২২ জুলাই ২০১৯

য্দ্ধুবাজ আমেরিকা

-


সারা বিশ্বে শান্তির বদলে আজ অশান্তি ও চরম হতাশাজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার, অবিচার, জুলুম ও নিপীড়ন চরম আকার ধারণ করেছে। পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে যুদ্ধ-বিগ্রহ, হানাহানি ও হত্যাযজ্ঞ চলছে তো চলছেই। কে এ জন্য দায়ী? সহজ উত্তর। যেকোনো সাধারণ মানুষই বলে দেবে ‘আমেরিকা’। এ দেশটি বিশ্বের বুকে সৃষ্টিই হয়েছে হয়তো শুধু যুদ্ধ-বিগ্রহ করা ও করানোর মাধ্যমে মানবতাকে ধ্বংস করার জন্য। সারা বিশ্বের সামরিক ব্যয়ের অর্ধেকই খরচ করে আমেরিকা। স্থানীয় আদিবাসীদের নির্মম-নিষ্ঠুর পন্থায় হত্যা করে ইউরোপীয় বেনিয়ারা ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই প্রতিষ্ঠা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (টহরঃবফ ঝঃধঃবং ড়ভ অসবৎরপধ ইউনাইটেড স্টেটস বা ইউএসএ)। প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে এক দিনের জন্যও এ দেশটি বিনাযুদ্ধ বসে থাকেনি।
আমেরিকার বয়স হয়েছে ২৪৪ বছর। কিন্তু এ পর্যন্ত এ দেশটি যুদ্ধ করছে ৬৩২ বছর। প্রশ্ন হতে পারে ২৪৪ বছর সময়ের মধ্যে ৬৩২ বছর যুদ্ধ হয় কিভাবে ! জী হ্যাঁ, তা-ই হয়েছে। এ যুদ্ধবাজ বা উগ্রবাদী দেশটি একই সময়ে একাধিক দেশে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ চালাচ্ছে সমতালে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি বছর ২.৫৯টি দেশের সাথে এরা যুদ্ধে লিপ্ত। যেমন বর্তমানে সাতটি দেশে এরা যুগপৎ যুদ্ধ করে যাচ্ছে। প্রতিটি দেশে এরাই যুদ্ধের সূচনা করে এবং নিষ্ঠুর ধ্বংসলীলা চালিয়ে যায়। মানুষের ওপর অতি নিষ্ঠুর, নির্মম, নির্দয় ও পৈশাচিক পন্থায় অত্যাচার চালায়। অসহায় নিষ্পাপ শিশু, নারী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কেউই এদের অত্যাচার থেকে রেহাই পায় না। তাদের কারাগারগুলো হলো পৃথিবীর জ্বলন্ত নরক বা জাহান্নাম। ‘গুয়ান্তানামো’ কারাগার এর প্রমাণ বহন করে। আমেরিকার হাতে কত বিলিয়ন মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে, এর সঠিক পরিসংখ্যান কেউ দিতে পারবে না।
এরা বিশ্বের মোড়ল। মানবতার বিরুদ্ধে নিজেরা অস্ত্র ব্যবহার করে ও অন্যদের কাছে বিক্রি করে তা ব্যবহার করার জন্য। পারমাণবিক বোমা এরাই তৈরি করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এরা পারমাণবিক বোমা দিয়ে হিরোশিমাতে প্রায় ১,৪০,০০০ এবং নাগাসাকিতে প্রায় ৭৪ হাজার লোককে হত্যা করে। পরবর্তীকালে এ দুই শহরে বোমার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আরো ২,১৪,০০০ মানুষ। জাপানের আসাহি শিমবুনের হিসাব অনুযায়ী বোমার প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগগুলোর ওপর হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য গণনায় ধরে হিরোশিমায় ২,৩৭,০০০ এবং নাগাসাকিতে ১,৩৫,০০০ লোকের মৃত্যু ঘটে। দুই শহরেই মৃত্যুবরণকারীদের বেশির ভাগই ছিলেন বেসামরিক ব্যক্তি। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া প্রভৃতি দেশগুলোতে আমেরিকার ধ্বংস লীলার সঠিক খবর কেবল আল্লাহ্ সুবাহানু ওয়াতায়ালার নিকটই আছে। এভাবে তাদের মানুষ হত্যার পরিসংখ্যান হলো, ‘অগণিত’।
শুধু নিজেদের যুদ্ধই নয়, এরা সৃষ্টি করেছে পৃথিবীর আরেকটি সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী রাষ্ট্র ‘ঝঃধঃব ড়ভ ওংৎধবষ’. এরা মানবতার চির শত্রুতে পরিণত হয়েছে। আরো সৃষ্টি করেছে ‘আলকায়েদা’, ‘ইসলামিক স্টেটস’ প্রভৃতি নানা নামে অসংখ্য সন্ত্রাসী সংগঠন এবং তাদের অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ, আশ্রয়-প্রশ্রয় সবই দিয়ে থাকে আমেরিকা। সারা বিশ্বকে এরা জ্বলন্ত নরকে পরিণত করেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে, বিশ্বের সর্বাধিক শক্তিশালী যুদ্ধংদেহী এ দেশকে অন্যান্য স্বৈরাচারী দেশগুলো আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে একই কায়দায় জনগণের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ, এরা নিরপরাধ ‘ইরান’কে ধ্বংস করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছে। হয়তো মহান আল্লাহ্ সুবাহানু ওয়া তায়ালাই ভালো জানেন এদের দৌঁড় আর কত দীর্ঘ হবে এবং পৃথিবীতে শান্তির সুবাতাস কখন থেকে বহমান হবে! হ

 

 


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi