ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

বৈরী হাওয়ায় বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিল

সৈয়দ আবদাল আহমদ

১৪ মার্চ ২০১৬,সোমবার, ১৭:০৩ | আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৬,সোমবার, ১৭:১২


আবদাল আহমদ

আবদাল আহমদ

প্রিন্ট

ক্ষমতাসীন মহল থেকে নতুন কোনো বাধা না এলে আগামী ১৯ মার্চই বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। এই কাউন্সিল বড় পরিসরে অনুষ্ঠানের ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভেন্যু হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বর নিয়েই বিএনপিকে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। কারণ, এখন পর্যন্ত ভেন্যু হিসেবে অন্য কোনো বড় জায়গার ব্যাপারে সরকারের সবুজ সঙ্কেত পাওয়া যায়নি।

বিএনপির এই কাউন্সিল এমন একটি সময়ে হচ্ছে, যখন সত্যিকার অর্থেই দেশের দুর্দিন। আর বিএনপির জন্য সময়টি মোটেই অনুকূল নয়। অনেকটা বৈরী হাওয়ার মধ্যে বিএনপিকে এই কাউন্সিল করতে হচ্ছে। কাউন্সিলের জন্য বিএনপিকে অনেক দিন পর্যন্ত অনুমতিই দেয়া হয়নি। পরে অনুমতি পেলেও জায়গার ব্যাপারে গড়িমসি করা হয়। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কোনোটিই পাওয়া যায়নি। শেষের দিকে এসে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুমতি পাওয়া যায়।
ঝক্কিঝামেলা, অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও কাউন্সিল ঘিরে বিএনপির মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে কাউন্সিলের নানামুখী তৎপরতা চলছে। সারা দেশ থেকে তিন হাজার কাউন্সিলর এতে অংশ নেবেন। ডেলিগেটের সংখ্যা কয়েক হাজার। উদ্বোধনী অধিবেশনে যে বিপুল লোকসমাগম হবে তার জন্য বিএনপি আবারো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে সরকারের কাছে। ইতোমধ্যে দলের চেয়ারপার্সন এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হয়ে গেছে এবং এ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আবার নির্বাচিত হয়েছেন। অবশ্য ১৯ মার্চ কাউন্সিলে এই নির্বাচনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে। কাউন্সিলে নতুন মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটি, নির্বাহী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা কমিটিসহ নতুন নির্বাচিত নেতৃত্বের নাম ঘোষিত হবে। গত পঞ্চম কাউন্সিলে খন্দকার দেলোয়ার হোসেন দলের মহাসচিব হয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে এতদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। নেতাকর্মীরা আশা করছেন, এ কাউন্সিলের পর আর হয়তো ‘ভারপ্রাপ্ত’ শব্দটির প্রয়োজন হবে না।
পত্রপত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী ষষ্ঠ কাউন্সিলে বিএনপির কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে পরিবর্তন আসছে। দলের গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামোতেও বাস্তবভিত্তিক ও সময়োপযোগী পরিবর্তন আনা হচ্ছে। দলের গঠনতন্ত্রেও সংশোধনী আনা হচ্ছে। কাউন্সিলরদের কাছ থেকে শতাধিক প্রস্তাব এসেছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রবীণ ও ত্যাগী রাজনীতিক তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩২ সদস্যের গঠনতন্ত্র সংশোধন উপ-কমিটি কাউন্সিলে উত্থাপনের জন্য ত্রিশটির মতো প্রস্তাব ইতোমধ্যে বাছাই করেছে। দলকে আরো আধুনিক করার লক্ষে দেশের এবং দেশের বাইরে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের বড় রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে কমিটি। কাউন্সিলের জন্য আলোচিত বিষয় হচ্ছে ‘এক নেতা এক পদ’ করার প্রস্তাব। দলে ত্যাগীদের বেশি সংখ্যায় সুযোগ দেয়াই এর লক্ষ্য। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও স্থায়ী কমিটির পরিধি বাড়ানো, বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ সৃষ্টি, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ রাখা না রাখা, ঢাকা মহানগরীর জন্য উত্তর ও দক্ষিণ দু’টি কমিটি করে ঢাকায় বিএনপিকে উজ্জীবিত করা, দলের বিষয়ভিত্তিক থিংথ্যাঙ্ক কমিটি ও ১৭টি সাবজেক্ট কমিটি করা, নারীদের বেশি সংখ্যায় সম্পৃক্ত করা ইত্যাদি প্রস্তাব নিয়ে কাউন্সিলে আলোচনা হবে। দলের নীতিনির্ধারণী কমিটি হিসেবে পরিচিত জাতীয় স্থায়ী কমিটিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ত্যাগী, মেধাবী, কর্মঠ এবং অপেক্ষাকৃত কমবয়সী নেতাদের স্থান দেয়া হচ্ছে। এ কমিটিতে নতুন মুখ যেমন যুক্ত হচ্ছে, তেমনি পুরনো কয়েকজনকে উপদেষ্টা কমিটিতে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
ইতোমধ্যে কাউন্সিলের স্লোগান ঠিক করা হয়েছে এবং লোগো উন্মোচন করা হয়েছে। স্লোগানে গণতান্ত্রিক শাসন ফিরিয়ে আনাই প্রাধান্য পেয়েছে। কাউন্সিলের স্লোগান হচ্ছে ‘দুর্র্নীতি দুঃশাসন হবেই শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ’। লোগো উন্মোচন করে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কাউন্সিল প্রচার উপকমিটির আহ্বায়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আমরা এখন অন্ধকারে আছি। অন্ধকার থেকে আলোতে যেতে চাই। গণতন্ত্র নিখোঁজ হয়ে গেছে। নিখোঁজ গণতন্ত্র খুঁজে বের করে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবই।’ একইভাবে বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও কাউন্সিল উপলক্ষে দেশ ও গণতন্ত্রকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান নির্ধারণ করেছে। যুবদলের স্লোগান হচ্ছে- তারুণ্যে যারা অকুতোভয়, তারাই আনবে সূর্যোদয়’, ছাত্রদল- ‘বাঁচতে চাই, পড়তে চাই, দুর্নীতিমুক্ত দেশ চাই’, মহিলা দল- ‘চেতনায় নারী, বিপ্লবে নারী, গণতন্ত্র ফেরাতে আমরাই পারি’, স্বেচ্ছা সেবক দল- ‘আলোর দিন দূরে নয়, করতে হবে আঁধার জয়’, মুক্তিযোদ্ধা দল- ‘মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র, মুক্ত করো গণতন্ত্র’, শ্রমিক দল- ‘শ্রম দিয়ে শিল্প গড়ব, দেশের আঁধার ঘুচিয়ে দেব’, কৃষক দল- ‘ফলাব ফসল গড়ব দেশ, গণতন্ত্রে বাংলাদেশ’, জাসাস- ‘গাইব মোরা গণতন্ত্রের গান, দুঃশাসনের হবেই অবসান’, তাঁতী দল- শক্ত হাতে বাঁধো তাঁত, কাটাতে হবে আঁধার রাত, মহস্যজীবী দল- ‘জালের টানে ঘুচবে আঁধার, বাংলাদেশ সবার, উলামা দল- ‘জিয়ার আদর্শে দেশ গড়ব, ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখব’।
বিএনপির এই কাউন্সিলের দিকে দেশবাসীও উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে। তারা আশা করেন বিএনপির এই কাউন্সিল গতানুগতিক কোনো কাউন্সিল বা সম্মেলন হবে না। এ কাউন্সিল দেশবাসী তথা সর্বশ্রেণীর মানুষের মনে নতুন আশায় সঞ্চার করবে। মানুষ জানতে চায় দেশকে নিয়ে বিএনপির কী পরিকল্পনা আছে? কী করতে চায় বিএনপি। এ জন্য বিএনপিকে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য একটি ভিশনারী পরিকল্পনা বা সৃষ্টিশীল কর্মসূচি তুলে ধরতে হবে। অতীতে বিএনপির অনেক ভুল হয়েছে। রাজনীতির কৌশলের কাছে বিএনপি বার বার মার খেয়েছে। তাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বিএনপিকে পথ চলতে হবে। কৌশলী হতে হবে এবং প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী চিন্তার মাধ্যমে রাজনীতিতে এগোতে হবে। মেধা, যোগ্যতা ও সৎ মানুষকে কদর করতে হবে। এটা দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের শিক্ষা। রাজনীতিতে ভালো করতে হবে। শহীদ জিয়ার আদর্শকে আঁকড়ে ধরতে হবে। পেছনে তাকিয়ে সময় নষ্ট না করে সামনের দিকে তাকাতে হবে। দেশ, মানুষ এবং দলের স্বার্থেই বিএনপির কাছে এটা সবার প্রত্যাশা।
বিএনপির ৩৭ বছরের রাজনীতি
শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি দীর্ঘ ৩৭ বছর গণতন্ত্রের পক্ষে দেশের সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য ইতিবাচক রাজনীতি করেছে। অন্যান্য দলের সঙ্গে বিএনপির কতগুলো সুস্পষ্ট মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠার পরপরই দলের নীতি, আদর্শ, কর্মপন্থা এবং উদ্দেশ্য-লক্ষ্য ঠিক করে বিএনপি এগিয়ে যায়। এ দল জাতীয়তাবোধকে অখণ্ড, স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাখার জন্য বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের পরিচয়ে জাতিকে তৈরি করে। নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য বিএনপি রাজনৈতিক স্কুল পর্যন্ত গড়ে তুলেছিল। এ দলে দেশের সব পেশার মেধাবী ও সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্বরা জড়িত হন। এ কারণে অল্প সময়ে বিএনপি দেশের জনগণের হৃদয় মন জয় করে। আর তাই বিএনপি জনগণের ভোটে ৫ বার নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ, আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন করেছে। বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। বিএনপি দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি, বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করা, অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং শক্ত ভিতের উপরে দাঁড় করানোর মূল কাজটিই করেছে। আজ দেশের যে অর্থনীতি তার ভিত্তিই তৈরি করেছে বিএনপি। তলাবিহীন ঝুঁড়ির অপবাদ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানই ঘুচিয়েছেন। বহুদলীয় রাজনীতির পাশাপাশি উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি বিএনপির মাধ্যমে তিনিই চালু করেছেন। দেশের ৭০ হাজার গ্রামকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার জন্য তিনিই উদ্যোগ নেন। তার ১৯ দফাভিত্তিক বৈপ্লবিক উন্নয়ন কর্মসূচি দেশের সুফল বয়ে আনে। মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনাবোধ তিনি জাগিয়ে তোলেন। ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠা করে সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে তিনিই জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়ে অনন্য নজির সৃষ্টি করেন। সামরিক ব্যক্তিত্ব হয়েও গণতন্ত্রের প্রতি তার গভীর আস্থা ছিল। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেনÑ জনগণই ক্ষমতার উৎস। তিনি বলতেন, ‘সামরিক শাসন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে না, গণতন্ত্রই এ পর্যন্ত বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ব্যবস্থা।’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি যেমন স্থিতিশীলতা এনেছেন, তেমনি দেশটিকে একটি গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত করতে চেষ্টা চালিয়েছেন। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মূলমন্ত্রে তিনি দেশের মানুষকে সুসংগঠিত করেন। দেশকে বিশ্বের দরবারে সম্মানজনক বিশেষ আসনে অধিষ্ঠিত করেন। অথচ কুচক্রীরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তার শাহাদতের পর জেনারেল এরশাদ বন্দুকের নলের মুখে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে। বিএনপিকে শেষ করে দেয়ার জন্য দলে বার বার ভাঙনের সৃষ্টি করা হয়। দেশবাসীকে সাথে নিয়ে সেই অপচেষ্টা বিএনপি বানচাল করে দেয়। দীর্ঘ নয় বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে বিএনপি আপসহীনভাবে করেছে। এ সংগ্রামে স্বৈরশাসনের অবসানের পর নব্বইয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়। বিএনপির জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। কিন্তু বিএনপি ধ্বংসে ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। এ ষড়যন্ত্রও ফলপ্রসূ হবে না। কারণ বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না। আবার ঘুরে দাঁড়াবে বিএনপি। কাউন্সিল সামনে রেখে ইতোমধ্যে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, গণতন্ত্র এবং জনগণের ভোটের অধিকারকে ফিরিয়ে আনবই। দেশ ও জনগণের প্রতি বিএনপির যে অঙ্গীকার, সেই অঙ্গীকার পূরণ আমরা করবই। ষষ্ঠ কাউন্সিলের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে একটি সুসংগঠিত দল হিসেবে বিএনপির নতুন সৃজনশীল কর্মসূচি দেশবাসী অচিরেই লক্ষ করবেন।
বিএনপি সম্পর্কে খালেদা জিয়ার মূল্যায়ন তার বিভিন্ন বক্তব্যে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতিই বিএনপির মূলমন্ত্র। সত্যিকারের গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপির কাছে গণতান্ত্রিক শাসনের বাইরে কোনো বিকল্প নেই। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৩৭ বছরে বিএনপি তা প্রমাণ করেছে। পঁচাত্তরের একদলীয় শাসনের পর বহুদলীয় গণতান্ত্রিক শাসন বিএনপিই ফিরিয়ে আনে। এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে বিএনপিই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। স্বৈরাচারী এরশাদের কোনো নির্বাচনেই বিএনপি অংশ নেয়নি। ১৯৮৬ সালে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে গিয়ে আওয়ামী লীগই আত্মস্বীকৃত জাতীয় বেঈমান হিসেবে দেশবাসীর কাছে চিহ্নিত হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ইঙ্গিতে জেনারেল নাসিমের ক্যু করার ষড়যন্ত্রও বিএনপি নস্যাৎ করে দেয়। মঈন-ফখরুদ্দীনের ১/১১-র জরুরি সরকারকেও জরুরি অবস্থা তুলে নির্বাচন দিতে বাধ্য করে বিএনপিই। গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিএনপি কখনো আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। গণতন্ত্রকে হত্যা করে শেখ হাসিনার দখলদার সরকার বর্তমানে দেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। একে আবার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। বিএনপির ওপর আবার গণতান্ত্রিক সংগ্রামের দায়িত্ব এসে পড়েছে। এ সংগ্রামে বিএনপির সাথে দেশের গণতন্ত্রমনা সব মানুষকে শরিক হতে হবে। ন্যায়, সত্য ও গণতন্ত্রের আন্দোলন কখনো বৃথা যায় না, বিজয় অনিবার্য।’ মানুষ আশা করে ষষ্ঠ কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপি যে কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাবে, তাতে বাংলাদেশ আবারো গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসবে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫