২১ জুলাই ২০১৯

অভিশংসন এড়াতে পারবেন ট্রাম্প?

-

য্ক্তুরাষ্ট্রের ইতিহাসের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু বিতর্ক জন্ম দেয়ার দিক দিয়ে যে তিনিই প্রথম এ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
তার কাজকর্ম ও কথাবার্তার ধরন দেখে নির্বাচনের আগে কেউ ধারণাই করতে পারেনি যে, হিলারি ক্লিনটনের মতো প্রভাবশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে তিনি বসবেন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটির রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে। তাদের ধারণাটি সত্য না হলেও ট্রাম্প দিনকে দিন প্রমাণ করেছেন যে, তিনি আসলেই ‘অন্যরকম’। প্রচুর মিথ্যা বলা, যৌন কেলেঙ্কারি, ঘুষ দেয়ার অভিযোগ ইত্যাদি নানা অভিযোগে শাসনকালের আড়াই বছর পার না হতেই তিনি ইম্পিচমেন্টের মুখে পড়তে যাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে।
সম্প্রতি মুলারের রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে তার ভাষণের পর সে আশঙ্কা জোরদার হয়েছে। রুশ হস্তক্ষেপসংক্রান্ত তদন্তের বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলারের রিপোর্টে নির্বাচনে ট্রাম্প সম্পর্কে যা বলা হয়েছিল, তাতে মনে করা হচ্ছিল তিনি ট্রাম্পকে নির্দোষিতার পূর্ণ সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পও মুলারের রিপোর্ট ফলাও করে প্রচার করছিলেন। কিন্তু গত ২৯ মে নিজের শেষ কর্মদিবসে এক বোমা ফাটানো মন্তব্য করেন তিনি। ওয়াশিংটনে এক লিখিত বক্তব্যে মুলার বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো অপরাধ করেননিÑ এই বিষয়ে নিশ্চিত হলে তিনি তার প্রতিবেদনে সে কথা স্পষ্ট করেই উল্লেখ করতেন। তবে ট্রাম্প কোনো অপরাধ করেছেন, এমন কোনো সিদ্ধান্তও তিনি গ্রহণ করেননি। বিচার বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে অভিযুক্ত করা তার এখতিয়ারের বাইরে ছিল। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মার্কিন শাসনতন্ত্রে ভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে।
ট্রাম্পের অভিশংসন দাবির বিষয়ে মার্কিন বিচার বিভাগের নীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুলার বলেন, একজন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অপরাধের অভিযোগ আনা যায় না। এটা অসাংবিধানিক। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প শিবিরের পক্ষে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুই বছর ধরে তদন্ত করেন মুলার।
মুলার স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ বিষয়ে তার দুই বছরের তদন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্দোষ সাব্যস্ত করেনি। একই সাথে একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে অভিযুক্ত করার ক্ষমতাও মার্কিন বিচার বিভাগ তাকে দেয়নি। সে ক্ষমতা রয়েছে কেবল কংগ্রেসেরই।
মুলারের এ বক্তব্যের পর থেকে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা নতুন করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসিত করার দাবি তুলেছেন। ডেমোক্র্যাটিক নেতারা বলছেন, মুলারের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার অনুধাবন করা যাচ্ছে, ট্রাম্প অপরাধী কি না, সে সিদ্ধান্ত তিনি কংগ্রেসের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। আর এ কাজের জন্য অভিশংসনপ্রক্রিয়া শুরুর কোনো বিকল্প নেই।
কংগ্রেসের বিচার বিভাগীয় কমিটির প্রধান জেরি ন্যাডলার বলেছেন, মুলারের এই বক্তব্যের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের তদন্তের ভার কংগ্রেসের ঘাড়ে এসে পড়েছে। তারা সে দায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করবেন।
তবে অভিশংসনের পক্ষে নন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচন ও গণতন্ত্র রক্ষার লক্ষ্যে তারা তদন্ত অব্যাহত রাখবেন। এই বিবৃতির কোথাও পেলোসি একবারের জন্যও ‘অভিশংসন’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।
নিউজার্সির সিনেটর কোরি বুকার বলেন, অবিলম্বে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য কংগ্রেসের আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নিউ ইয়র্কের সিনেটর গিলিব্র্যান্ড বলেন, অভিশংসন শুনানি শুরু করার জন্য রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের এখনই সময়। ইন্ডিয়ানার মেয়র বুটিগেইগ এক টুইটার বার্তায় বলেন, একটি অভিশংসনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু সুপারিশ পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে একটি তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সাবেক প্রধান মুলার। তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকা একজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা কোনো বিশেষ কাউন্সেলের কাজ নয়। এ বছরের ১৮ এপ্রিল সংক্ষিপ্ত আকারে মুলারের তদন্ত প্রতিবেদন কংগ্রেসের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এরপর ২৯ মে দেয়া এক বিবৃতিতে নিজের তদন্ত প্রতিবেদনের বক্তব্যই অনেকাংশে পুনরাবৃত্তি করেন তিনি। প্রতিবেদনে ১০টি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ট্রাম্পের তদন্ত প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য বাধা দেয়ার প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে। অন্য দিকে, এ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। টুইটারে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে ‘যথেষ্ট প্রমাণ’ নেই।

ইমপিচমেন্ট কী, কেন ও কিভাবে?

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসনের ঘটনা বিরল। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস, যেখানে আইন তৈরি করা হয়, তারা দেশটির প্রেসিডেন্টসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বলা আছে, বেশ কিছু অপরাধের জন্য প্রেসিডেন্টকেও তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া অর্থাৎ তাকে ইমপিচ করা যেতে পারে। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, ঘুষ নেয়া অথবা অন্য কোনো বড় ধরনের কিংবা লঘু অপরাধ।
আইন অনুসারে ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস থেকে। এটি মার্কিন কংগ্রেসের একটি অংশ। এই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য এটি সেখানে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হতে হবে। আর সেটা পাস হলে পরের ধাপে বিচার অনুষ্ঠিত হবে সিনেটে, যেটা কংগ্রেসের দ্বিতীয় অংশ। সিনেটররা সেখানে বিচারক বা জুরি হিসেবে কাজ করবেন। তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট দোষী কি নির্দোষ। প্রেসিডেন্টকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিতে হলে এ সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সিনেটরকে ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টকে ইমপিচমেন্টের কারণে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়নি। মাত্র দু’জন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। বিল ক্লিনটনকে ১৯৯৮ সালে এবং অ্যান্ড্রু জনসনকে ১৮৬৮ সালে। উভয়ের বিরুদ্ধেই ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হলেও তাদের কাউকেই শেষ পর্যন্ত সিনেটে দোষী সাব্যস্ত করে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়নি। ফলে ইমপিচমেন্টের অর্থ এটা নয় যে, এর প্রক্রিয়া শুরু হলেই প্রেসিডেন্টকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হবে।
তবে কোনোভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যদি শেষ পর্যন্ত ইমপিচ করা সম্ভব হয়ও তাহলে সে ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
ওয়াটারনেট কেলেঙ্কারির কারণে প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে ইমপিচ করা হয়। হ

 


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi