়ের প্রস্তাব আসে। মেয়েটা বাবার অনুমতি নিয়ে বড় ভাবীর কাছে কথা তোলে। ওদের কথা, ভালো হলে আয়োজন করো। তোমার মেয়ে, তোমার পছন্দই জরুরি, আমরা তো এমনি আছি। কথা ও বাস্তবতার মধ্যে একটু ফাঁক থেকে যায়। আবু মিয়া নতুন করে বড় ছেলের মতামত জানতে চায়। বউমা এগিয়ে এসে নিজের মতো করে জবাব দেয়। তা আপনার আর আপনার মেয়ের ব্যাপার। আমরা তো বলতে পারেন মেহমান। আবু মিয়া জানায়, ওরা চাচ্ছে, তোমরা যখন এসে পড়েছ, ওদের সাথে একটু কথা বলে নিলে ভালো হতো। কাল যদি একবার ওদের বাড়ি গিয়ে...।
কাল সকালেই ঢাকায় ফিরতে হবে আমাদের। বড় বউয়ের জোর তাগিদ। ওদের স্কুল খুলবে। আবু মিয়ার মিনতি, বউমা থাক না আরো দুই দিন। তুমিই তো বললে, এবার সাত দিন থাকবে।
না বাবা, ওদের টিচারের ফোন এসেছে। ক্লাস মিসিং ছিল, তাই জরুরি ক্লাস চলবে।
বড় ছেলের জবান বন্ধ। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখায় অজুহাতের ওপর কোনো জোর নেই। আবু মিয়া বুঝতে পারে। নাতনীর বিয়ের প্রস্তাব তাদের মর্যাদার চেয়ে অনেকটা খটো। ভাই-বোনের ব্যবধান বেড়ে যায় অনেক। মেয়েকে তেমন লেখাপড়া করাতে পারেনি আবু মিয়া। স্কুলবয়সেই বিয়ে দিয়ে দেয়। স্ত্রীরও জোর তাগিদ ছিল ছেলেদের লেখাপড়ার প্রতি। আবু মিয়া ফিরে যায় অতীতে। মেয়ে নূরীর প্রতি বড় অন্যায় হয়েছে। এর প্রতিফল আজ চোখের সামনে ভাসছে গাছের মরা কাণ্ডের মতো।
মাঝে মাঝে মন অস্থির হলে আবু মিয়া চলে যায় ঘরের পেছনে দাঁড়ানো জোড়া আমগাছের নিচে। লম্বা শ্বাস নিয়ে ধরে রাখে ফুসফুসে দীর্ঘক্ষণ। যেন সজীব পাতাগুলো সবুজ দম ফিরিয়ে দিচ্ছে তার দিকে। ঝিরঝির বাতাসে গাছের মগডালের পাতা কেঁপে ওঠে। যেন আবু মিয়াকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। ধীর হও, শান্ত হও। জীবনের অবেলায় নিজেকে সংযত রাখাই উত্তম। মনের কুঠুরিতে ক্লেদের গ্লানি মুহূর্তে ধুয়েমুছে যায়। রাতবিরাতে মন অস্থির হলে চলে যায় গাছের তলায়। অবুঝ গাছের দেহটা যেন তার অবলম্বন। গাছ দুটোকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায়। কৃত্রিম রাগ করে বলে তোদের বড্ড বাড় বেড়েছে, আমি কি নাগাল পাই, না জড়িয়ে ধরতে পারি তোদের মোটা দেহ। এ খবর কেউ জানে না। আবু মিয়া অন্ধকারে বা চাঁদনী রাতে গাছের সাথে কথা বলে। ওদের গা চাপড়িয়ে আদর করে। কেউ কেউ পরামর্শ দেয়, তুমি কেন অন্যের দিকে তাকিয়ে আছো। কী হবে এত জমিন দিয়ে, গাছ দুটো বিক্রি করে দাও। ছেলেদের দিকে তাকিয়ে লাভ নেই। ওরা এখন অনেক বড় হয়েছে। ওদের দৃষ্টি অনেক উচ্চতায়, তুমি তো ওদের করুণার পাত্র। আবু মিয়ার কলজে শক লাগে। দাদার হাতে লাগানো গাছ। আমি তাদের গোড়ায় কুড়াল মারতে দেখব। না, না, তা হয় না। তা ছাড়া আমি তো ভালো আছি। চলছি,ফিরছি, কথা বলছি। আল্লাহর কাছে শত হাজার শোকরগুজার করলেও তো দায় শোধ হবে না।
পুকুরঘাটে অজু করতে গিয়ে ওপারে গাছ দুটোর মগডালে তাকায়। তাদের ছায়া দীর্ঘতর হয়ে পুকুরের স্থির জলে ভাসছে। গাছের সবুজ পাতার শত হাজার চোখ যেন তাকে দেখছে ওপার থেকে।
ছেলেপক্ষের জোর তাগিদ। ওরা কিছুই চায় না। শুধু মেয়ের মামারা এসে কথা পাকাপাকি করুক। দু-দশজনে দেখবে, ওদের ইজ্জত বাড়বে। তা ছাড়া নাতনীর বিয়েতে কিছুই দেবে না তা তো হয় না। দশজন লোক দাওয়াত করে খাওয়াবে। মেয়ে সাজিয়ে দেবে। কথার কথা দিয়ে তো বাস্তব চলে না। সমাজেরও তো একটা মানসম্মান আছে। আবু মিয়ার ছেলেদের ভাগ্নির বিয়ে। বিষয়টা এত হালকা ভাবলে চলবে না।
বিয়ের তারিখ ঠিক করে আবু মিয়া ঢাকায় আসে। ছেলে-ছেলেবউদের মুখোমুখি হয়। একে একে সব ছেলে-মেয়ের পরীক্ষা। যাওয়া সম্ভব নয়। টাকা-পয়সারও কোনো মিল হয় না। প্রাইভেট, ফিস, এসব মিলে বড়ই খরচের মাস।
ছোট ছেলের বাসায় শেষরাত গুজরান হয় আবু মিয়ার। ফজরের নামাজ শেষে বড় ছেলের বাসার কাছাকাছি ঘুরপাক খায়। এত ভোরে তো ওরা জাগবে না। মসজিদের পাশে এক চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে থাকে সময়ের অপেক্ষায়। বড় ছেলের বাসার গেটে তাকায় একটু পর পর।
মনে হলো, এবার সময় হয়েছে। আবু মিয়া উঠে দাঁড়ায়। মনকে শক্ত করে পা চালিয়ে দোতলায় ওঠে।
আগামী শুক্রবার বাদ জুম্মা নাতনীর বিয়ের তারিখ। নানার লতাপাতার সংসারে তার কোনো বাক্য নেই। মায়ের জোর তাগিদ, চার দিকে যা হচ্ছে, মেয়ে একটু লায়েক হলেই মায়ের রাতের ঘুম হারাম। কখন যে কী ঘটে যায় কে জানে। সারাজীবনের জমা করা সম্ভ্রম ভাঙতে মুুহূর্ত সময় মাত্র।
আবু মিয়ার বাহু দৃঢ় হয়। বড় ছেলের বাসার ডোরবেলে হাত রাখে। মাথার ভেতর যেন কিছু একটা নড়ে ওঠে। মেয়ে-নাতনীর চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটে। ঘন ঘন বাথরুম করে আলো না জ্বালিয়ে, পাছে ওদের অসুবিধা হয়। কলবেল চাপতে পারছে না আবু মিয়া। স্থির হয়ে আছে তার ডান হাত। মাথায় যন্ত্রণা বেড়ে যায়, নিঃশ্বাসের বায়ু যেন নেই। শহরজুড়ে বায়ুর হাহাকার। চোখের সামনে দুলে ওঠে জোড়া আমগাছের সবুজ পাতার হাজার দৃষ্টি। আবু মিয়াকে ডাকছে। শান্ত হও। শান্ত হও। ফিরে আসো আমাদের সবুজ সান্নিধ্যে। আবু মিয়া সচল হয়। জোড়া আমগাছের সবুজ নিঃশ্বাস যেন তার ফুসফুস ভরে দেয়। আবু মিয়া ডোরবেল থেকে হাত নামিয়ে নেয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫