ঢাকা, শুক্রবার,২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

উপসম্পাদকীয়

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক না থাকলে রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে বিতর্ক কেন?

ইকতেদার আহমেদ

১৭ এপ্রিল ২০১৬,রবিবার, ১৯:০১


ইকতেদার আহমেদ

ইকতেদার আহমেদ

প্রিন্ট

বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ ছাড়া অবশিষ্ট সবাই বাংলা ভাষাভাষী বাঙালি। এ দেশটির জনসংখ্যার একটি নগণ্য অংশ বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এসব উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের পৃথক ভাষা থাকলেও তারা সবাই বাংলায় কথা বলতে সক্ষম। বাংলাদেশের মতো একক জাতি সমন্বয়ে একটি দেশ এরূপ সমরূপতা পৃথিবীতে বিরল। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নকালে রাষ্ট্রভাষা বিষয়ে ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। রাষ্ট্রভাষা বিষয়ে অনুচ্ছেদ নম্বর ৩-এর বক্তব্য শর্তহীন। সংবিধান প্রণয়নের পর আজ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ বছরের ইতিহাসে সংবিধানে ১৬টি সংশোধনী আনা হলেও রাষ্ট্রভাষাসংক্রান্ত অনুচ্ছেদটি পূর্বাপর একই রূপ আছে। 

’৭২-এর সংবিধানের কোথাও এ দেশটির বাঙালিবহির্ভূত জনগোষ্ঠীকে উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি যদিও ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে বৈষম্য প্রদর্শনে বারিতের বিধান এবং এর অতিরিক্ত নাগরিকের অনগ্রসর অংশ হিসেবে উপরোল্লিখিত কারণগুলোর অন্তর্ভুক্তদের প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়নে রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করা যাবে না মর্মে উল্লিখিত বিধানটিও অক্ষুণœ রয়েছে।
সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ নম্বর ২৩ক সন্নিবেশন করে বাঙালি জাতিবহির্ভূত অংশটিকে উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত থাকাকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্রটি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী বাঙালিদের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করে। এ দেশের মানুষ এ সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠলে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতার ওপর গুলিবর্ষণে কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ভাষার দাবির এ প্রাণহানির ঘটনাটি এ দেশে বসবাসরত বাঙালিদের হৃদয়কে স্পর্শ করে এবং অতঃপর বাংলাদেশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত থাকাকালীনই প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষাদিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে। বাঙালি জাতির বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যে আত্মাহুতি, তার প্রতি সম্মানস্বরূপ ১৯৯৯ সালে বিশ্বসংস্থা জাতিসঙ্ঘ ২১ ফেব্রুয়ারিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা বর্তমানে সারা বিশ্বে পালিত হয়।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৯২ শতাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী হলেও সংবিধান প্রণয়নকালীন রাষ্ট্রধর্মসংক্রান্ত কোনো কিছু সংবিধানে উল্লেখ ছিল না। বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনাকে সংবিধানের প্রাণ বলা হয়। সংবিধানের প্রস্তাবনায় উল্লেখ রয়েছে- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানের মূলনীতি হবে। এ প্রস্তাবনার আলোকেই ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এ নীতিগুলো এবং তদসহ এ নীতিগুলো থেকে উদ্ভূত এ ভাগে বর্ণিত অন্য সব নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলে পরিগণিত হবে।
ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ে ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়- ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতা, রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার, কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তার ওপর নিপীড়ন বিলোপ করা হবে। তা ছাড়া ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য বিষয়ে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি বলা হয়- কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। অনুরূপ সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা বিষয়ে ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি বলা হয়- কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের অযোগ্য হবেন না কিংবা সে ক্ষেত্রে তার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না।
দ্বিতীয় ঘোষণাপত্র (পঞ্চদশ সংশোধন) আদেশ, ১৯৭৮ দ্বারা সংবিধানের প্রস্তাবনায় এবং ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বিলোপ করে তদস্থলে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস প্রতিস্থাপন করা হয়। তা ছাড়া ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতাসংক্রান্ত ১২ নম্বর অনুচ্ছেদ অবলুপ্ত করা হয়। একই আদেশের মাধ্যমে প্রস্তাবনার উপরিভাগে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম (দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহের নামে)’ বাক্যটি সন্নিবেশ করা হয়। উপরোল্লিখিত সংশোধনী সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে অনুমোদিত হয়। অতঃপর সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী দ্বারা রাষ্ট্রধর্ম বিষয়ক অনুচ্ছেদ নম্বর ২ক সন্নিবেশ করে শর্তযুক্ত করে বলা হয়- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্ম প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাবে।
সংবিধান (পঞ্চম সংশোধন) আইন, ১৯৭৯ এবং সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বাতিল ও বেআইনি ঘোষিত হলে ’৭২-এর সংবিধানে প্রত্যাবর্তনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণা জোরালো সমর্থন পায়। এরই ফলে পঞ্চদশ সংশোধনী প্রবর্তন করা হলে প্রস্তাবনা ও অনুচ্ছেদ নম্বর ৮ থেকে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ মূলনীতিটি ধর্মনিরপেক্ষতা দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয় এবং অবলুপ্ত অনুচ্ছেদ নম্বর ১২ পুনঃস্থাপন করা হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে। রাষ্ট্রধর্ম নামক অনুচ্ছেদটির শর্তাংশ- ‘তবে অন্যান্য ধর্ম প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাবে’ আরো স্পষ্ট করে ‘তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্্র সমমর্যাদা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করবে’ বাক্যটি দিয়ে। প্রতিস্থাপিত হয় এবং প্রস্তাবনার উপরিভাগে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম (দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে)’ বাক্যটির সাথে ‘পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে’ বাক্যটি সংযোজিত হয়।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলেও স্পষ্টত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আগেকার শর্তাংশের পরিবর্তে নতুন যে শর্তাংশ সন্নিবেশিত হয় তাতে দেখা যায় অন্যান্য প্রধান তিনটি ধর্মাবলম্বী যথা- হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ অন্য ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ ধর্ম পালনে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মতো সমমর্যাদা ও সম-অধিকার ভোগের বিষয়টি রাষ্ট্র কর্তৃক নিশ্চিতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সংবিধানের প্রস্তাবনা ও ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতা, রাষ্ট্র কর্তৃক ধর্মকে কোনো রাজনৈতিক মর্যাদা দান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার, কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তার ওপর নিপীড়ন বিলোপ করার বিধান সত্ত্বেও দেখা যায় অনুচ্ছেদ নম্বর ২ক-এর চেতনার আলোকে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মতো হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও স্বীয় ধর্ম পালনে সমমর্যাদা ও সম-অধিকার রাষ্ট্্র নিশ্চিত করেছে। সুতরাং আপাতদৃষ্টিতে প্রস্তাবনা ও ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতাসংক্রান্ত বিধান রাষ্ট্্রধর্ম ইসলামের বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হলেও শর্তাংশ যুক্তের মাধ্যমে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের নিজ নিজ ধর্ম পালনে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মতো রাষ্ট্্র কর্তৃক সমমর্যাদা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করায় কোনো ধর্মাবলম্বীর স্বীয় ধর্ম পালনের অধিকার খর্ব হওয়ার অবকাশ সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত।
পৃথিবীর সর্বত্র যেকোনো দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মাবলম্বীরা রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও চাকরির ক্ষেত্রে অপরাপর ধর্মাবলম্বীদের তুলনায় গোষ্ঠীগত অবস্থান জোরালো হওয়ার কারণে বিশেষ সুবিধা ভোগ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও প্রথমোক্তটির প্রেসিডেন্ট এবং দ্বিতীয়টির প্রধানমন্ত্রী উভয় দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল স্পর্শ করে শপথ পাঠপূর্বক দায়িত্ব নেন। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাগুজে মুদ্রায় ওহ এড়ফ ডব ঞৎঁংঃ, অর্থাৎ আমরা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসীÑ কথাটি লিপিবদ্ধ থাকায় তা দিয়ে দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর খ্রিষ্টধর্মের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পায়। বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেশটির কাগুজে মুদ্রায় এ ধরনের উক্তি দেশটিতে বসবাসরত অপরাপর ধর্মাবলম্বীদের সমমর্যাদা ও সম-অধিকারের জন্য হানিকর হলেও অপরাপর ধর্মাবলম্বীরা এ বিষয়টি নিয়ে কখনো মাতামাতি করেছে এমনটি পরিলক্ষিত হয়নি। আমাদের পাশের রাষ্ট্র ভারতে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা দ্বিতীয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠী কিন্তু তাদের সংখ্যানুপাতে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও চাকরির ক্ষেত্রে তারা দেশটির বৃহত্তর ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর চেয়ে অনেক পশ্চাৎপদ ও সুবিধাবঞ্চিত। এ ক্ষেত্রে আমাদের বাংলাদেশের চিত্রটি একেবারেই বিপরীত। এখানে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও চাকরির ক্ষেত্রে বৃহত্তর ধর্মগোষ্ঠী ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের তুলনায় অপরাপর ধর্মাবলম্বীরা তাদের সংখ্যানুপাতে সুবিধাজনক ও ভালো অবস্থানে রয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৭০-এর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ ও পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন-পূর্ববর্তী বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছিল তাতে উল্লেখ ছিলÑ ‘ ...আমরা এই শাসনতান্ত্রিক নীতির প্রতি অবিচল ওয়াদাবদ্ধ যে, পবিত্র কুরআন শরিফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরিফ নির্দেশিত ইসলামি নীতির পরিপন্থী কোনো আইনই এ দেশে পাস বা চাপিয়ে দেয়া যেতে পারে না।’ ওই নির্বাচনে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ ভূমিধস বিজয় লাভ করেছিল। এ ভূমিধস বিজয়ের ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্মের প্রতি দলটির যে দৃষ্টিভঙ্গি এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মাবলম্বীরা যে তা দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছিল, সে বিষয়টি সুবিদিত।
আমাদের দেশে বসবাসরত উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠী দেশের সামগ্রিক বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর তুলনায় নগণ্যসংখ্যক হলেও দেশের সব জনগোষ্ঠীর রাষ্ট্রভাষা বাংলার শর্তহীন উল্লেখ তাদের ভাষার অধিকার ক্ষুণœ করেছে, এমন দাবি বিচ্ছিন্নভাবে কদাচিৎ উচ্চারিত হলেও তা কখনো উপরিউক্ত জনগোষ্ঠী সবার নিজ ভাষার দাবি হিসেবে স্থান পায়নি। এর পেছনে মূল যে কারণ তা হলোÑ উপরোল্লিখিত জনগোষ্ঠী বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীভুক্ত সম্প্রদায় এবং এরূপ প্রতিটি সম্প্রদায়ের ভাষা ভিন্ন।
রাষ্ট্রভাষা বিষয়টি যে দৃষ্টিকোণ থেকে অবিতর্কিত অনুরূপ দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রধর্ম বিষয়টিও অবিতর্কিত হওয়ার কথা। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু তথাকথিত সুশীলসমাজ নামধারী ব্যক্তি রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বিতর্কিত করার প্রয়াস নেয়। অথচ পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ২ক নম্বর অনুচ্ছেদে এ বিষয়টির সাথে শর্তাংশ যুক্ত করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করায় তাতে জনসমর্থন তারা পাচ্ছে না। ফলে এটিকে তারা বিতর্কের পর্যায়ে নিয়ে যেতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং নিষ্ফল প্রয়াস হিসেবে এমন বিতর্ক পরিত্যাগ করাই উত্তম।

লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
E-mail: iktederahmed@yahoo.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫