ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

উপসম্পাদকীয়

অপরাধ হয়ে থাকলে ছাড় কেন?

ইকতেদার আহমেদ

০৪ জুলাই ২০১৬,সোমবার, ১৮:০৪ | আপডেট: ০৪ জুলাই ২০১৬,সোমবার, ১৯:৩৪


ইকতেদার আহমেদ

ইকতেদার আহমেদ

প্রিন্ট

প্রথম আলো পত্রিকায় গত ২৮ জুন, ২০১৬ ‘বাবুল চাকরিতে ফিরছেন না’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়, ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসা করার সময় বাবুল আকতারকে দু’টি শর্ত দিয়ে বলা হয়- কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততা বিষয়ে সব তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। আর তাই হয় তাকে জেলে যেতে হবে, অথবা বাহিনী থেকে সরে যেতে হবে। সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, বাবুল আকতার বাহিনী ছেড়ে চলে যেতে সম্মত হয়েছে।
উল্লিখিত শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার নামোল্লেখ করা হয়নি। আইন সম্পর্কে জ্ঞাত পুলিশ বিভাগে কর্মরত এমন কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিজ নামে বা নাম না প্রকাশ করার শর্তে এমন কথা বলতে পারেন এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমাদের দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যেকোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে এর দায় তার ওপর বর্তায়। আর অপরাধটি হত্যাকাণ্ডের মতো বড় অপরাধ হলে এটি রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। এরূপ অপরাধের বিচারের দায়িত্ব রাষ্ট্র বহন করে। তা ছাড়া বিচার পূর্ববর্তী তদন্ত রাষ্ট্রীয় সংস্থা পরিচালনা করে এবং বিচার চলাকালীন রাষ্ট্র নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নেন।
আমাদের তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী সরকারের প্রতিটি বিভাগ ও কার্যালয়ের পক্ষে বক্তব্য রাখার জন্য মুখপাত্র নির্ধারণ করে দেয়ার কথা বলা আছে। কিন্তু এটি যথাযথভাবে প্রতিপালিত না হওয়ার কারণে দেখা যায়, প্রায়ই ক্ষমতাপ্রাপ্ত নন, এরূপ ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংবাদকর্মীদের দিয়ে থাকেন। মুখপাত্র বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নয় এমন ব্যক্তি বিচ্ছিন্নভাবে সংবাদকর্মীদের তথ্য সরবরাহ করলে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। এ ধরনের বিভ্রান্তি পরিহারের জন্য প্রতিটি বিভাগ ও কার্যালয়ের উচিত মুখপাত্র নির্ধারণ করে দেয়া এবং মুখপাত্র ছাড়া অপর কেউ নিজ নাম বা নাম প্রকাশ ছাড়া যেন সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করা।
আমাদের সংবিধানের অনন্য বৈশিষ্ট্য আইনের দৃষ্টিতে সমতা। এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এ বৈশিষ্ট্যটির মর্মানুযায়ী একজন অপরাধীর অবস্থান ও মর্যাদা যাই হোক না কেন, আইন সব অপরাধীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। সুতরাং একজন অপরাধী কৃষক, শ্রমিক বা রিকশাচালক হলে আইন যেভাবে এদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে অনুরূপ একজন অপরাধী প্রশাসক, বিচারক, সেনাকর্মকর্তা বা পুলিশ কর্মকর্তা হলেও আইন সমভাবে তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। আইনের দৃষ্টিতে সমতা এ অনন্য বৈশিষ্ট্যটির কারণেই দেখা যায়, একই অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির একই আদালতে এবং একই আইনে আইনগত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করত: বিচারকাজ সমাধা করা হয়।
বাংলাদেশে ইতঃপূর্বে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় অপরাধীরা সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা পদে নিয়োজিত ছিল এবং এদের কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধাও ছিল; কিন্তু বিচারের ক্ষেত্রে তাদের কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হয়নি। মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলায় একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে বিচারের মুখোমুখি এবং বিচারকার্য স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হলে তার পরিণতি কী হবে এ বিষয়টি এ দেশের সচেতন জনমানুষ অনুধাবন করতে সক্ষম। যেকোনো অন্যায় বা অপরাধের বিচার রাজনৈতিক কারণে অথবা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে সঠিকভাবে করা না হলে প্রকৃতি এর প্রতিশোধ গ্রহণ করে এবং প্রকৃতির প্রতিশোধ সব সময় নির্মম ও কঠিন হয়ে থাকে।
পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা পরবর্তী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রথমত, জঙ্গিদের এবং অতঃপর বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করা হয়েছিল। এরপর বলা হলো- পেশাদার অপরাধীরা একজন প্রভাবশালীর নির্দেশনায় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত প্রভাবশালীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। ইতোমধ্যে দু’জন গ্রেফতার হওয়া অপরাধী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দী দিয়েছে, তা অসমর্থিতভাবে যেভাবে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাতে জানা যায়, তারা উভয়ে নিজেদের বিজড়িত করে জবানবন্দী দিয়েছে। এ ধরনের জবানবন্দী বিচারিক আদালতে তাদের বিরুদ্ধে ভালো সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত। এ ধরনের সাক্ষ্য অপর কোনো সহায়ক সাক্ষ্য ব্যতিরেকেই গ্রহণযোগ্য। উপরিউক্ত দু’জন বা অপর কেউ ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে যদি তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে বিজড়িত করে সাক্ষ্য দেয় সে ক্ষেত্রে এ সাক্ষ্য অপর কোনো সাক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত না হলে তা গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অবকাশ নেই।
মিতু হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত ওয়াসিম ও আনোয়ারকে পুলিশ হেফাজত থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপনপূর্বক রিমান্ডে নেয়া হয় এবং অতঃপর পুলিশ হেফাজত থেকে তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়ার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপন করা হয়। এ ধরনের অপরাধী পুলিশ হেফাজতে থাকার সময় শারীরিক ও মানসিক উৎপীড়নের শিকার হয় না, এমন প্রশ্ন অমূলক নয়। আর তাই প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় মামলার বিচার চলাকালীন এ ধরনের অপরাধীরা ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দী প্রত্যাহার করে নেয়। এভাবে প্রত্যাহার করা হলে এর সাক্ষ্যগত মূল্যের অনেকাংশে হ্রাস ঘটে।
একজন অপরাধী বা সাক্ষী মামলার তদন্তকালীন পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় যে সাক্ষ্য দেয় পরবর্তীতে মামলার বিচার চলাকালীন সে সাক্ষ্যের যেকোনো ধরনের বিচ্যুতি মামলা প্রমাণের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমাদের দেশে বিচার শেষে অধিক হারে অপরাধীরা খালাস পাওয়ার পেছনে মূল কারণ পুলিশের কাছে দেয়া সাক্ষ্যের সাথে আদালতের সম্মুখে দেয়া সাক্ষ্যের তারতম্য। আর যেকোনো মামলা বস্তুনিষ্ট তথ্যনির্ভর না হলে এ ধরনের তারতম্যের উপস্থিতি প্রকটভাবে দেখা দেয়।
বাবুল আকতারের স্ত্রী হত্যা মামলায় বাবুল আকতার নিজেই বাদি। হত্যা পরবর্তী স্ত্রীর লাশের সামনে এবং স্ত্রীর নামাজে জানাজা পড়াকালীন তাকে যেভাবে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত দেখা গেছে, এটি বিবেচনায় নেয়া হলে তার ব্যাপারে ভিন্নতর কোনো অবস্থান গ্রহণের সুযোগ ক্ষীণ।
পুলিশের একটি নাম না প্রকাশ করার শর্তের উদ্বৃতি দিয়ে দু-একটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে তার স্বামী নেপথ্যে থেকে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। বর্তমানে পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে ব্যাপকহারে যেভাবে ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে তা বিবেচনায় নেয়া হলে একজন ব্যবসায়ী পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়ার সাহস দেখাবেন এটি বিশ্বাস করার মতো কোনো সঙ্গত কারণ নেই।
স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠতার অভাবে সাধারণ্যে বিশ্বাস স্থাপনে ব্যর্থ হওয়ায় দেখা গেল পরে স্বামীর পরকীয়ার বিষয়টি তুলে ধরে প্রথমত দাবি করা হয়, ফেনী শহরে বসবাসরত জনৈক মহিলার সাথে তার পরকীয়া রয়েছে এবং অতঃপর দাবি করা হয়, তার কথিত সোর্স মুসার সুন্দরী স্ত্রীর সাথে তার পরকীয়া রয়েছে। উভয় পরকীয়া বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুলকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা যায়, তিনি দৃঢ়তার সাথে শুধু এগুলোকে অমূলক ও ভিত্তিহীনই বলেননি বরং পারলে এ বিষযে সম্ভাব্য যেকোনো তথ্য জনসম্মুখে উপস্থাপন করার জন্য বলেন। পুলিশ কর্মকর্তা বাবুলের আত্মপ্রত্যয়ী বক্তব্য হতে তার পরকীয়ার বিষয়টি যে বাস্তবতা বিবর্জিত এমনই ধারণা পাওয়া যায়।
মিতু ও বাবুল উভয়ই পুলিশ পরিবারের সন্তান। হৃদয়বিদারক ও দুঃখজনক হত্যাকাণ্ড ঘটার পর দেখা গেছে, বাহিনীটির সবপর্যায়ের সদস্য সান্ত্বনা ও সমবেদনার বহিঃপ্রকাশে তার পাশে অবস্থান নিয়েছেন; কিন্তু ঘটনাটি ঘটার পর পক্ষকালের ব্যবধানে কী এমন ঘটলো যে তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠিয়ে তার নিজ বাহিনীর সদস্যরা অনেকটা অবমাননাকরভাবে তাদের হেফাজতে নিয়ে দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখলেন।
আমাদের দেশে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে যে, কাক কাকের মাংস খায় না। এর মাধ্যমে স্বজাতির বিপদে সমব্যথী হওয়া ব্যক্ত করে। ঘটনা পরবর্তী সে সমব্যথী ভাব দেখা গেলেও পরবর্তীতে তা কেন নেই এ বিষয়টি অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মিতু হত্যাকাণ্ড পরবর্তী মাজারভক্ত গুন্নু নামের জনৈক ব্যক্তিকে আটক করে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত দাবি করা হয়েছিল। গুন্নুকে আটকের পর মাজারের বিরোধপূর্ণ দু’টি কমিটির একটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করা হয়, পুলিশের জনৈক কর্মকর্তা কমিটির অপরপক্ষের লোক দ্বারা ৩০ লাখ টাকার মাধ্যমে বশীভূত হয়ে তাকে ক্রসফায়ারে হত্যার পরিকল্পনা করেছেন। যাই হোক সংবাদ সম্মেলন এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বলিষ্ঠ অবস্থানের কারণে ক্রসফায়ারে মৃত্যু কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এরপর জানা গেল গুন্নুর মিতু হত্যাকাণ্ডের সাথে কোনো সংশ্লেষ নেই। এ ধরনের সংশ্লেষ না থাকলে তাকে আটক রাখার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই; কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মামলার তদন্ত শেষে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে অযথা আটক দেশের প্রচলিত আইনসহ কোনো ধরনের ধর্মমত এবং নীতি নৈতিকতা দ্বারা সমর্থিত নয়।
মিতু হত্যা পর স্বামীসহ বাবা-মা, বোন এবং পরিবারের অপরাপর সদস্যরা যখন শোকে কাতর এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এ ধরনের ঘটনার শিকার পরিবারের পাশে তাদের মানসিক বিপর্যস্ত ভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য যখন রাষ্ট্রকর্তৃক নিয়োজিত সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক অবস্থান গ্রহণ করেন; তখন এ হতভাগ্য পরিবারটিকে দেখা গেল নিহত ব্যক্তির নামে পরকীয়ার কাল্পনিক অভিযোগের কারণে অসহনীয় আঘাত ও যন্ত্রণার মধ্যে নিপতিত।
যেকোনো ফৌজদারি অপরাধ আদালতে বিচার্য। আদালতকে দেয়া এ বিচারের ভার দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপর কারো গ্রহণের সুযোগ নেই। আর তাই একজন অপরাধীকে বিচারের জন্য সোপর্দ না করে বাহিনী ছেড়ে যেতে বলা কোনোভাবেই আইনসিদ্ধ নয়। যেকোনো বাহিনীতে কর্মরত একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাহিনী ছেড়ে দেয়ার প্রশ্ন তখনই ওঠে যখন বাহিনীর শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য তিনি বিভাগীয় মামলায় শাস্তিপ্রাপ্ত। আলোচ্য ক্ষেত্রে বাহিনী ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি আদৌ সঠিক হয়ে থাকলে যে বিষয়টি বিবেচ্য তা হলো- তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় মামলা হয়েছিল কি না? আর হয়ে থাকলে তার ফলাফল কী?
বাহিনীর কোনো ব্যক্তি ফৌজদারি মামলায় অভিয্ক্তু হলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়েরের পর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে এবং চূড়ান্ত বিচারে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রশ্নটি আসে। বিচারিক সিদ্ধান্ত বহির্ভূত এর ব্যত্যয়ে অপর কোনো সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক ক্ষমতা খর্ব করার সমতুল্য।
মামলাটি তদন্তে বাবুল আকতারের স্ত্রী হত্যার সাথে কোনো সংশ্লেষ প্রমাণিত হলে এর একমাত্র বিকল্প হলো তাকে অপরাধী গণ্যে বিচারের সম্মুখীন করা। আর তার যদি কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকে সে ক্ষেত্রে প্রথমত, তাকে বিচারের সম্মুখীন করার সুযোগ নেই। এবং দ্বিতীয়ত, বাহিনী ছেড়ে চলে যেতে বলারও সুযোগ নেই। সুতরাং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত সংবাদ দেশের সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের আওতায় কোনো ধরনের ছাড় দেয়ার অবকাশ সৃষ্টি করে না। এরপরও যদি সূত্রের কথিত মতে তার ক্ষেত্রে উপরিউক্ত দু’টির শেষোক্তটি কার্যকর করা হয় সে ক্ষেত্রে এটি দেশের প্রচলিত আইন দ্বারা অনুমোদিত নয় এমন একধরনের ছাড় যা ভবিষ্যতের জন্য খারাপ দৃষ্টান্তের জন্ম দেবে।হ
লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক
ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
E-mail: iktederahmed@yahoo.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫