ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ও বাংলাদেশের মিডিয়া

সৈয়দ আবদাল আহমদ

০৩ মে ২০১৬,মঙ্গলবার, ১৯:১১


আবদাল আহমদ

আবদাল আহমদ

প্রিন্ট

৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। জাতিসঙ্ঘ ঘোষিত এ দিনটি ১৯৯৩ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এই দিবসটি এলে দেশে দেশে গণমাধ্যম পরিস্থিতি বিশেষ করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়। গত বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- সাংবাদিকতা প্রসারিত হোক। আর এ বছরের প্রতিপাদ্য- তথ্যপ্রাপ্তি ও স্বাধীনতা সংবাদমাধ্যমের অধিকার। 

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে আমাদের গণমাধ্যমের প্রতি দৃষ্টি দিলে প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে বাংলাদেশের গণমাধ্যম কি স্বাধীন? এ প্রশ্নের জবাব খোঁজার প্রয়োজন নেই। সাদা চোখেই দেখা যায়, বাংলাদেশের গণমাধ্যম ক্রমেই একটি নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় পরিণত হচ্ছে। মুক্ত গণমাধ্যম হিসাবে স্বাধীন সত্তা নিয়ে মিডিয়ার যে শক্তিশালী একটি ভূমিকা এত দিন ছিল তা কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। এর ওপর অশুভ কালো ছায়া পড়ছে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন- নিজেরাই সেলফ সেন্সরশিপে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের অবস্থার সর্বশেষ নজির- এক. প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধন করা হচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, প্রেস কাউন্সিলের আদেশ না মানলে শাস্তি হিসেবে কোনো সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার প্রকাশনা সর্বোচ্চ ৩০ দিন বন্ধ রাখার আদেশ দিতে পারবে কাউন্সিল। আর এই সংশোধনীর ভিত্তিতে আইন করার সুপারিশটি করেছে বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আইন কমিশন। দুই. এই মুহূর্তে দেশে জনপ্রিয় একটি পত্রিকার সম্পাদক ঢাকার মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে রিমান্ডে রয়েছেন। আরেকজন প্রবীণ সম্পাদক ১০ দিন রিমান্ড খেটে এখন কাশিমপুর কারাগারে বন্দী। একই কারাগারে বন্দী জীবনযাপন করছেন একজন সাংবাদিক নেতা। তিন. জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল দিগন্ত টেলিভিশন ও ইসলামিক টেলিভিশন আগামী ৬ মে বন্ধের তিন বছর পূর্ণ করবে। আমার দেশ পত্রিকা ইতোমধ্যে গত ১১ এপ্রিল বন্ধের তিন বছর পূর্ণ করে ফেলেছে। তেমনি গত ২৭ এপ্রিল চ্যানেল ওয়ান বন্ধেরও ৬ বছর অতিক্রম হয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে অনলাইন পোর্টাল জাস্টনিউজবিডিডটকম। চার. হাতেগোনা কয়েকটি পত্রিকা ছাড়া বেশির ভাগ পত্রিকায় নিয়মিত বেতন হয় না। এসব পত্রিকায় নূ্যূনতম ৩ মাস থেকে ২৩ মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। টিভি চ্যানেলগুলোতেও বেতন-ভাতা নিয়ে রয়েছে অসন্তোষ। পাঁচ. সাংবাদিক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী জাতীয় পর্যায়ের কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ হওয়ায় অন্তত দু’হাজার সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
এ সরকারের আমলে দৈনিক আমার দেশ দু’দফায় বন্ধ করা হয়। ২০১০ সালের ১ জুন প্রথম দফায় মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার ও আমার দেশ বন্ধ করে দেয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে পত্রিকাটি পুনরায় বের হলেও মাহমুদুর রহমানকে ১০ মাসের বেশি সময় জেলে থাকতে হয়। দ্বিতীয় দফায় ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল পুনরায় মাহমুদুর রহমানকে কাওরান বাজারের আমার দেশ কার্যালয় থেকে গ্রেফতার এবং আমার দেশ বন্ধ করা হয়। গ্রেফতারের আগে তিনি আমার দেশ কার্যালয়ে প্রায় ৩ মাস অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ৭৩টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারের প্রথম দফায় ১৩ দিন, দ্বিতীয় দফায় ১৯ দিন এবং বর্তমানে পাঁচ দিন তিনি রিমান্ডে নির্যাতন ভোগ করছেন। আক্রোশের কারণ সম্পাদক ও পত্রিকাটি সাহসের সাথে সরকারের অপকর্মের সমালোচনায় সোচ্চার ছিল। প্রায় তিন বছর ধরে আমার দেশ বন্ধ থাকায় পত্রিকার প্রায় ৫ শতাধিক সাংবাদিক-কর্মচারী বেকার জীবনের দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করছেন। পত্রিকার ছাপাখানা অবৈধভাবে বন্ধ রাখার ব্যাপারে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটটির শুনানি পর্যন্ত হয়নি আজো। এর মধ্যে আমার দেশের কাওরান বাজারের কার্যালয়ে রহস্যজনক আগুনে পত্রিকার ১১ বছরের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত, রেফারেন্স, সার্ভার এবং সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আমার দেশের কারণে মাহমুদুর রহমানের বৃদ্ধ মা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগম এবং দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদের বিরুদ্ধেও মামলা দেয়া হয়। সম্পাদক আবুল আসাদকে গ্রেফতার করে হাজতে নিয়েও কষ্ট দেয়া হয়।
লাল গোলাপখ্যাত যায়যায়দিনের সাবেক সম্পাদক খ্যাতিমান সাংবাদিক শফিক রেহমানকে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রকে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টার বিতর্কিত একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকেও। তাদের রিমান্ডে নেয়া হয়।
মেধাবী সাংবাদিক ও বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদকে সরকার ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে যানবাহনে আগুন, ভাঙচুর ও বোমা বিস্ফোরণের ২৭টি মামলা দেয়া হয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন মামলায় তার ১২০ দিন রিমান্ড চায়। কোর্টের আদেশে ১৫ দিনের জন্য তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ডে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ২১টি মামলায় জামিনের পর সব জামিননামা জেলখানায় পৌঁছলেও আরো ছয় মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে মুক্তি আটকে দেয়া হয়। অথচ শওকত মাহমুদ জাতীয় প্রেস ক্লাবের চারবারের সাধারণ সম্পাদক ও দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে বন্দী রয়েছেন। লন্ডনে দেয়া তারেক রহমানের একটি বক্তব্য প্রচারের অপরাধে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ও রাতের ঘটনাবলি সরাসরি সম্প্রচার করার অপরাধে জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল দিগন্ত টেলিভিশন এবং ইসলামিক টেলিভিশনের সম্প্রচার সরকার বন্ধ করে দেয় ২০১৩ সালের ৬ মে। চ্যানেল দু’টির সম্প্রচারের ওপর ‘সাময়িক নিষেধাজ্ঞা’র কথা বলা হলেও আজো ‘সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়নি। চ্যানেল দু’টির বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক-কর্মচারী বেকার হয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন।
দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা দু’টির সম্পাদকের বিরুদ্ধে সরকার দীর্ঘ দিন ধরেই খরগহস্ত। সরকারের অদৃশ্য ইঙ্গিতে পত্রিকা দু’টিতে টেলিকম সেক্টরের বিজ্ঞাপনও বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রথম দফায় ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সংসদে প্রধানমন্ত্রী ডেইলি স্টার ও সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিষোদগার করেন। নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের একটি পোস্টারের ছবি ছাপানোর অপরাধে এই বিষোদগার। একটি টিভি চ্যানেলে ১/১১-এর সময় সেনা গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্য যাচাই না করে ছাপার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে স্বীকারোক্তি দেয়ার অপরাধে মাহফুজ আনাম রোষানলে পড়েন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৭৮টি মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি মামলা রাষ্ট্রদ্রোহের। অবশ্য বর্তমানে হাইকোর্ট ৭২টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছেন এবং বাকিগুলোতে মাহফুজ আনাম জামিন পেয়েছেন।
মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর সঞ্চালনায় বেসরকারি টেলিভিশন বাংলা ভিশনের জনপ্রিয় টকশো ‘ফ্রন্টলাইন’ অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু সরকারের অদৃশ্য ফোনের হুমকিতে কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। মানবজমিন সম্পাদককেও গুম করার হুমকি দেয়া হয়েছে। নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর টকশোতে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জোরালো সমালোচনা করায় তাকে গুম এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। তার পত্রিকা নিউ এজ-এ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পুলিশের একটি দল তল্লাশি চালায়। একই ভাবে কয়েক দফায় বোমা হামলা ও তল্লাশির শিকার হয়েছে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা। দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকাও বোমা হামলা ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্ট কেন্দ্র করে পত্রিকার বার্তা সম্পাদক, চিফ রিপোর্টার ও সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। ঢাকার বাইরে মফস্বলের দু’শতাধিক আঞ্চলিক পত্রিকা সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। টিভি চ্যানেলগুলোতে অদৃশ্য ফোনের দৌরাত্ম্য এতই ব্যাপক যে, অনেক ক্ষেত্রে ঝামেলা ও ঝুঁকি এড়াতে চ্যানেলগুলো সেলফ সেন্সরশিপের আশ্রয় নিচ্ছে এবং জনপ্রিয় আলোচকদের এড়িয়ে চলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউব, ভাইবার বন্ধ করে দেয়ার বেশ কিছু আলামতের কথা নাগরিকদের অজানা নয়। তেমনি সম্প্রচার নীতিমালা, অনলাইন নীতিমালা, আইসিটি অ্যাক্টের মাধ্যমেও মিডিয়া দমনের অপচেষ্টা চলছে। সম্প্রচার নীতিমালায় এমন সব ধারা আছে, যা গণমাধ্যমের জন্য ভয়ঙ্কর। যেমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না, বিচারিক ক্ষমতা আছে এমন সরকারি কর্মকর্তা ডিসির বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না, টকশোতে স্বাধীনভাবে যা ইচ্ছা বলা যাবে না, বিজ্ঞাপন প্রচারে শর্তারোপ ইত্যাদি। তেমনি আইসিটি অ্যাক্টকেও এখন মামলার হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গণমাধ্যমের ১৮১২ জন সাংবাদিক নানাভাবে রোষের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ জনকে হত্যা, ৮৩০ জন আহত, ২৫২ জনকে মারধর, ৮০ জনের ওপর হামলা, ২৫ জন গ্রেফতার, তিনজন গুম, ৩২৪ জনকে হুমকি, চারজনকে নির্যাতন এবং ১৬৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই রিপোর্টে ১৪ জন সাংবাদিক হত্যার কথা বলা হলেও সাংবাদিকদের সংগঠন বিএফইউজে-ডিইউজের হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা ২৭।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ড এ সময়ের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত ঘটনা। সাংবাদিক সহকর্মীরা গত ১১ ফেব্রুয়ারি এ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের চার বছর পালন করেছে। সাগর-রুনি হত্যার পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই খুনিরা ধরা পড়বে। কিন্তু ৪৮ মাসেও খুনি চক্রের টিকিটির পর্যন্ত নাগাল পাওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশের তৎকালীন আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছিলেন, তদন্তে ‘প্রণিধানযোগ্য’ অগ্রগতি হয়েছে। এর পরই ডিবি পুলিশ হাইকোর্টে গিয়ে জানায়, তদন্তে তারা ব্যর্থ। তদন্তের ভার পড়ে র‌্যাবের ওপর। র‌্যাব এ পর্যন্ত হাইকোর্ট থেকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য ৩২ বার সময় নিয়েছে। তারা ২১ জন সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য আমেরিকা পাঠায়। কিন্তু তিন বছরেও তদন্তের ফলাফল জানা যায়নি। এ অবস্থায় সাগরের মা ক্ষোভে-দুঃখে বলেন, ‘আমি বুঝে গেছি, ৪৮ বছরেও বিচার পাবো না।’
গণমাধ্যমে এমন হস্তক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদকেরা কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন। সম্পাদকদের সংগঠন এডিটরস কাউন্সিল এ নিয়ে কয়েক মাস আগে যে বিবৃতি দেয়, তাতে উল্লেখ করা হয়- ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদপত্র ও জাতীয় প্রচার মাধ্যমের পক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এক দিকে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, অন্য দিকে সংবাদপত্র ও প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রচারমাধ্যমের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। সরকার ও প্রশাসন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ সংগ্রহ এবং পরিবেশনায় বাধা সৃষ্টি করছে। সংসদে সম্পাদক ও প্রকাশকদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া হচ্ছে, যা তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ। কোনো কোনো পত্রিকা বা টেলিভিশন চ্যানেলকে অন্যায়ভাবে বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে তকমা দেয়া হচ্ছে। সংসদে ডেইলি স্টারের প্রতি বৈরী মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে। নিউ এজ পত্রিকা অফিসে পুলিশি তল্লাশি ও হয়রানি করা হয়েছে। একাধিক টিভি মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। টকশোর অতিথি তালিকা নির্দিষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। লাইভ অনুষ্ঠান প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে। কী প্রচার হবে আর হবে না তা নিয়ে টেলিফোনে নির্দেশনা মতপ্রকাশের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।’
দেশের গণমাধ্যমের এ অবস্থার অবসান হোক- মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে একজন সংবাদকর্মী এটাই আশা করে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫