অপপ্রয়োগ রোধেই হাইকোর্টের নির্দেশনা

ইকতেদার আহমেদ

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের ওপর ন্যস্ত। থানায় এজাহার দায়েরের মাধ্যমে যেসব মামলা উদ্ভব হয় তার তদন্তকাজ পুলিশ পরিচালনা করে থাকে। অপরাধী বা সন্দিগ্ধ ব্যক্তিকে আটক বা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ বিষয়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষমতা অসীম নয় বরং সসীম। পুলিশের এ ক্ষমতাটি আইন ও বিধি দিয়ে নির্ধারিত। দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশ এ ক্ষমতাটির অপপ্রয়োগ করায় এ দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের একটি অংশ অযাচিত নিপীড়ন ও নিষ্পেষণের শিকার হয়ে আসছেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ভাষ্য মতে, ধর্তব্য অপরাধ অথবা ধর্তব্য মামলা বলতে এমন অপরাধ অথবা মামলাকে বোঝায়, যাতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা এ বিধিটির দ্বিতীয় তফসিল অথবা আপাতত বলবৎ কোনো আইনের বিধান অনুযায়ী বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত। কখন পুলিশ বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে এ বিষয়টি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সুস্পষ্টরূপে উল্লেখ রয়েছে। এ ধারাটি অবলোকন করলে দেখা যায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ এবং পরোয়ানা ছাড়া ৯টি কারণে একজনকে আটক করতে পারেন: ০১. কোনো ব্যক্তি যিনি কোনো ধর্তব্য অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা যার বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত নালিশ দায়ের হয়েছে অথবা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গিয়েছে অথবা এ ধরনের সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ বিদ্যমান, ০২. কোনো ব্যক্তির হেফাজতে আইনসঙ্গত কারণ ছাড়া ঘর ভাঙার কোনো উপকরণ থাকা যার প্রমাণের দায়িত্ব ব্যক্তিটির ওপর ন্যস্ত, ৩. কোনো ব্যক্তি যিনি ফৌজদারি কার্যবিধি বা সরকারের মাধ্যমে অপরাধী হিসেবে ঘোষিত, ৪. কোনো ব্যক্তির হেফাজতে এমন কিছু থাকা, যা যুক্তিসঙ্গতভাবে চোরাই দ্রব্য হিসেবে সন্দেহ করা হয়েছে এবং উক্ত ব্যক্তি উক্ত দ্রব্য সংশ্লেষে অপরাধ করেছে মর্মে সন্দিগ্ধ, ৫. কোনো ব্যক্তি যিনি দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধাদান করেন অথবা যিনি আইনসম্মত হেফাজত হতে পলায়ন করেছেন অথবা পলায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন, ৬. বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী থেকে পলায়ন করেছেন যুক্তিসঙ্গতভাবে এমন সন্দিগ্ধ ব্যক্তি, ৭. কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের বাইরে এমন কোনো অপরাধ করেছেন, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে করা হলে অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য হতো, ৮. দণ্ড থেকে ছাড়া পাওয়া কোনো ব্যক্তি যিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা নং ৫৬৫(৩) লঙ্ঘন করেছেন এবং ৯. কোনো ব্যক্তি যার গ্রেফতারের ব্যাপারে অন্য পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে যাচনাপত্র পাওয়া গিয়েছে।
উপরোল্লিখিত বিধানাবলি অবলোকনে প্রতীয়মান হয়, একজন পুলিশ কর্মকর্তা স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে আটকের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত নন। ৫৪ ধারায় সন্দেহের বশবর্তী হয়ে পুলিশ কর্মকর্তাকে আটকের ক্ষমতা দেয়া হলেও সে সন্দেহ অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত ভিত্তিনির্ভর হতে হবে।
একজন অপরাধীকে রিমান্ডে নিয়ে অর্থাৎ পুলিশের নিজ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ বিষয়ে পুলিশকে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা নম্বর ১৬৭ ও ৩৪৪-এ তার উল্লেখ রয়েছে।
ধারা নম্বর ১৬৭ -তে যে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তা হলো একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার-পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তকার্য সমাপ্ত না হলে পুলিশ কর্মকর্তা তাকে নিকটবর্তী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ডের আবেদন করতে পারেন এবং এরূপ রিমান্ড আবেদনের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যথাযথ বিবেচিত হলে তিনি এক মেয়াদে অনধিক ১৫ (পনের) দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করতে পারেন।
ধারা নম্বর ৩৪৪-এ যে রিমান্ডের কথা বলা হয়েছে তা হলো একটি মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন থাকাবস্থায় অপরাধী কারা অভ্যন্তরীণ থাকাকালীন পুলিশ কর্তৃক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রিমান্ডের আবেদন। এরূপ ক্ষেত্রেও একজন ম্যাজিস্ট্রেট আবেদন যথার্থ বিবেচিত হলে এক মেয়াদে অনধিক ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করতে পারেন।
উপরোল্লিখত দু’টি ধারার রিমান্ডের মধ্যে পার্থক্য প্রথমোক্তটির ক্ষেত্রে অপরাধীকে পুলিশ হেফাজত থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে উপস্থাপনপূর্বক রিমান্ড চাওয়া হয়। আর দি¦তীয়টির ক্ষেত্রে একজন অপরাধীকে বিচারিক হেফাজতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপনপূর্বক রিমান্ড চাওয়া হয়।
ধারা নম্বর ১৬৭-এর অনুশীলন থেকে যে ধারণা পাওয়া যায়, তা হলো একজন অপরাধীকে গ্রেফতার-পরবর্তী পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তকার্য সমাপ্ত করার বিষয়ে সচেষ্ট থাকবেন এবং যে মামলায় উল্লিখিত সময়ের মধ্যে তদন্তকাজ সমাপ্ত করা না যাবে শুধু সেসব মামলার ক্ষেত্রে অপ্রতুল সাক্ষ্যের কারণে রিমান্ড চাওয়ার অবকাশ আছে।
আমাদের দেশে পুলিশ কর্তৃক অপরাধী গ্রেফতার-পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তকার্য সমাপ্ত করা হয়েছে এরূপ মামলার সংখ্যা অতি নগণ্য অথচ ১৬৭ ধারায় উল্লেখিত তদন্তসংক্রান্ত বিধানের অনুশীলন থেকে যে ধারণা পাওয়া যায় তা হলো ধারা নম্বর ৬১- তে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তকার্য সমাপ্ত করার ওপর সবিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
যেকোনো ফৌজদারি মামলার প্রাণ হলো মামলাটির তদন্ত। তদন্ত সঠিক হলে মামলায় আশানুরূপ ফল পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। অপর দিকে তদন্ত বেঠিক বা ত্রুটিপূর্ণ হলে মামলায় যে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে না তা অনেকটা নিশ্চিত।
আমাদের দেশে পুলিশের রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন এমন বেশির ভাগ ব্যক্তির দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, রিমান্ডে থাকার সময় তারা শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের মুখে পড়েছেন।
মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর বিভাগটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এবং সামগ্রিকভাবে বিভাগটির ওপর রাষ্ট্রের নির্বাহী কর্র্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়াসহ বিভাগটির একশ্রেণীর কর্মকর্তা রাজনৈতিকভাবে আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ার কারণে বিগত প্রায় দু’দশক ধরে অপরাধী বা সন্দিগ্ধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার-পরবর্তী গ্রেফতারসংক্রান্ত তথ্য-সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ না করে সংবিধান ও আইন দিয়ে নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত নিজ হেফাজতে রাখছে, অপরাধী বা সন্দিগ্ধ ব্যক্তিকে আটকের সময় সাদা পোশাকে অভিযান পরিচালনা করছে, রিমান্ডে নেয়ার মতো যুক্তিসঙ্গত কারণ না থাকা সত্ত্বেও রিমান্ডের আবেদন করছে এবং রিমান্ডের আগে ও পরে পুলিশ হেফাজতে থাকার সময় শারীরিক ও মানসিক উৎপীড়ন করছে। তা ছাড়া পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার-পরবর্তী আটকাবস্থায় মৃত্যু এবং তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে প্রতিকারবিহীন অবস্থায় বেড়ে চলেছে।
৫৪ ধারায় গ্রেফতার-পরবর্তী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রুবেল নামে একজন ছাত্রের পুলিশের ডিবি হেফাজতে মৃত্যু ঘটলে বিষয়টি নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ব্ল্যাস্ট নামে মানবাধিকার সংগঠন হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে। রিটটিতে ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রদত্ত রায়ে ফৌজদারি কার্যবিধি, দণ্ডবিধি, সাক্ষ্য আইন এবং পুলিশ আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনে ৭ (সাত) দফা সুপারিশ দিয়ে ৬ মাসের মধ্যে সংশোধনের নির্দেশনা দেয়া হয়। সংশোধন না করা পর্যন্ত ৫৪ ধারায় কাউকে গ্রেফতার এবং ১৬৭ ধারায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ১৫ (পনের) দফা নির্দেশনা মেনে চলার আদেশ দেয়া হয়। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ আপিল করলে দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর গত ২৪ মে, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেন। স্পষ্টত আপিল মামলাটি বিচারাধীন থাকাবস্থায় হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের কার্যকারিতা বিষয়ে স্থগিতাদেশ না দেয়া হলেও সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনানুযায়ী আইনগুলো সংশোধন এবং ১৫ দফা নির্দেশনা মেনে চলার ব্যাপারে কোনো ধরনের পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি।
হাইকোর্ট বিভাগের ১৫ দফা নির্দেশনায় যেসব বিষয় উল্লেখ ছিল তা হলোÑ
ক. আটকাদেশ ডিটেনশন দেয়ার জন্য পুলিশ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩ ধারার অধীনে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না। খ. কাউকে গ্রেফতার করার সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে। গ. গ্রেফতারের কারণ এবং অন্যান্য কারণ একটি পৃথক নথিতে পুলিশকে লিখতে হবে। ঘ. গ্রেফতারকৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলে তার কারণ লিখে তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিতে হবে এবং পুলিশ ডাক্তারি সনদ সংগ্রহ করবে। ঙ. গ্রেফতারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারকৃতকে এর কারণ জানাতে হবে। চ. বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য স্থান থেকে গ্রেফতারকৃতের নিকটাত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহক মারফত বিষয়টি জানাতে হবে। ছ. গ্রেফতারকৃতকে তার পছন্দসই আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে। জ. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আবার জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে কারাগারের ভেতর কাচ নির্মিত বিশেষ কক্ষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। কক্ষের বাইরে তার আইনজীবী ও নিকটাত্মীয় থাকতে পারবেন। ঝ. কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া না গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে সর্বোচ্চ তিন দিন পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে; তবে এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ থাকতে হবে। ঞ. জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ওই ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে। ট. পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ম্যাজিস্ট্রেট সাথে সাথে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করবেন। বোর্ড যদি বলে ওই ব্যক্তির ওপর নির্যাতন করা হয়েছে তাহলে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তাকে দণ্ডবিধির ৩৩০ ধারায় অভিযুক্ত করা হবে। ঠ. পুলিশ হেফাজতে বা কারাগারে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মারা গেলে সাথে সাথে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে। ড. পুলিশ বা কারা হেফাজতে কেউ মারা গেলে ম্যাজিস্ট্রেট সাথে সাথে তা তদন্তের ব্যবস্থা করবেন। মৃত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তে বা তদন্তে যদি মনে হয় ওই ব্যক্তি কারা বা পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট মৃত ব্যক্তির আত্মীয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তা তদন্তের নির্দেশ দেবেন।
থানায় প্রাথমিক তথ্যবিবরণী দাখিলের মাধ্যমে যেসব মামলার উদ্ভব হয় এসব মামলার উদ্ভব পূর্ববর্তী ও পরবর্তী পুলিশ অথবা পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ যথাÑ র‌্যাব, সিআইডি, ডিবি, এসবি প্রভৃতি আটকের কাজটি সমাধা করে থাকে। পুলিশ বা পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও সদস্যদের দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় নির্ধারিত পোশাক পরিধান করতে হয়। পুলিশ বা পুলিশের যেকোনো বিভাগের কর্মকর্তা বা সদস্যরা নির্ধারিত পোশাকবহির্ভূত অবস্থায় কোনো অপরাধী বা সন্দিগ্ধ ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ক্ষমতাপ্রাপ্ত নন। আর এরূপ ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্ষমতা দেয়া হলেও আটকের দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র দেখানোর আবশ্যকতা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে পুলিশ ও এর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বাহিনী সাদা পোশাকে এবং পরিচয়পত্র দেখানো ছাড়া যেসব আটকের ঘটনা সংঘটিত করেছে তা প্রতিকারবিহীনভাবে অনেক অনাকাক্সিক্ষত, হৃদয়বিদারক, দুঃখজনক ও বিয়োগান্তক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ আজ থেকে প্রায় দুই যুগ আগে যখন আইন সংশোধনী সাপেক্ষে নির্দেশনাগুলো পালনের কথা বলা হয়েছিল তখন থেকে অদ্যাবধি আইন সংশোধিত না হওয়ায় এবং নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালন না করায় সাদা পোশাকে পরিচয়পত্রবিহীন অবস্থায় আটকের ঘটনায় ছেদ পড়েনি।
দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় ক্ষেত্রবিশেষে আইনের সমরূপ আবার ক্ষেত্রবিশেষে আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথা বা রীতি। আইন মেনে চলা দেশের প্রতিটি নাগরিকের আবশ্যিক কর্তব্য। আইনের লঙ্ঘন অপরাধ হিসেবে পরিগণিত। সুতরাং দীর্ঘ দিন ধরে হাইকোর্টের নির্দেশনা না মানায় আইনের যে লঙ্ঘন ঘটেছে সে প্রশ্নে বির্তক নেই। সম্প্রতি সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনাগুলো সমুন্নত রাখায় এ নির্দেশনাগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইন প্রণয়ন না করা সাপেক্ষে অপপ্রয়োগের পথ যে একেবারেই রুদ্ধ সে প্রশ্নেও কোনো বিতর্ক চলে না। 
লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
E-mail: iktederahmed@yahoo.com

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.