ঢাকা, সোমবার,১৮ মার্চ ২০১৯

শেষের পাতা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতি

কিছু নীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে চায়

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

১৫ অক্টোবর ২০১৬,শনিবার, ০০:১২


প্রিন্ট

বাংলাদেশ ও চীন কিছু নীতির ওপর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে চায়। এগুলো হলোÑ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, একে অপরের জাতীয় স্বার্থের প্রতি সম্মান দেখিয়ে উন্নয়নের পথে চলা এবং একে অপরের প্রধান উদ্বেগগুলো নিরসনে সমর্থন প্রদান। ‘একচীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিকে চীন সাধুবাদ জানায়। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে চীনের সমর্থনকে প্রশংসা করে বাংলাদেশ।
দুই দেশ সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা, বিভিন্ন স্তরে সফর বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি এবং জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী মিশনে সহযোগিতা আরো জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। দুই পক্ষ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানিয়েছে। সন্ত্রাস দমন প্রচেষ্টা, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণে সহায়তা করবে চীন। সন্ত্রাস দমনে সংলাপকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের ওপর গত রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোরের গুরুত্বকে উভয় পক্ষ মূল্যায়ন করে। এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে দুই পক্ষ প্রচেষ্টা জোরদার করতে প্রস্তুত রয়েছে। দুই দেশ জাতিসঙ্ঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
বাংলাদেশ ও চীন ওয়ান বেল্ট-ওয়ান রোড উদ্যোগ, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, সমুদ্রখাতে সহযোগিতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে।
চীনের ‘সিল্ক রোড অর্থনৈতিক বেল্ট’ এবং ‘২১ শতকের মেরিটাইম সিল্ক রোড’ (দ্য বিল্ট অ্যান্ড রোড) উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায় বাংলাদেশ। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয় এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে এই উদ্যোগকে একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশ।
দুই দেশ ব্যবসায় ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো গভীর করতে একমত হয়েছে। আর সহযোগিতার মূল ক্ষেত্র হিসেবে অবকাঠামো, শিল্প, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, পরিবহন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃষি খাতকে চিহ্নিত করেছে।
দুই দেশ পায়রায় এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, ছয়টি জাহাজ ক্রয়, পদ্মা সেতু, চার স্তরের জাতীয় তথ্যকেন্দ্রের প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিদ্যুৎ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নদী ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দেয়া ২২টি প্রকল্প সমতা ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে দেশটির উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সম্মত হয়েছে চীন সরকার।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নয়ন সহযোগিতা রূপরেখা চুক্তি সইয়ে দুই পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় চীনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেয়া ও বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের উপায় খুঁজে বের করার সদিচ্ছাকে উভয় পক্ষ স্বাগত জানিয়েছে। এ ব্যাপারে উভয় পক্ষ এশিয়া অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুই পক্ষ চীন-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সমীক্ষা চালাতে সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিজ দেশের উদ্যোক্তদের বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে আসতে চীন উৎসাহিত করবে।
দুই দেশ বিশ্বাস করে, সমুদ্র সম্পদ আহরণে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে সংলাপকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। সমুদ্র অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা দিতে আগ্রহী চীন।
বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে আরো প্রশিক্ষণ প্রদানে চীন তার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। বাংলাদেশের ছাত্র ও কর্মকর্তাদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও বৃত্তি প্রদানের জন্য চীনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
দুই পক্ষ সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদার, জনগণের মধ্যে সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিতে একমত হয়েছে। এ জন্য ২০১৭ সালকে ‘বন্ধুত্ব ও বিনিময়ের বছর’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫