প্রত্যাশার চলচ্চিত্র

অনুপম হায়াৎ

১৯৫৭ সালের আগে বাংলাদেশে চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ-সুবিধাসহ কোনো ফিল্ম স্টুডিও ছিল না। এখানকার শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে তখন চলত মুম্বাই, কলকাতা, লাহোর, করাচি ও হলিউডের চলচ্চিত্র। আমাদের প্রদর্শন বাজার দখল করে রেখেছিল অস্থানীয় চলচ্চিত্র। এ রকম অবস্থায় এক বছর আগে অর্থাৎ ১৯৫৬ সালে স্টুডিও ল্যাবরেটরি ছাড়াই আবদুল জব্বার খান তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক কাহিনী চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’। এটি ছিল এক দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা, ছিল ভাষা আন্দোলনের চেতনার ফসল এবং চলচ্চিত্র সংস্কৃতির দিগন্তে উদিত প্রথম প্রত্যাশার সৃষ্টি। আর ১৯৫৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এফডিসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পূরণ করেন চলচ্চিত্র শিল্পের মহাপ্রত্যাশা।
১৯৫৬ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ৬০ বছর পূর্তি হয় এ দেশের কাহিনীচিত্র নির্মাণের। এ সময়ের মধ্যে আমাদের চিত্রশিল্প বিভিন্ন সঙ্কট-সমস্যা সত্ত্বেও এগিয়েছে, পেয়েছে স্থায়ী ভিত্তি। এ সময়ের মধ্যে মুক্তি পেয়েছে তিন সহস্রাধিক পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র, আর অসংখ্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র। ভালো-মন্দ মিলিয়ে এগুলো আমাদের অর্জন।
নির্মাণ কুশলতা, চলচ্চিত্র, ভাষা, মননশীলতা, বিষয়বস্তুর মৌলিক-গুরুত্ব-মহাত্ম্য, জীবন-সমাজ সংস্কৃতির রূপায়ণ প্রভৃতি বিবেচনায় আমরা কিছু শিল্প শোভন চলচ্চিত্র পেয়েছি। প্রথমে উল্লেখ করতে হয় চিত্রশিল্পের উন্মেষ লগ্নে আখতার জং কার্দার পরিচালিত মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাস অনুসরণে নির্মিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ (১৯৫৯-এর কথা)। পল্লী নদীমাতৃক বাংলার জেলে জীবননির্ভর এই ছবির প্রধান সম্পদ আলোকচিত্র, অভিনয়, শব্দ ও সঙ্গীতের ব্যবহার। এর সাথে জড়িত ছিল বাংলাদেশেরই তারকা-কুশলী। নব্য বাস্তবতাবাদী ধারার অনুসরণে নির্মিত এই ছবি মস্কোসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছে। ফতেহ লোহানীর ‘আসিয়া’ (১৯৬০) পল্লী বাংলার জীবননির্ভর আরেকটি কাব্যিক ব্যঞ্জনাময় সৃষ্টির প্রয়াস। সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালীর’ অনুপ্রেরণায় তৈরি এই ছবিতে বাংলার বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য, সুর ও সঙ্গীত, অর্থবোধক প্রতীক, সহজ-সরল বাস্তব অভিনয় ধৃত হয়েছে। ‘আসিয়া’ ওই সময় ‘প্রেসিডেন্ট পদক’ পেয়েছিল শ্রেষ্ঠ বাংলার চলচ্চিত্র হিসেবে। চিত্রশিল্পের উন্মেষলগ্নে আর একজন নির্মাতা সালাউদ্দিনের ‘যে নদী মরুপথে’ (১৯৬১), ‘সূর্যস্নান’ (১৯৬২) এবং ‘ধারাপাত’ (১৯৬৩) ও নির্মাণে এবং বক্তব্যে উজ্জ্বল। এর মধ্যে ‘সূর্যস্নান’ এ পুঁজি ও শোষণের দৌরাত্ম্য এবং শ্রমিক-মালিক সঙ্ঘাতের দিকটি বাস্তবতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটি বিদেশে প্রদর্শিত হয়ে প্রশংসা পেয়েছে।
আদি পর্বের আরেক নির্মাতা জহির রায়হান ছিলেন রাজনীতি ও সমাজ সচেতন চলচ্চিত্রকার। চলচ্চিত্রের ভাষা এবং আঙ্গিক সম্পর্কে ছিল তার জ্ঞান। তার ‘কখনো আসেনি’ (১৯৬১), ‘কাঁচের দেয়াল’ (১৯৬৩), ‘বেহুলা’ (১৯৬৬), ‘আনোয়ারা’ (১৯৬৭) ও ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০) এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘স্টপ জেনোসাইড’ (১৯৭১), ‘এ স্টেট ইজ বর্ন’ (১৯৭১) বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মূল্যবান সংযোজন। তার ‘কখনো আসেনি’ কিছুটা পরাবাস্তবধর্মী। এতে মধ্যবিত্তের অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং তথাকথিত উচ্চবিত্তের হেঁয়ালিপূর্ণ শিল্পপ্রীতি ও আচরণ তুলে ধরা হয়েছে নিখুঁত আলোকচিত্র, বাস্তব অভিনয় সুনিপুণ সম্পাদনের মাধ্যমে। ‘কাঁচের দেয়াল’ এ ক্ষয়িষ্ণু মধ্যবিত্ত জীবনের মূল্যবোধ, লাভ এবং লোভ চলচ্চিত্রের ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
‘কাঁচের দেয়াল’ পাকিস্তান চলচ্চিত্র উৎসবে (১৯৬৫) কয়েকটি শাখায় পুরস্কৃত হয়েছিল। তাঁর ‘বেহুলা’ হিন্দুপুরান নির্ভর অসাম্প্রদায়িক চেতনার চলচ্চিত্র। ‘আনোয়ারা’ (১৯৬৭) নির্মিত হয়েছে নজিবর রহমান সাহিত্যেরতেœর উপন্যাস অবলম্বনে। উনিশ শতকের বাংলার মুসলমান সমাজজীবনকে জহির রায়হান চলচ্চিত্রের ভাষায় সার্থকভাবে তুলে ধরেছেন বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়।
পাকিস্তানি আমলের শোষণ, বঞ্চনার প্রতিবাদ, গণ-আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন এবং মহান ভাষা আন্দোলন একুশে ফেব্রুয়ারির বিভিন্ন কার্যক্রমকে জহির রায়হান তুলে ধরেছেন ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০) মাধ্যমে। এটি পারিবারিক ঘটনার আড়ালে একটি রাজনৈতিক চলচ্চিত্র। মুক্তিযুদ্ধে জহির রায়হানের পরিচালনা ও প্রযোজনায় তৈরি প্রামাণ্য চলচ্চিত্রগুলোও নান্দনিক অর্জনের সোনালি স্বাক্ষর হয়ে আছে।
সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ (১৯৬৪) গ্রামীণ ও শহরে জীবনের রোমান্টিকতা ও বেদনামিশ্রিত সরল চিত্রায়ন। ছবিটি ফ্রাংকফুর্ট এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবে ওই সময় পুরস্কার পেয়েছিল। সুভাষ দুত্তের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘অরুণদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ (১৯৭২) এবং আশরাফ সিদ্দিকীর ছোটগল্প নিয়ে নির্মিত ‘ডুমুরের ফুল’ সৃজনশীল চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃত। বেবী ইসলামের ‘তানহা’ (১৯৬৪) ম্যাক্সিম গোর্কির ‘অরফান বয়’ গল্পের চিত্রায়ন। ‘তানহা’র আলোকচিত্র এ দেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নান্দনিক নিদর্শন হয়ে আছে। ‘জাগো হুয়া সাভেরা’র পথ ধরে যে চলচ্চিত্রটি নব্যবাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নান্দনিকতার বলিষ্ঠ স্বাক্ষর হয়ে আছে সেটি হুমায়ুন কবীরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সাদেক খানের ‘নদী ও নারী; (১৯৬৫)। প্রতিকূল পরিবেশে গ্রাম বাংলার নদী ও নারীকে নিয়ে লাভ, লোভ, হিংসা, সহমর্মিতার এক ধ্রুপদ রূপায়ণ ঘটেছে এই চিত্রে। চিত্র ভাষার সার্থক প্রয়োগ, ফাশ ব্যাক পদ্ধতি ও বিভিন্ন শটের ব্যঞ্জনাময় প্রয়োগ, শব্দ ও সঙ্গীতের সুষম ব্যবহার, সংলাপ ও অভিনয়ের স্বাভাবিকতা বজায়, প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলি চিত্রায়ন, নদীতে কুমির মারার দৃশ্য, ‘নদী ও নারীকে’ দিয়েছে বিশিষ্টতা।
অভিনেতা-নায়ক-সঙ্গীত পরিচালক খান আতউর রহমান ঐতিহাসিক নাটক, ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ (১৯৬৭) চলচিত্রায়িত করেন। নির্মাণ কুশলতার চেয়ে এ ছবির আবেদন বাঙালির রাজনৈতিক আবেগের সাথে জড়িত। তার উর্দু ছবি ‘সোয়ে নদীয়া জাগে পানি’ গ্রাম বাংলার আবহে সুনির্মিত পরিচ্ছন্ন চিত্র। খান আতা মুক্তিযুদ্ধোত্তর পরিবেশে উচ্ছন্নে যাওয়া তরুণদের পুনর্বাসনের প্রেক্ষাপটে ‘আবার তোরা মানুষ হ’ (১৯৭৩) এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘এখনো অনেক রাত’ (১৯৯৭) নির্মাণ করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে নান্দনিক অর্জনের আরেকটি সুযোগ ও প্রত্যাশার সৃষ্টি করে। সত্তর দশকে আমরা পেয়েছি কিছু চলচ্চিত্র যা সৃজনে, মননে, বিষয়ের মাহাত্ম্যে উজ্জ্বল। মুক্তিযুদ্ধ এবং সাহিত্য দুটোই মহত্তম বিষয়। এ দুটো বিষয় নিয়ে কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে খ্যাতি পেয়েছেন চাষী নজরুল ইসলাম। তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম কাহিনীচিত্র ‘ওরা ১১ জন’ (১৯৭২) প্রচলিত ধারায় নির্মিত হলেও এ ছবিতে ব্যবহৃত প্রত্যক্ষ যুদ্ধের দৃশ্য ও নারীদের নির্যাতন প্রামাণ্য দলিল হয়ে আছে। তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘সংগ্রাম’ ও মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর চিত্র। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চাষী পরবর্তীকালে আরো কয়েকটি চিত্র বানান। এসব চিত্রে নানা চলচ্চিত্রিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শন হিসেবে আলোচিত হয়ে থাকবে। তার শরৎ সাহিত্যভিত্তিক ‘দেবদাস’, ‘চন্দ্রনাথ’, ‘শুভদা’, রবীন্দ্র সাহিত্যভিত্তিক ‘শান্তি’ ও ‘সুভা’ এবং বঙ্কিমের ‘বিষবৃক্ষ’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র আমাদের শালীন সঞ্চয় হয়ে আছে।
অভিনেতা, কাহিনীকার আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘নয়নমণি’ (১৯৭৫), ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ (১৯৭৮), ‘ভাত দে’ (১৯৮৭) চিত্রে গ্রামের কুসংস্কার নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে। কলকাতার প্রখ্যাত দুই চলচ্চিত্রকার ঋত্মিক ঘটক ও রাজেন তরফদার বাংলাদেশে এসে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ঋত্বিকের অনবদ্য নান্দনিক প্রয়াস হচ্ছে অদ্বৈতমল্লবর্মনের ধ্রুপদী উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ (১৯৭২)-এর চলচিত্রায়ন। এ ছবিতে নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবনের আশা-হতাশা ও অস্তিত্বের প্রতিফলন ঘটেছে। নরেন্দ্রনাথ মিত্রের গল্প নিয়ে রাজেন তরফদারের ‘পালংক’ও সৃজনশীল চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ (১৯৯৫) একটি মাইলস্টোন।
চলচ্চিত্র সমালোচক শিক্ষক আলমগীর কবির নির্মাণ করেন ‘ধীরে বহে মেঘনা’ (১৯৭৩), ‘সূর্যকন্যা’ (১৯৭৫), ‘সীমানা পেরিয়ে’ (১৯৭৭), ‘রূপালী সৈকতে’ (১৯৭৯) প্রভৃতি চিত্র। এসবের মধ্যে তার ‘ধীরে বহে মেঘনা’ ও ‘রূপালী সৈকতের’ বিষয় ইতিহাস ও মুক্তি সংগ্রাম নির্ভর। তিনি এই চিত্র দুটো নির্মাণ করেছেন সিনেমা ভেরিতে স্টাইলে। স্বাধীন বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের ইতহাসের নান্দনিক তালিকায় সবচেয়ে বড় সংযোজন হচ্ছে শেখ নিয়ামত আলী ও মসিহ উদ্দীন শাকের পরিচালিত ‘সূর্যদীঘল বাড়ী’ (১৯৭৯)। আবু ইসহাকের প্রখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি দেশ-বিদেশে মানবিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। চলচিত্রের ভাষায় বাস্তবতার নিখুঁত রূপায়ন ঘটেছে এই চিত্রে।
শেখ নিয়ামত আলীর অপর চিত্র ‘দহন’ এবং ‘অন্য জীবন’ও সৃজনশীল চিত্র হিসেবে স্বীকৃত। মোরশেদুল ইসলামের ‘আগামী’ (১৯৮৪) ও ‘চাকা’ (১৯৯৩) চলচিত্রের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য সংযোজন। ‘চাকার’ কাহিনীতে রয়েছে গাড়িতে লাশ নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঠিকানা খুঁজে ফেরা। এ ছবির দৃশ্যায়ন, শব্দের ব্যবহার, অভিনয়, নির্মাণ কুশলতার স্বাক্ষরবাহী। তার ‘দুখাই’, ‘দীপু নাম্বার-২’ এবং ‘দূরত্ব’, ‘আমার বন্ধু রাশেদ’, ‘অনিল বাগচীর একদিন’ সৃজনশীল চিত্র হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নান্দনিক অর্জন তালিকায় রয়েছে তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’, ‘চিত্রানদীর পারে’, ‘নদীর নাম মধুমতি’, ‘লাল সালু’, ‘লালন’ এবং তারেক মাসুদের ‘মুক্তির গান’ ও ‘মাটির ময়না’ ও ‘রানওয়ে’। রুচি ও সৃজনশীল চিত্রের মধ্যে আরো রয়েছে হারুন-অর-রশীদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘মেঘের অনেক রং’, কবীর আনোয়ার এর ‘সুপ্রভাত’, আব্দুস সামাদের ‘সূর্য সংগ্রাম’, শিবলী সাদিকের ‘নোলক’, বাদল রহমানের ‘এমিলের গোয়েন্দা কাহিনী’, সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকির ‘ঘুড্ডি’, নাসিরউদ্দিন ইউসুফের ‘একাত্তরের যীশু’ ও ‘গেরিলা’, আব্দুল্লাহ আল-মামুনের ‘সারেং বউ’, হুমায়ুন আহমেদের ‘আগুনের পরশমণি’, শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘শ্যামল ছায়া’, আবু সায়ীদের ‘শংখনাদ’, তৌকির আহমেদের ‘জয়যাত্রা’, ‘দারুচিনির দ্বীপ’, বেলাল আহমেদের ‘নন্দিত নরকে’, গোলাম রব্বানীর ‘স্বপ্নডানায়’, ‘বৃত্তের বাইরে’, গিয়াস উদ্দীন সেলিমের ‘মনপুরা’, গাজী রাকায়েতের ‘মৃত্তিকা মায়া’ প্রভৃতি।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে কয়েকজন নারী নির্মাতাও রেখেছেন সৃজনশীল অবদান। এদের মধ্যে রেবেকা (বিন্দু থেকে বৃত্ত), শামীম আখতার (ইতিহাস কন্যা, শিলালিপি), কবরী (আয়না), সুচন্দা (হাজার বছর ধরে), সুজাতা (অপর্ণ), নারগিস আখতার (মেঘলা আকাশ), ফওজিয়া খান, শবনব ফেরদৌসী, শাহনেওয়াজ কাকলী (উত্তরের সুর) প্রমুখের কথা উল্লেখযোগ্য।
পরিশেষে এই নিবন্ধের ইতি টানতে চাই এই বলে যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বর্তমান ও ভবিষ্যতের নির্মাতারা বাংলাদেশের জীবন, সমাজ ও সংস্কৃতিনির্ভর বিষয়বস্তু নিয়ে নান্দনিক আঙ্গিকে আরো বেশি করে প্রত্যাশার চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.