২২ মে ২০১৯

তুরস্ককে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়েছে এই নির্বাচন

রজব তাইয়েব এরদোগান -

তুরস্কের স্থানীয় নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল একে পার্টি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের দল টানা ১৫ বারের মতো জয় পেয়েছে। তুরস্কের স্থানীয় নির্বাচনে ১৯৯৪ সালে ইসলামপন্থীদের যে বিজয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল তা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের ক্ষমতাসীন দল একেপি।
প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের জোট প্রায় ৫২ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিতভাবে পাওয়া ভোটের চেয়ে বেশি। অবশ্য রাজধানীসহ প্রধান দুটি শহরে হেরে গেছে একেপি জোট। বিরোধী দল সিএইচপি তুরস্কের বৃহত্তম তিনটি শহর আঙ্কারা, ইস্তাম্বুল ও ইজমির পাশাপাশি বিলেসিক, বলু ও কিশেহিরের কেন্দ্রীয় আনাতোলিয়ান প্রদেশগুলোতে মেয়র পদে জিতেছে, যা এর আগে একে পার্টির হাতে ছিল।
সর্বমোট ৩০টি সিটি করপোরেশন, ৫১টি জেলা পৌরসভা, ৩৩৪টি সিটি করপোরেশন অধীনস্থ পৌরসভা এবং ৯৭৩টি উপজেলা পৌরসভায় (বাংলাদেশের ইউনিয়নের মতো) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি সিটিতে জয়ী হয়ে এরদোগানের একে পার্টি। বিজয়ী সিটিগুলো হলো: কোনিয়া, বুরসা, কায়সেরি, উরফা গাজি আনতেপ, ট্রাবজন, এরজুরুম,বালিকসেহির, দেনিজলি, কাহরামান মারাশ, খোজায়েলি, মালাতিয়া, ওর্দু, সাকারিয়া ও সামসুন।
এ ছাড়া সিএইচপি (আতার্তুক) জয়ী হয় ১০টি সিটিতে। তাদের জয়ী হওয়া সিটিগুলো হলো- আঙ্কারা, ইজমির, আনাতোলিয়া, এসকেসেহির, আদানা, মার্সিন, মুলা, আইদিন, হাতায় ও টেকিরদাগ। এমএইচপি (জাতীয়তাবাদী) জয় পায় মানিসা সিটিতে। এ ছাড়া এইচডিপি (কুর্দি): তিনটি (কুর্দি অধ্যুষিত ভান, দিয়ারবাকির ও মার্দিন)।
সামগ্রিক ফলাফলে একে পার্টি সিটি নির্বাচনে আঙ্কারা এবং আনাতোলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিটিতে পরাজিত হলেও দেশের সামগ্রিক ফলাফলে তারা অতীতের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে। যেমন আঙ্কারায় একে পার্টি সিটি নির্বাচনে পরাজিত হলেও আঙ্কারা সিটির অধীনস্থ ২৫টি পৌরসভার মধ্যে একে পার্টি ১৯টি, জাতীয়তাবাদী এমএইচপি ৩টি এবং আতার্তুকের সিএইচপি মাত্র ৩টিতে বিজয়ী হয়েছে। সিএইচপি আঙ্কারা সিটি নির্বাচনে ৫০.৬২ শতাংশ ভোট পেলেও পৌরসভাগুলোতে মাত্র ৩৬.৭৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
তুরস্কের এবারের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে শহুরে বনাম গ্রামীণ এই দুই অঞ্চল জয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায় এরদোগান হেরেছেন ঘনবসতিপূর্ণ শহরে। কিন্তু জিতেছেন কম জনবসতিপূর্ণ গ্রামীণ শহরে। নির্বাচনে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে হেরে যাওয়ার পেছনে বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার খরচ ক্রমবর্ধমান থাকাকে দায়ী করা হয়েছে। ২০১৭ সালের সাংবিধানিক গণভোটের পর তুর্কি সরকার মহানগরীগুলোতে ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিরোধী দল দেশের সবচেয়ে ২০ জনবহুল শহরের অর্ধেকের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে, যা এরদোগানের দলকে বেশ ভাবাবে। এই নির্বাচনে তুরস্কের অর্থনৈতিক মন্দা ও বাড়তি বেকারত্বের মধ্যেও এরদোগান তার দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরদোগান নতুন করে অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দেয়ার কারণে তার পক্ষে আবার বড় পরিবর্তন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সর্বোপরি বলা যায়, বিভিন্ন সময় তুরস্কের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক বিকাশ নিয়ে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু এই নির্বাচনের ফলে দেখা যাচ্ছে তুর্কি জনগণ গণতন্ত্রের মৌলিক বিষয় ভোটাধিকার মুক্তভাবে প্রয়োগ করেছে। বিরোধী নেতারা বড় শহরগুলোতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য উপভোগ করেছেন। তারা মনে করেন এরদোগানের দলের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে পরাজিত করা সম্ভব।
এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া তুরস্ককে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের অন্যতম দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্ব মঞ্চে তুরস্ক নিজেদের অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরতে পারবে। যেসব সমস্যার মোকাবেলায় এরদোগান এই নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন তার থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিনগুলোতে কোন পথে এগোতে হবে তার নির্দেশনাও রয়েছে। হ

 


আরো সংবাদ

কাশ্মীরে নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতনের লোমহর্ষক বিবরণ সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে : প্রধানমন্ত্রী পেশাজীবীদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার ৬ মাস পর কারামুক্ত বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলম নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে তিন মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ২ জুলাই ৩ টাকার বালিশ তুলতে খরচ ৫ টাকা? রুমিন ফারহানার প্রার্থিতা বৈধ কৃষকেরা অধিকার থেকে বঞ্চিত : মাওলানা আতাউল্লাহ শাহজালাল বিমানবন্দরে সোয়া ৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ একজন গ্রেফতার পশ্চিম রাজাবাজারের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি আওয়ামী লীগ-বিএনপির তরুণ নেতাদের

সকল




agario agario - agario