ঢাকা, শুক্রবার,২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

হিন্দুত্ব ভিত্তির ভারত রাষ্ট্রকে বদলাবে কে

গৌতম দাস

১৪ আগস্ট ২০১৬,রবিবার, ১৭:৩৯ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০১৬,সোমবার, ০৭:২৫


গৌতম দাস

গৌতম দাস

প্রিন্ট

ভারত-রাষ্ট্রের ভিত্তি হিন্দুত্ব। এটা বিজেপি ও কংগ্রেস উভয়েরই অবস্থান। সর্বভারতীয় দুই দলই এই অবস্থান সঠিক মনে করে, মেনে চলে। বরং এর কোনো বিচ্যুতি ঘটছে মনে হলে হই চই করে একে অপরকে দোষারোপ করে। কেন করে? কারণ তাদের চোখে মনে হয়, অন্তত প্রায় ২৯টা ভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন কিসিমের ভিন্নতার মানুষের এত বিশাল জনসংখ্যাকে কী দিয়ে একত্রে ধরে রাখা হবে বা যাবে? যথেষ্ট বাছবিচার ছাড়াই তাদের ধারণা ‘হিন্দুত্ব’ সেই সুপার গ্লু। তাদের সব আশঙ্কার সমাধান। দু’দলই এ জায়গায় ঐকমত্য। আর অন্যদের মধ্যে অন্তত ‘বাস্তববাদী’ সিপিএমও দু’দলের মতো করে ভাবে ও মান্য করে যে ধন্বন্তরি ওষুধ বা সুপার গ্লুর নাম হিন্দুত্ব। কিন্তু প্রকাশ্য এসব দল বলে কি না তা ভিন্ন বিষয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রের ভিত্তি হিন্দুত্ব- কংগ্রেস ও বিজেপির এ ব্যাপারে একমতে মেনে নেয়ার পরও প্রত্যভাবে হিন্দুত্ব ভিত্তির ভারত-রাষ্ট্রের কথা বাইরে প্রকাশ বা স্বীকার করা ঠিক হবে কি না- এই প্রশ্নে কংগ্রেস ও বিজেপির ভিন্নতা শুরু। কংগ্রেস মনে করে এ ব্যাপারে কৌশলী হওয়ার দরকার আছে। কথাটা সেকুলারিজমের ভেক ধরে বলতে হবে। বলতে চাইতে হবে হিন্দুত্ব কিন্তু মুখে বলতে হবে সেকুলারিজম। অন্তরের গভীরে হিন্দুত্ব রেখে দিতে হবে। উপরে সেকুলারিজমের জামা গায়ে দিয়ে এর আড়ালে বসে মুখে সেকুলারিজম বললে হিন্দুত্বের ফল পাওয়া যাবে, আনা যাবে। বিপরীতে বিজেপি মনে করে, সেকুলারিজমের আবার কী দরকার? হিন্দুত্বকে রাষ্ট্রভিত্তি হিসেবে মানতে পারলে বলতে পারব না কেন? বরং বোকা হয়ে লাভ নেই।
হিন্দুত্ব গর্বকে বুক উঁচা করে সামনে আনলে এই ‘আইডেন্টিটির রাজনীতি’ কংগ্রেসের উপরে তাদেরকে একটা এক্সট্রা মাইলেজ দেবে। কারণ হিন্দু কনস্টিটুয়েন্সিতে এটা খুবই ফলদায়কভাবে মানুষের মনে সুড়সুড়ি লাগানোর মতা রাখে। ভারতের সেকুলারিজম সত্যিই এমন এক তামাসার নাম।
এবার ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোদির বিজেপি মতার আসার পর থেকে বিজেপির মূল দল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) এর এক নির্ধারিত কর্মসূচি ‘ঘর ওয়াপাসি’ চালু করে। এমন কর্মসূচির পে যুক্তি হলো ভারতে হিন্দু ছাড়া অন্য ধর্মের যারাই আছে তারা কোনো না কোনো সময়ে হিন্দু থেকেই ধর্মান্তরিত। তাই এই যুক্তিতে আরএসএস-বিজেপি তাদের ‘ওয়াপাস’- ফিরিয়ে আনার প্রচার প্রপাগান্ডার কর্মসূচি নিতে পারে, জোর করতে পারে, বিজেপি সরকারের প্রটেকশনে হয়রানি করতে পারে, পাবলিক নুইসেন্স করতে পারে, সব পারে। এই এক কাজে তাদের অনেক কাজ হবে। হিন্দুত্বের জয়জয়কার হবে, ভোটের বাক্সও ভরে উঠবে। আবার বাড়তি লাভ হলো কংগ্রেসও ভয়ে সিটিয়ে কেঁচো হয়ে থাকবে। কারণ এতে কংগ্রেসকে খুব সহজে উভয় সঙ্কটের ঝামেলায় ফেলা যায়। কংগ্রেস ভাবে ঘর ওয়াপাসির বিরোধিতা করতে গেলে হিন্দুত্বের ভোটার কনস্টিটুয়েন্সি বিগড়ে গিয়ে যদি কংগ্রেসকে ভোট না দেয়! এই ভয়ে কিছু না বলে সে চুপ থাকে।
আসলে বিজেপি এ জায়গায় স্মার্ট ও সৎ। দলটি হিন্দুত্বের রাষ্ট্র চায়, হিন্দুত্বের রাজনীতি করে এবং প্রকাশ্যে সৎভাবে তা বলে। আর স্মার্ট এ জন্য যে বিজেপি নেতারা বুঝে গেছে কংগ্রেসকে এভাবে উভয় সঙ্কটের সমস্যায় জব্দ করা সহজ। এর পরেও আসলে মূল বিষয় এখানে কনস্টিটুয়েন্সি। কনস্টিটুয়েন্সি মানে ভোটারদের ক্যাটাগরি বা গ্রুপ অথবা ভোটার এলাকা; যারা কোন্ কথা, কোন্ দাবি অথবা কোন্ ইস্যুর পরে ভোটার- এই অর্থে এককথায় কোন ক্যাটাগরির ভোটদাতা, কোন ভোটারদের গ্রুপে একে ফেলা যায় এই অর্থে ‘ভোটার কনস্টিটুয়েন্সি’।
আগেই বলেছি কংগ্রেস ও বিজেপি উভয়েই একমত যে হিন্দুত্ব ভিত্তিতে ভারত-রাষ্ট্র থাকুক এবং থাকতে হবে। আর এর স্বপে তাদের কমন ন্যায্যতা হলো যে এটা না হলে ভারতকে এক রাখা, একভাবে ধরে রাখার আর কোনো উপাদান নেই। কারণ রাষ্ট্র বলতে এরা একমাত্র এই ‘আইডেন্টিটি-ভিত্তিক রাষ্ট্রই কল্পনা করতে সম। অন্য কোনো রাষ্ট্র হওয়া আদৌ সম্ভব কি না নেহরুর জমানা থেকেই এটা নিয়ে তাদের হোমওয়ার্ক বা পড়াশোনা আছে বলে জানা যায় না। এর বাইরে তাদের কল্পনা এগোয়নি। বরং আইডেন্টিটি-ভিত্তিক হিন্দুত্ব চিন্তার সুড়সুড়ি জাগাবার মতা তো সীমাহীন। তাই সেটার প্রতি লোভে সবার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠে। তো সারকথা দাঁড়াল উপরের সেকুলার পর্দা সরিয়ে ফেললে কংগ্রেস ও বিজেপির ভোটার কনস্টিটুয়েন্সি আসলে একই। এই হলো সমস্যার গোড়া। কেন? কোনো রাজ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে অথবা সাধারণভাবে বিজেপি যখন ‘ঘর ওয়াপাসি’ ধরনের কর্মসূচি চালাতে নেমে পড়ে তখন কংগ্রেস এর কোনো বিরোধিতা করতে পারে না। কারণ ‘ঘর ওয়াপাসি’ কর্মসূচি তো ‘হিন্দুত্ব-ভিত্তিক ভারত-রাষ্ট্র ধারণার’ সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণতার দিক থেকে সবচেয়ে পারফেক্ট। আসলে কংগ্রেস সেকুলারিজম স্ট্র্যাটেজিতে নিজেকে সাজিয়েছিল এই মনে করে যে কোনো হিন্দু বিশেষত শিতি হিন্দু বুঝবে তার হিন্দুত্বটা সেকুলারিজমের মোড়কে ‘ব্র্যান্ড করে’ প্রকাশ করাটা হবে সবচেয়ে লাভের। কারণ এতে সরাসরি হিন্দুত্ব ভোটার কনস্টিটুয়েন্সিকে তো পাওয়াই যাবে। সেই সাথে সেকুলারিজমের জামা পরা ভোটার কনস্টিটুয়েন্সি আর অ-হিন্দু (মুসলমান বা খ্রিষ্টানসহ অন্য ধর্মাবলম্বী) ভোটার কনস্টিটুয়েন্সিকেও পাওয়া যাবে কংগ্রেস অনেক আগে থেকেই এসব অনুমানের ওপর সাজানো। কিন্তু বিজেপির ঘর ‘ওয়াপাসি’ কর্মসূচির সামনে কিছু বলতে না পারায় মুখ বন্ধ রাখায় কংগ্রেসের কাক্সিক্ষত তিন ভোটার কনস্টিটুয়েন্সিই দলটির ওপর বেজার হচ্ছে। কারণ প্রথম, সরাসরি হিন্দুত্ব ভোটার কনস্টিটুয়েন্সি- এরা মনে করে কংগ্রেসের তুলনায় বিজেপিই ভালো ও সঠিক। সেকুলারিজমের জামা পরা ভোটার কনস্টিটুয়েন্সিতে যারা পড়ে এদের মধ্যে পশ্চিমা জীবনকে আদর্শ মানা ধরনের আধুনিক ভোটাররা এমনিতেই গণমানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে, এ ছাড়া এরা নিজের ‘কাস সচেতনতার’ কারণেও নিজেই আলাদা ও বিশেষ হয়ে থাকতে চায়। এরা ঘর ‘ওয়াপাসি’র মতো কর্মসূচির সামনে নিজেই অসহায় মার্জিনালাইজ বোধ করে। আর তৃতীয় অ-হিন্দু (মুসলমান বা খ্রিষ্টানসহ অন্য ধর্মের অনুসারী) ভোটার কনস্টিটুয়েন্সির ঘর ওয়াপাসি দেখে হতাশ হয়ে কংগ্রেসকেই অভিশাপ দিতে থাকে যে কংগ্রেস ‘সেকুলারিজমে’ সিরিয়াস না। এবার গত মে মাসে সমাপ্ত আসামের নির্বাচনের এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে হিন্দুত্বের ভোটাররা কংগ্রেস ছেড়ে কিভাবে বিজেপিমুখী হয়েছে।
তবে এর ব্যতিক্রম কী হতে পারে তা বোঝার জন্য কাছাকাছি সবচেয়ে ভালো উদাহরণ সম্ভবত মমতা বা তার তৃণমূল কংগ্রেস। বিশেষত গত মে মাসে রাজ্য নির্বাচনের তার বিজয়ের পরিপ্রেেিত। ‘হিন্দুত্ব-ভিত্তিক ভারত-রাষ্ট্র ধারণার’ প্রশ্নে মমতার অবস্থান কী? মমতা তত্ত্ব জানে না, তত্ত্ব করে না, তত্ত্বের বড়াইও নেই। মমতাকে সম্ভবত মাঠে ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট’ দেখার ভিত্তিতে চলা পপুলার রাজনীতিক বলা সঠিক হবে। ফলে তাকে বুঝতে হবে তার বাস্তব তৎপরতা দিয়ে। প্রথমত তিনিই দেখালেন সেকুলারিজম নামের ছলনা না করেও প্রায় ত্রিশ ভাগ মুসলমান ভোটার কনস্টিটুয়েন্সিরও নেতা হওয়া সম্ভব। মমতা আজ পর্যন্ত সেকুলারিজমের কথা উচ্চারণ করেননি। কিন্তু তিনি তাই করেছেন। গত রাজ্য নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের দিন নিজ দল আবার বিজয়ী জানার পরের মিডিয়া মন্তব্যের কোথাও এই বিজয়কে সেকুলারিজমের জয় বলার দরকার মনে করেননি। বরং বলেছেন, বিজেপি হিন্দুত্বের কথা তুলে সব কিছুকে ভাগ করে এটা তার অপছন্দ। আবার বিগত ২০১৪ সালে বর্ধমানে কথিত জঙ্গি বোমা ইস্যুতে মুসলমানবিদ্বেষী ও তৃণমূলবিরোধী যে আবহাওয়া তৈরি করা হয়েছিল, বিজেপির অমিত শাহ তা করেছিল আর লজ্জার মাথা খেয়ে কংগ্রেস ও সিপিএম এতে তাল দিয়ে নিজের রুটি সেঁকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ২০১৬ সালের রাজ্য নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করেও ফলাফল প্রকাশের দিন তবুও তৃণমূল দল অথবা মুসলমান ভোটার কনস্টিটুয়েন্সি সংযত আচরণ করেছে। বলে নাই যে মুসলমানেরা ‘এবার দেখিয়ে দিয়েছে’, ‘বর্ধমান ঘটনার প্রতিশোধ নিয়েছে’ এ ধরনের ইঙ্গিতও প্রকাশ করে নাই। মমতার ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতি বছর ২১ জুলাই দলের ১২ কর্মী হত্যার বিরুদ্ধে ‘শহীদ দিবস’ পালন করে থাকে। এবারের ২১ জুলাই দলীয় কর্মসূচির জনসভায় মমতার শিরোনাম বক্তৃতা ছিল, ‘ছাগল মুরগি খেলে দোষ নেই। গরু খেলেই দোষ! কেউ নিরামিষ খান। তাই বলে যারা আমিষ খান তাদের আক্রমণ করবেন? শাড়ি-ধুতিতে দোষ নেই। যত অপরাধ সালোয়ার-কামিজ আর লুঙ্গিতে?’ এ ছাড়া নাম না ধরেই বিজেপির বিশেষায়িত দল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক দলের (আরএসএস) সম্পর্কেও কথা বলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘ভারতবাসী কী পরবে, কী খাবে- সেগুলো ঠিক করে দেবে একদল লোক?’। এসব বক্তব্যের ভেতর দিয়ে ‘হিন্দুত্ব-ভিত্তিক ভারত-রাষ্ট্র ধারণার’ বিরুদ্ধে মমতার আপত্তি বুঝে নেয়া যায়। তবে এটা মমতাকে আদর্শ বলে উপস্থাপন করার চেষ্টা মনে করলে ভুল হবে। মমতার রাজনৈতিক ঝোঁকটার ভেতরে ‘রাষ্ট্র হিন্দুত্ব-ভিত্তিতে হতে হবে- এমন চিন্তার বাইরে থাকার চেষ্টা আছে। যদিও তা শেষে কোথায় যাবে তা এখনই বলতে চাওয়া ভুল হবে।
ইতোমধ্যে মোদির বিজেপি গরু খাওয়া, জবেহ ইত্যাদি নিয়ে আর এক তুলকালাম ‘গোরা কর্মসূচি’ চালিয়ে যাচ্ছিল। এটা কেন্দ্র বা মোদি সরকারের কোনো আইন নয়। মহারাষ্ট্রসহ আরো কিছু রাজ্যের আইন। অর্থাৎ এটা স্থানীয় আইন বাকি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য তা পালনীয় নয়। কিন্তু মোদি সরকার বা খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে সক্রিয়। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে তিনি বিএসএফকে ‘গোরার’ পে উদ্বুদ্ধ করে গেছেন। যেসব রাজ্যে গোরার এমন আইন নেই সেখানেও তা ঠেকাতে বিজেপি কর্মীরা মাঠে ‘গোরক’ সেজে নেমে জনগণকে নাজেহাল করছে। মধ্যপ্রদেশে দুই মহিলাকে তারা মাংস বহন করছিলেন অজুহাতে তাদেরকে নির্যাতন, নাজেহাল করেছে। দিল্লির শহরতলির ভেতর চলাচলকারি ট্রেনে এমনকি ডিম হাতে নিয়ে কোনো যাত্রী তা বহন করতে পারবেন কি না এটাও এখন ট্রেন কোম্পানি ও পুলিশের ইস্যু। অথচ হিন্দুত্বের দলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার কমিশন, নির্বাচন কমিশন অথবা উচ্চ আদালতে এসব জাতিগত বিদ্বেষের আচরণ এবং সম্প্রদায়গত বিভেদ-বিদ্বেষ ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ করার সুযোগ আছে। কিন্তু হিন্দুত্ব-ভিত্তিক ভারত-রাষ্ট্র এতই সেকুলার যে অভিযোগ করার কাউকে আমরা দেখি না। বিজেপিকে থামানোর কেউ নেই। এটা প্রমাণ করে ভারত-রাষ্ট্রের হিন্দুত্বের ভিত্তি কত বেপরোয়াভাবে প্রভাব বিস্তার করছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ গত ৬ আগস্ট থেকে কিছু উল্টা হাওয়া বইতে দেখা যাচ্ছে। খোদ মোদি এ দিন নিজেই নিজের দলীয় ‘গোরকের’ বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাদেরকে ‘সমাজবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘এরা বেআইনি কাজকারবারে জড়িত!’ ‘নিজেদের ‘কালো ধান্ধা’ ধামাচাপা দিতেই গোরকের মুখোশ পরে নতুন ব্যবসা শুরু করেছে’। মোদির কথায়, ‘এসব দেখে আমার প্রচণ্ড রাগ হয়।’ কিন্তু হঠাৎ এই গেম চেঞ্জ কেন? ভারতের মিডিয়া আসন্ন উত্তর প্রদেশের প্রাদেশিক বা বিধানসভা নির্বাচনকে এর পেছনের কারণ বলে ব্যাখ্যা করছেন। ওখানে ভারতের প্রকট জাত বর্ণের বিভক্তিতে ডুবে থাকা সমাজের দলিত, চর্মকার, ঋষি, কসাই, মাংস ব্যবসায়ী, গরু ব্যবসায়ী ইত্যাদির সমাজÑ এরা ভোটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওদের ভোট ছাড়া নির্বাচন বৈতরণী পার হওয়া যাবে না টের পেয়েই নাকি এমন বদল। জনবিন্যাস ও গঠনপ্রকৃতির দিক থেকে উত্তর প্রদেশের সাথে লাগোয়া বিহার রাজ্যের অনেক মিল আছে। গত বছরের শেষে বিহারের নির্বাচনের সময়ও একইভাবে ‘গোরা’ ইস্যু চলছিল। ওই নির্বাচনে বিজেপির শোচনীয় পরাজয় হয়। মোদি মতায় পর সবচেয়ে বড় ধসের পরাজয় সেটা। ফলে একই শঙ্কা মোদিকে স্পর্শ করেছে মনে হচ্ছে। ফলে মনে হচ্ছে, এই নির্বাচনে ভোট-রাজনীতি ভারত-রাষ্ট্রের হিন্দুত্বের-ভিত্তি স্থায়ীভাবে না হলেও সাময়িকভাবে দুর্বল করবে। তবে আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে বিজেপির হার-জিত ভারতে বিজেপি শাসনের ভবিষ্যৎ নির্ধারক উপাদান হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে বলছেন, উত্তর প্রদেশের হার মোদি সরকারের আগামীতে দ্বিতীয়বার সরকারে না আসার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫