মধুসূদন দে ওরফে মধুর ব্যবসা

শফিক রেহমান

শাহবাগে একসময়ে যেটা রূপসী বাংলা হোটেল এবং তার আগে সুদীর্ঘকাল শেরাটন হোটেল নামে পরিচিত ছিল সেটার জন্ম হয়েছিল ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা রূপে। ঢাকার এই হোটেলের মালিকানা সব সময়ই ছিল সরকারের কিন্তু হোটেল ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব ছিল অন্যদের। যেমন, এখন আবার এই হোটেলের ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব ফিরে পেয়েছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ, যেটি একটি মালটিন্যাশনাল কম্পানি এবং যার হেড কোয়ার্টার্স এখন ডেনহ্যাম, ইংল্যান্ডে। অতীতে এই মালটিন্যাশনাল কম্পানির হেড কোয়ার্টার্স ছিল নিউ ইয়র্কে। ঢাকায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের ব্যাপক সংস্কার কাজ এখন চলছে। কিছুকাল পরে নতুন রূপে সেজে ইন্টারকন্টিনেন্টাল আবার আত্মপ্রকাশ করবে।

ষাটের দশকের শেষ দিকে দশ বছর পর লন্ডন থেকে ফিরে এসে ওই হোটেলের চিফ অ্যাকাউন্টেন্ট পদে যোগ দেয়ার পরে আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্যান্টিনে গিয়েছিলাম মধুর খোজে।
দেখা মাত্রই মধু ছুটে এলো।
আমরা কোলাকুলি করলাম।
কুশল বিনিময়ের পর মধুকে বললাম, তুমি হয়তো জানো না তোমার মতো আমিও এখন খাবারদাবারের ব্যবসায়ে কাজ করছি।
তার মানে? মধু অবাক হলো।
আমি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চাকরি করছি।
তাই নাকি? ওখানে কোনদিন যাই নি। বড় লোকদের জায়গা। যেতে ভয় হয়।
আমি খুশি হবো তুমি যদি একদিন এসে দেখে যাও বিদেশিরা তাদের হোটেল রেস্টুরেন্ট কিভাবে চালায়। আমি প্রস্তাব দিলাম।
নিশ্চয়ই যাবো। আপনি যেদিন বলেন সেদিনই যাবো। মধু খুব খুশি হয়ে বললো।
এরপর মধু একদিন ফিটফাট হয়ে হোটেলে এসেছিল।
আমি তাকে পুরো হোটেলটা ঘুরিয়ে দেখাই।
বিশেষত খাবার জায়গাগুলো।
১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ইন্টাকন্টিনেন্টাল হোটেল, সংক্ষেপে যাকে ইন্টারকন বলা হতো সেটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। হানাদার বাহিনী থেকে মুক্ত হবার পরে হোটেলের কয়েকটি রেস্টুরেন্টের নাম বদলে নতুন নাম রাখা হয়েছিল। আমি নিচে অরিজিনাল নামগুলোই উল্লেখ করছি।
মধুকে দেখালাম কাফে আরাম যেটা দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকতো।
চাম্বেলি রুম যেটা খোলা থাকতো লাঞ্চ আওয়ারে এবং সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ডিনার ও ডান্সের জন্য। সেখানে বিদেশি ব্যান্ড বাজাতো গিটার, ড্রাম ও কিবোর্ডে সর্বাধুনিক বিদেশি মিউজিক। গাইতো পপ সিংগাররা।
সাকী বার যেখানে দুপুরে সীমিত সময়ে এবং বিকেল থেকে মাঝ রাত পর্যন্ত সার্ভ করা হতো এলকোহলিক ডৃংকস।
পুলসাইড রেস্টুরেন্ট যেখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সার্ভ করা হতো খাবার ও সফট ডৃংকস-সুইমিং পুলের সাতারুদের জন্য।
অফিসার্স কাফেটোরিয়া যেটা ছিল হোটেল অফিসারদের খাবারের জন্য।
এমপ্লয়িজ কাফেটোরিয়া যেটা ছিল সাধারণ কর্মচারীদের খাবারের জন্য।
হোটেল দর্শনের শেষে আমরা দুজনে কাফে আরাম-এ বসে চা খেতে খেতে গল্প করছিলাম।
মধু খুব উৎসাহ নিয়ে জানতে চাইছিল হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট ব্যবসার খুটিনাটি দিকগুলো।
ওর সাথে আলাপের ফাকে ফাকে আমার মনে পড়ছিল ঢাকায় প্রায় বারো বছর আগের একটি ঘটনার কথা।
সেদিন সকালবেলায় মধুকে নিজের বাড়িতে দোরগোড়ায় দেখে অবাক হয়েছিলাম।
সাধারণত মধুকে দেখা যেত তার স্টলে একটি চেয়ারে বসে থাকতে।
পরনে শার্ট অথবা ফতুয়া, ধুতি অথবা পায়জামা।
আধো ময়লা।
অথবা মধুকে দেখা যেত স্টল থেকে মেয়েদের কমনরুমের দিকে যাতায়াত করতে। খাবারের ট্রে হাতে।
ছাত্রীদের অর্ডার নিতে অথবা অর্ডার পরিবেশনের কাজ কেমন চলছে সেটা দেখতে।
সেই ব্যস্তসমস্ত মধু পরিষ্কার পাঞ্জাবি পায়জামা পরে হঠাৎ সকালে আমাদের বাড়িতে কেন?
ছায়া ঘেরা রমনার আর্টস বিল্ডিং যেটা এখন মেডিকাল কলেজের অংশ সেখান থেকে বুড়িগঙ্গার তীরে বাদামতলিতে কেন?
এসো। এসো। তোমার ওখানে সব সময় চা খাই। আজ তোমাকে আমি আমার বাড়িতে পরিষ্কার কাপে চা খাওয়াবো। মধুকে সাদর আহ্বান জানালাম।
খুব বিপদে পড়ে এসেছি আপনার কাছে। মধু কাচুমাচু করে বললো। সব ছাত্র-ছাত্রীকেই সে আপনি বলে সম্বোধন করতো।
যাক। বাচালে আমাকে। আমি তো ভেবেছিলাম বিপদ আমার। বাকির পরিমাণ বোধহয় পাচশো টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাই সাত সকালে বাড়িতে এসেছ তাগাদা দিতে।
আপনাকে আমি কখনো কোনো তাগাদা দিয়েছি কি? একটু অভিমানের সুরে মধু বললো।
না, তা দাওনি। আমি স্বীকার করলাম। আমার জানামতে অল্প যে কয়জনকে মধু সবচেয়ে বেশি ক্রেডিট লিমিট পাচশো টাকা দিয়েছিল এবং যাদের কখনোই সে তাগাদা দিত না, তাদের অন্যতম ছিলাম আমি। মধুর কাছে আমার এই চমৎকার ক্রেডিট রেটিং হবার কারণ ছিল আমি নিয়মিতভাবে ধার পরিশোধ করতাম। স্কলারশিপ, গিটারে রেডিও প্রোগ্রাম এবং পার্ট টাইম সাংবাদিকতা, এই ত্রিমুখী আয়ের ফলে ছাত্র অবস্থা সত্ত্বেও আমি বেশ সচ্ছল ছিলাম।
দুজনে বেতের চেয়ারে বসে কথা বলছিলাম।
যে পরিবেশে মধুকে দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম তার বাইরে ওকে দেখতে অদ্ভুত লাগছিল।
কিন্তু তাকে বিচলিত মনে হচ্ছিল।
কী হয়েছে তোমার? কোনো আপার প্রেমে পড়েছ নাকি? অথবা কোনো দিদির? আমি রসিকতা করলাম।
লেডিস কমনরুমে ওর অবাধ যাতায়াতের অধিকার এবং সেই অধিকার প্রায়ই প্রয়োগ করায় আমরা তার প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিলাম। সেই সময়ে আর্টস বিল্ডিংয়ে ছাত্রীর সংখ্যা ছিল খুব কম। লেডিস কমনরুমে বড়জোর চল্লিশ পঞ্চাশজন ছাত্রীর মধ্যে হিন্দু ও বৌদ্ধ ছাত্রীর সংখ্যা ছিল আরো কম। এদের মধ্যে ছিলেন প্রতিভা মুৎসুদ্দি এবং পুষ্পিতা বড়–য়া।
সেই লেডিস কমনরুমে উজ্জ্বল গৌরকান্তি, স্বাস্থ্যবান, দীর্ঘকায় ও সুদর্শন মধুকে দেখে মনে হতো কোনো এক বাঙালি বাদশাহ যেন একটি অসাধারণ হারেমে ঢুকছে।
অপার দয়া বিতরণ করছে।
ছাত্রীদের কৃতজ্ঞতার বন্ধনে চিরকালের মতো বেধে ফেলছে।
কারণ, আমরা সব সময়ই সন্দেহ করতাম মধু ওদের কম পয়সায় বেশি খাবার দিচ্ছে এবং কখনোই বাকি আদায়ের জন্য তাগাদা দিচ্ছে না।
মধুর তখন পূর্ণ যৌবন।
বয়স সম্ভবত ত্রিশের মাঝামাঝি।
সুতরাং এত যুবতীর সান্নিধ্যে যাবার পরে তার হৃদয় দ্রবীভূত হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে আমরা ধরে নিয়েছিলাম।
আমার কাছে ইনকাম ট্যাক্সের নোটিশ এসেছে। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে মধু গম্ভীরভাবে বললো।
ইনকাম ট্যাক্সের নোটিশ! সে কি? আমি অবাক হলাম।
ল’ ক্লাসের কয়েকজন ছাত্রকে বাকির তাগাদা দিতে গিয়ে আমার এই বিপদ হয়েছে। কয়েক হাজার টাকা বাকি হয়ে গিয়েছে ওনাদের। টাকার কথা বললেই চোটপাট করেন। আরো বেশি বেশি অর্ডার দেন। এভাবে কতোদিন আর চলবে? সপ্তাহখানেক আগে আমি আর না পেরে একটু মেজাজ খারাপ করেছিলাম। বলেছিলাম অন্তত কিছু টাকা শোধ করতে, নইলে তারা বাকিতে শুধু চা পাবেন। আর কিছু নয়। তারপরেই গতকাল সন্ধ্যায় ইনকাম ট্যাক্স অফিসের দুজন এসে আমার কাছে হিসাবের খাতাপত্র দেখতে চায়। জানতে চায় আমার বার্ষিক লাভ কতো হচ্ছে? কোনো ব্যাংকে টাকা রাখি? কর্মচারীর সংখ্যা কত? এইসব আর কি। মধু তার বিপদের বর্ণনা দিল।
তখনকার যুগে এত ব্যাংক ছিল না। মধু তার নিকটাত্মীয়দের দিয়ে স্টলটি চালাতো। থাকতো আর্টস বিল্ডিংয়ের ছোট পুকুরের পাশে। চায়ের স্টলের সামান্য আয়ে মধুর পরিবারের দিন মোটামুটিভাবে কেটে যেত।
সেই সামান্য আয়ের ওপর ইনকাম ট্যাক্স বসানোর হুমকি দেয়াতে ল’ ক্লাসের ছাত্রদের ওপর আমার ধারণা আরো খারাপ হলো।
আমরা যারা দিনের বেলায় ফুল টাইম ছাত্র ছিলাম তারা সন্ধ্যা বেলার পার্ট টাইম আইন ছাত্রদের পূর্ণ ছাত্রের মর্যাদা দিতাম না।
আমরা যখন সারাদিন ক্লাস করে এবং আড্ডা মেরে বিকেলের পরে বাড়ি অথবা হলমুখী হতাম তখন ওদের আসতে দেখতাম সসংকোচে। আমাদের পরিত্যক্ত ক্লাসে বসতে এবং আমাদের পরিচিত আইন শিক্ষকদের লেকচার শোনার জন্য অপেক্ষা করতে। আমরা জানতাম, ওদের অনেকেই মধুর স্টলে রাতের খাওয়াটা চুকিয়ে বাড়ি যেত।
তাদের কাছে নায্য পাওনা আদায় করতে গিয়ে মধুর বিপদ হয়েছে জেনে মনটা বিষিয়ে উঠলো। মনে হলো আর্টস বিল্ডিংয়ে আইন ছাত্র নামধারী কিছু বহিরাগত মাস্তানের কবলে পড়েছে আমাদের প্রিয় মধু।
আমাদের সময়ে মধুকে প্রায় সব ছাত্রই মধু-ই বলতো, মধুদা নয়। কারণ, তখন মধুর সংগে ছাত্র-ছাত্রীদের বয়সের তফাৎ পনেরোর বেশি ছিল না। ল’ ক্লাসের ছাত্রদের মধ্যে কারো কারো বয়স মধুর চাইতেও বেশি ছিল।
কিন্তু তুমি আমার কাছে এসেছ কেন? আমি কী করবো? তুমি বরং ডাকসু অথবা কোনো হলের ভিপি অথবা জেনারেল সেক্রেটারিকে ধরো।
তাতে লাভ হবে না। ওনারা যদি আমার জন্য কিছু করেন তাহলে তাদের বাকির পরিমাণ আরো বাড়তে থাকবে। বিশেষত হলে ইলেকশনের আগে। দূরদর্শী মধু বললো।
তা ঠিক। আমি সায় দিলাম।
আর অনেকেই হয়তো বলবে যে তারা কাজটা করে দেবে কিন্তু আসলে কিছুই করবে না। ফলে বিপদটা আমার মাথার ওপর ঝুলতেই থাকবে।
আমি বললে যে কাজটা হবে তা তুমি জানো কী করে?
আপনি আপনার কথা সব সময়ই রাখেন। বাকির টাকা যেদিন শোধ করবেন বলেছেন ঠিক সেদিনই শোধ করেছেন। মধু উত্তর দিল।
বস্তুত মধুর কাছে আমার ক্রেডিট রেটিং উচু হবার এটাও একটা কারণ ছিল। মোট বাকির পরিমাণ পাচশো টাকার ওপরে চলে গেলেই আমি তাকে একটা সবুজ নোট ধরিয়ে দিতাম। তখন পাকিস্তানি আমলে পাচশো টাকার নোটের রং ছিল সবুজ।
মধুর তাগাদা যে খুব জোরালো হতো তাও নয়।
ওর মুখে সব সময় হাসি লেগে থাকতো।
সেই মুখে কর্কশ স্বর সম্ভব ছিল না।
ভদ্রতা, বিনয় ও সম্ভ্রমের সাথেই মধু তার পাওনার জন্য তাগাদা দিত।
আমার এক খালু মি. সাত্তার, এখন ইনকাম ট্যাক্স কমিশনার। সেগুনবাগিচায় তার অফিস। আমি জানি না তোমাকে উনি সাহায্য করতে পারবেন কি-না। আমি তাকে ঘটনাটা বুঝিয়ে বলবো। তুমি দিন সাতেক পরে তার অফিসে যেও। আমি একটা কাগজে আমার খালুর নাম লিখে তা মধুকে দিয়ে বিদায় জানালাম।
এতে কাজ হয়েছিল।
সাতান্নর শেষ দিকে আমার লন্ডন চলে যাওয়া পর্যন্ত মধুকে ইনকাম ট্যাক্স সংক্রান্ত আর কোন উপদ্রবের মুখোমুখি হতে হয়নি।
প্রায় বারো বছর পরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের কাফে আরাম-এ মধু চা খেতে খেতে জিজ্ঞাসা করলোÑ এত বড় হোটেল, এত বড় রেস্টুরেন্ট, বাকিও পড়ে নিশ্চয়ই অনেক?
হ্যা। হাজার নয়, কারো কারো বাকির পরিমাণ লাখ লাখ টাকারও বেশি।
ওনাদের তাগাদা দিতে হয়? বাকির সব টাকা পান কি?
উত্তর হ্যা এবং না। কেউ কেউ তাগাদার আগেই বিল শোধ করে দেন। আবার কেউ কেউ তাগাদার পরেও শোধ করতে চান না। সব ধরনের কাস্টমার নিয়েই আমাদের চলতে হয়। যেমন তোমাকেও চলতে হয়। আমি বললাম।
ব্যবসার এই কঠিন দিকটা অনেকেই বোঝেন না। জানতে চান না। তারা শুধু সহজ দিকটাই দেখেন। ব্যবসা করে বেচে থাকা যে কঠিন কাজ তা যদি সবাই বুঝতেন। তবে, ব্যবসায়ে লাভ ক্ষতি যাই থাকুক না কেন, এতে আত্মমর্যাদা আছে। কী বলেন? গর্বিত মুখে মধু বললো।
তোমাকে দেখে তাই মনে হচ্ছে। তুমি ব্যবসায়ী। আমি কিন্তু এখনো চাকুরে। আমি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের একজন কর্মচারী মাত্র। তোমার সাথে আমার এটা একটা বিরাট তফাৎ। আমি হেসে বললাম।
কী যে বলেন? আপনার হোটেল কোথায়, আর আমার ক্যান্টিন কোথায়? আপনি কোথায়, আর আমি কোথায়? মধু সলাজভাবে বললো।
কিন্তু একজন স্বাধীন ব্যবসায়ী হিসাবে মধুর সেই নম্রতার সাথে মেশানো ছিল গর্ব এবং বিনয়ের সাথে জড়ানো ছিল অহংকার।
তাই সেদিন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সুট-টাই পরা দেশি-বিদেশি কাস্টমার পরিবৃত রেস্টুরেন্টে পাঞ্জাবি পায়জামা পরা মধু ছিল স্বচ্ছন্দ, সপ্রতিভ ও সবাক।
ব্যবসায়ী মধুর সেই আত্মপ্রত্যয়ী চেহারা আজো মনে পড়ে।
সেটাই ছিল মধুর সঙ্গে আমার শেষ দেখা।
মধুর জন্ম হয়েছিল ১৯ এপৃলে। বছরটা অজানা।
সে সুখী সংসারী মানুষ ছিল। তার পাচটি পুত্র ও ছয়টি কন্যাসন্তান ছিল।
২৬ মার্চ ১৯৭১-এ সকাল সাতটার দিকে হানাদার বাহিনীর গুলিতে মধু স্বর্গবাসী হয়। 

[ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের প্রতিষ্ঠাতা মধুসূদন দে’র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শফিক রেহমান কয়েক দিন আগে নয়া দিগন্তে লেখাটি পাঠিয়েছিলেন। মঙ্গলবার মধুসূদন দে’র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে লেখাটি প্রকাশ করা হলো।]

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.