২১ নভেম্বর ২০১৮

যেভাবে আজকের এরদোগান

-

ইস্তাম্বুলের কাশিমপাশায় ১৯৫৪ সালে জন্মগ্রহন করেন এরদোগান। বাবা ছিলেন তুর্কি কোস্ট গার্ডের ক্যাপ্টেন। পরিবারে সচ্ছলতা থাকলেও তরুণ এরদোগান নিজের খরচ চালানোর জন্য লেবুর শরবত ও তিলের রুটি বিক্রি করেন। মারমারা ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়ার সময় ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। যোগ দেন কমিউনিজম বিরোধী ন্যাশনাল টার্কিস স্টুডেন্ট ইউনিয়নে। ফুটবলও খেলতেন স্থানীয় একটি নামকরা কাবে। ছাত্রজীবন শেষে যোগ দেন নাজিমউদ্দিন আরবাকানের ন্যাশনাল স্যালভেশন পার্টির যুব সংগঠনে। ১৯৮০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দলটি বিলুপ্ত করা হলে আরবাকানের নতুন দল ওয়েলফেয়ার পার্টিতে যোগ দেন। এ দল থেকেই ১৯৯৪ সালে নির্বাচিত হন ইস্তাম্বুলের মেয়র। বিশৃঙ্খল আর অনুন্নত ইস্তাম্বুলকে আমূল পাল্টে দেন তিনি। কয়েক বছরের মধ্যে ইউরোপের বড় শহরগুলোর সাথে পাল্লা দিতে শুরু করে ইস্তাম্বুল। বাড়তে থাকে এরদোগানের জনপ্রিয়তা। যা তাকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে দেশের সর্বোচ্চ পদে।
১৯৯৮ সালে তৎকালীন সেক্যুলার সরকার ওয়েলফেয়ার পার্টি নিষিদ্ধ করলে হাজারো নাগরিকের সাথে বিক্ষোভে অংশ নেন এরদোগান। বিক্ষোভে একটি কবিতা আবৃত্তির কারণে তার ওপর ক্ষুব্ধ হয় সরকার। কবিতাটি ছিল, ‘মসজিদ আমাদের ক্যান্টনমেন্ট, গম্বুজ আমাদের হেলমেট, মিনার আমাদের বেয়নেট আর বিশ্বাসীরা আমাদের সৈনিক।’ কয়েক মাস জেল খাটতে হয় তাকে, সেই সাথে পরতে হয় রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে। কেড়ে নেয়া হয় মেয়র পদও। ২০০১ সালে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টি। ২০০২ সালে প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েই জয়লাভ করে দলটি। মূলত এরদোগানের সুনাম আর জাদুকরী নেতৃত্বই ছিল দলটির প্রধান পুঁজি। রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে এমপি ও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি তিনি। ২০০৩ সালে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলে এক উপ-নির্বাচনে অংশ নিয়ে পার্লামেন্টে আসেন এবং প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর ২০০৭ ও ২০১১ সালের নির্বাচনেও জয় লাভ করে তার দল। তুরস্কের ইতিহাসে প্রথম নেতা হিসেবে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করে শপথ নেন তুরস্কের ১২তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে। এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হলেন প্রেসিডেন্ট।


আরো সংবাদ