২১ নভেম্বর ২০১৮

হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বাগযুদ্ধ

-

ইরানের তেল রফতানি বন্ধ করে দেয়ার যে সর্বশেষ হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সে রকম কিছু করলে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে। আরব উপসাগরে পানিপথে তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট এ প্রণালী। এ পথ বন্ধ করা হলে তা গোটা বিশ্বের তেল বাজারে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। তেল পরিবহনে চরম বিঘœ ঘটবে এবং তেলের দাম মুহূর্তের মধ্যেই অনেক বেড়ে যাবে।
ট্রাম্প ইরান চুক্তি থেকে সরে আসার পরপরই ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক তেল বাজার থেকে ইরানকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে এবং নভেম্বরের মধ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশকে ইরানের কাছ থেকে অশোধিত তেল কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও আরো কঠোর পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন। ইরানের ওপর বাড়তি আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলেছেন তিনি। তবে তিনি এটাও বলেছেন, ইরান যদি দূরপাল্লার পেণাস্ত্র তৈরির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় এবং আঞ্চলিক সঙ্ঘাতে হস্তপে না করে তাহলে ওই দেশের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না।
নিজের বক্তব্যে পম্পেও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সমাজেরও সহায়তা চেয়েছেন। তবে এখন অবধি ইরান ছাড়া অন্য কোনো দেশ এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সে দেশের প্রেসিডেন্ট আমেরিকার প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধের চেষ্টা করলে তার পরিণাম ভয়াবহ হবে।
যে কারণে হরমুজ প্রণালী এত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান কি সত্যিই হরমুজ প্রণালী বন্ধে সম?
ইরানের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানের তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়া হবে। কিন্তু তেহরান কি আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ পথ বন্ধে সম?
পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের অন্যতম বড় কয়েকটি অশোধিত তেল উৎপাদক দেশ এ পানিপথ দিয়েই তাদের তেল রফতানি করে থাকে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে কুয়েত, বাহরাইন, ইরান, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সঙ্কীর্ণ অংশটি ১৯ কিলোমিটার প্রশস্ত। আর এ প্রণালীর শিপিং লেন তিন কিলোমিটার প্রশস্ত।
যেহেতু শীর্ষ পাঁচ তেল রফতানিকারক দেশের অবস্থান আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে, সেহেতু হরমুজ প্রণালী থেকে তেল পরিবহনের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। কালো সোনা বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হচ্ছে এটি।
সমুদ্রপথে বিশ্বের যে পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়, তার এক-তৃতীয়াংশই এ প্রণালী ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়। আর কাতার যেহেতু বিশ্বের অন্যতম বড় তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) উৎপাদক, সেহেতু ওই গ্যাসের প্রায় পুরোটাই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বহির্বিশ্বে রফতানি করা হয়।
বিশ্ব অর্থনীতি যত দিন তেলের ওপর নির্ভরশীল থাকবে, তত দিন এই প্রণালী থেকে তেল পরিবহনে কিছুটা বা অল্পসময়ের জন্য বিঘœ ঘটলেও তেলের বাজারে সেটির নাটকীয় প্রভাব পড়তে বাধ্য। কেননা এতে কুয়েত, বাহরাইন, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল রফতানি বন্ধ হয়ে যাবে। আর সৌদি আরব তখন শুধু লোহিত সাগরে থাকা সমুদ্রবন্দর থেকে তেল রফতানি করতে বাধ্য হবে।
কিন্তু হরমুজ প্রণালী কি বন্ধ করা সম্ভব?
১৯৮২ সালে স্বারিত জাতিসঙ্ঘের সমুদ্র আইন সম্পর্কিত কনভেনশন অনুযায়ী একটি দেশের তটরেখা থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল অবধি সেই দেশের সমুদ্রসীমা হিসেবে বিবেচিত হবে। এখন পারস্য উপসাগরে যেতে যেসব সমুদ্রযান উত্তর এবং দণি রুট ব্যবহারে বাধ্য হয় সেগুলোকে তাত্ত্বিক বিবেচনায় বাধা দিতে পারে ইরান।
তবে জাতিসঙ্ঘের এ সংক্রান্ত কনভেনশনের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যাও দিতে পারে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান সরকার ১৯৮২ সালে তাতে স্বার করলেও সেটি কখনোই সে দেশের সংসদে অনুমোদিত হয়নি। তা ছাড়া পানিপথটি ব্যবহারে বাধা দিয়ে ইরান তার প্রতিবেশী তেল রফতানিকারী দেশগুলো এবং তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ব্যাপক আর্থিক তি করতে সম হলেও নিজেও আর্থিকভাবে তিগ্রস্ত হবে। কেননা প্রণালীর কিছু অংশ তখন সে দেশও ব্যবহার করতে পারবে না। আর তেহরান শুধু এখনই নয়, অতীতেও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। মোটের ওপর, এ প্রণালী নিয়ে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বহু দশক ধরেই একধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। হ

 


আরো সংবাদ