ঢাকা, সোমবার,২৯ মে ২০১৭

প্যারেন্টিং

শিশুর অস্থায়ী দাঁতের যত্ন

ডা: নাহিদ ফারজানা

১৮ অক্টোবর ২০১৬,মঙ্গলবার, ১৮:২৬


প্রিন্ট

একটি নির্দিষ্ট সময় পরে শিশুর দাঁত পড়ে যায় বলে অনেকেই মনে করে দুধদাঁত হিসেবে পরিচিতি এই দাঁতগুলো নষ্ট হলে তেমন ক্ষতি নেই। কিছু দিন পর স্থায়ী দাঁত উঠবে। এ ধারণাটি ভুল তো বটেই মারাত্মকও। শিশুর প্রাথমিক বা অস্থায়ী (দুধদাঁত) আসলে মোটেই হেলাফেলার নয়। শিশুর স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে চেহারা সারা জীবনের জন্য নির্ধারিত হয় দুধদাঁতের ওপর। অস্থায়ী দাঁত যে কাজগুলো করে তার দিকে একবার নজর দেয়া যাক-
* মুখের গড়ন নিয়ন্ত্রণ করে,
* খাবার খেতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে, যা বাড়ন্ত শিশুর জন্য অপরিহার্য,
* পরে স্থায়ী দাঁত উঠতে ও তা সুন্দর করে সাজাতে সাহায্য করে,
* স্থায়ী দাঁতের গঠন নিয়ন্ত্রণ করে।
বাড়ন্ত বয়সে মুখের স্বাভাবিক সুন্দর গড়ন ও স্থায়ী দাঁতের অবস্থান ঠিক রাখার জন্য শিশুর স্বাভাবিক দাঁত খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি অসময়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে প্রাথমিক দাঁত ফেলা হয়, তবে স্থায়ী দাঁতগুলোর অবস্থান নষ্ট হয় এবং আঁকাবাঁকা বা ফাঁকা হয়ে দাঁত ওঠে। এ রকম দাঁত সৌন্দর্যহানি তো ঘটায়ই পাশাপাশি আঁকাবাঁকা ও ফাঁকা দাঁতের কারণে দাঁত ও মাড়ির অসুখ-বিসুখ অনেক বেশি হয়। আবার শিশু বয়সে দাঁতের ব্যথা কিংবা দাঁত তোলার মতো জটিল প্রক্রিয়াগুলো শিশুর মানসিক অবস্থায় চাপ প্রয়োগ করে। তার মধ্যে সারা জীবনের জন্য ভয় ঢুকে যায়। মানসিক চিকিৎসকদের মতে এ ভয় তাকে কখনো মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়, বড় হলে সে ভীতু ধরনের মানুষে পরিণত হয়। অসময়ে শিশুর প্রাথমিক দাঁত যাতে ফেলতে না হয় তাই শিশুদের দাঁতের যতœ নেয়া অত্যন্ত জরুরি। শিশুর দাঁতে সমস্যা দেখা দিলে তাই প্রথমেই ফেলে দেয়ার চিন্তা না করে কিভাবে রাখা যায় সেটা ভাবুন এবং ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নিন।
দাঁতে ক্যারিক্ত বা ক্ষত হলে যদি চিকিৎসা করা না হয় তবে তা থেকে ইনফেকশন হয়ে তা ওই দাঁতের নিচে বাঁকা (যা স্থায়ী দাঁত হিসেবে পরে উঠবে) স্থায়ী দাঁতেরও ক্ষতি করতে পারে। অনেক সময় এতে স্থায়ী দাঁত উঠতে শুধু বাঁধাগ্রস্তই হবে না, দাঁত নাও উঠতে পারে। তাই দুধদাঁতে ক্যারিজ হলে, দাঁতের মাঢ়ি ফুলে গেলে বা অন্য কোনো সমস্যা হলে আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁত রক্ষা করা সম্ভব এবং এটাই করা উচিত। উন্নত দেশগুলোতে এখন খুব কম ক্ষেত্রেই অসময়ে শিশুর দাঁত ফেলা হয়। আমাদের দেশেও এখন শিশুর দাঁত রক্ষা করার বিভিন্ন চিকিৎসা অনেকেই করছেন।
দাঁত নষ্ট হলে কী করা যায় তা তো জানা হলো তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি শিশুর দাঁত নষ্ট হতে না দেয়া। মনে রাখা দরকার কয়েকটি সহজ নিয়ম মানলেই শিশুর দাঁত নষ্ট হওয়া রোধ করা সম্ভব। অভিভাবকরা সচেতন হলেই হলো। বিশেষ করে শিশুর মা যদি কয়েকটি বিষয়ে সামান্য যত্নবান হোন, তবে শিশুটি দাঁতের অসহ্য যন্ত্রণা, স্বাস্থ্যহীনতা, মুখ মণ্ডলের স্বাভাবিক সৌন্দর্যহানি থেকে সারাজীবনের জন্য বাঁচাতে পারেন।
১. রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই নরম টুথব্রাশের সাহায্যে ব্রাশ করিয়ে দিন এবং এ অভ্যাসটি গড়ে তুলুন। শিশুটি একেবারে ছোট হলে পরিষ্কার ও ভেজা কাপড় দিয়ে দাঁতে লেপে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করে দিন। শিশু নিজে ব্রাশ করলে একবার চেক করে দেখুন ও ভালোভাবে ব্রাশ করেছে কি না।
২. ঘুমন্ত অবস্থায় ফিডার কিংবা বুকের দুধ বা অন্য কোনো খাবার খাওয়াবেন না। এতে দাঁত তো নষ্ট হয়ই শিশুর বদহজম, খেতে অনীহা দেখা দেয়। তাই ঘুমন্ত অবস্থায় ফিডার বুকের দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস পরিবর্তন করুন। বড়দের মতোই নিয়ম করে খাবার দিন।
৩. যদি অভ্যাসটি চেষ্টার পরও পরিবর্তন সম্ভব না হয় তবে প্রতিবার খাবার শেষে পরিমিত পরিমাণ পানি খাওয়ান, পরিষ্কার ও ভেজা কাপড় দিয়ে দাঁতে লেগে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করে দিন। দুধ বা এ জাতীয় খাবার দাঁতে লেগে থাকলেও অনেক সময় দেখা যায় না, তাই বলে পরিষ্কার করে দেয়া থেকে বিরত থাকবেন না।
৪. শিশুরা ভালো করে ব্রাশ করতে পারে না, আবার মিষ্টি ও চকোলেট জাতীয় খাবার বেশি পছন্দ করে, তাই শুধু রাতের বেলা ব্রাশ করলে কার্যকরভাবে অনেক সময় পরিষ্কার হয় না। তাই সকালে নাস্তার পর ব্রাশ করানোর অভ্যাস করালে ভালো হয়।
৫. শিশু বয়সে অতিরিক্ত ছোটাছুটির কারণে অনেক সময় শিশু আঘাত পায়। এমন হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

লেখিকা : কনসালটেন্ট ডেন্টাল সার্জন, নাহিদ ডেন্টাল কেয়ার, ১১৭/১, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
ফোন : ০১৭১২২৮৫৩৭২

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫