১৬ অক্টোবর ২০১৮

অসলো চুক্তি ও ফিলিস্তিন পরিস্থিতি

-

ফিলিস্তিনিদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর লাখ লাখ ফিলিস্তিনি মুসলমান রাতারাতি উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়। ফিলিস্তিনের অবিসংবাদিত নেতা পিএলও চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাত মাতৃভূমির স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে এক লড়াকু সৈনিক হিসেবে ফিলিস্তিনিদের ঐক্যবদ্ধ করে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। তার সাহসী নেতৃত্ব ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ইসরাইল পিএলওর সাথে শান্তি আলোচনায় মিলিত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ২৫ বছর আগে ১৯৯৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউজে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বিল কিনটনের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত ও তৎকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিন। ওই চুক্তির ২৫ বছরপূর্তি হয়েছে চলতি বছর; কিন্তু এই চুক্তির পর মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কি কোনো উন্নতি হয়েছে?
আমরা জানি, দীর্ঘ ২৫ বছর আগের ওই চুক্তিতে ফিলিস্তিনিরা স্বশাসনের আংশিক অধিকার ফিরে পাবে এবং ইসরাইল পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে বলে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। তার বিনিময়ে ইসরাইলি রাষ্ট্রের বৈধতা স্বীকার করে নেবে পিএলও, এই বোঝাপড়া হয়েছিল। হামাসের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিরা রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলকে মেনে নিতে বাধ্য হন। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের প্রকৃত স্বশাসন অর্জিত হয়নি। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বপ্ন পূরণ তো দূরের কথা, বিশ্লেষকদের অভিমত হচ্ছে চুক্তি স্বাক্ষরের পর আরাফাত-রবিন হাত মেলানোর মধ্য দিয়ে কয়েক দশকের ইসরাইল-ফিলিস্তিন সঙ্ঘাতের অবসান এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার যে আশার সঞ্চার হয়েছিলÑ পরবর্তীকালে ক্রমেই তা নিরাশায় পরিণত হয়েছে। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওই চুক্তি থেকে সম্পূর্ণরূপে সরে এসেছেন।
চুক্তির রূপকার ইয়াসির আরাফাত, আইজ্যাক রবিন ও ইসরাইলের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিমন পেরেজ মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে পরবর্তীকালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।
১৯৯৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউজের লনে অসলো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় তিন হাজার আমন্ত্রিত অতিথি। তারা চুক্তি স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করেছিলেন।
ওই ঐতিহাসিক চুক্তির পর ১৯৯৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিনে অন্তর্বর্তী শাসন শুরু হয়। দুই মাস পর ২৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে নিজ ভূখণ্ডে ফিরে আসেন ইয়াসির আরাফাত। গঠন করেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পথ সুগম করার জন্য ওই কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পায়। পরের বছর সেপ্টেম্বরে অসলো-২ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। পশ্চিম তীরে স্বশাসনের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু ৪ নভেম্বর চুক্তিবিরোধী কট্টরপন্থী একটি ইহুদি সংগঠনের পক্ষ থেকে আইজ্যাক রবিনকে হত্যা করা হয়। চুক্তি বাস্তবায়নে এটা ছিল একটি বড় বাধা। ২০০০ সালে শুরু হয় দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইনতিফাদা।
এ ধরনের চরম বৈরী পরিস্থিতিতে ২০১৩ সালে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে এক নতুন সমঝোতা শুরু হয়। কিন্তু সর্বশেষ এই সমঝোতা কোনো ফল বয়ে আনেনি। ২৫ বছর আগের অসলো চুক্তি যেখানে ছিল সেখানেই পড়ে আছে। ফিলিস্তিনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও আলোচক এবং ফাতাহ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সায়েব এরাকাত বলেছেনÑ ইসরাইলের বর্তমান কর্মকাণ্ডের কারণে অসলো চুক্তি এখন মৃত। ওয়াশিংটনে পিএলও অফিস বন্ধ করে দেয়াসহ ফিলিস্তিনি তহবিলে মার্কিন সহায়তা বন্ধের সাম্প্রতিক কার্যক্রম অনাকাক্সিত। বর্তমান মার্কিন প্রশাসন স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দেয়ার গর্হিত তৎপরতায় লিপ্ত। জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা এবং ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্ব ও অন্যান্য রাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করার পর ট্রাম্প প্রশাসন অত্যন্ত অন্যায় তৎপরতা ও বাড়াবাড়ি অব্যাহত রেখেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিন সঙ্কট সমাধানে জাতিসঙ্ঘ, ওআইসি, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বসম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। হ

 


আরো সংবাদ