০৬ ডিসেম্বর ২০১৯

দুই গোয়েন্দার অভিযান

-

পাঁচ.
জোয়ার বেড়েছে। প্রায় ঢেকে ফেলেছে ওকে পানি। সরার চেষ্টা করতে গিয়ে খ্যাঁচ করে যেন তীক্ষè ব্যথা ছড়িয়ে পড়ল মাথার পেছনটায়।
খুলি ফেটে গেছে নাকি!
ভয় পেয়ে গেল সে। মুখ বিকৃত করে রেখে ধীরে ধীরে সরে যেতে শুরু করল পানি থেকে দূরে বালির ওপর দিকে। এই সামান্য পরিশ্রমেও কাহিল হয়ে যাচ্ছে।
অবশেষে পানি থেকে কয়েক ফুট দূরে একটা বালির ঢিবিতে উঠে আশ্রয় নিলো। হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে বিশ্রাম নিতে লাগল। শক্তি ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা করছে। বাঁ হাতের তালু রয়েছে বালিতে। ডান হাতের তালু পড়েছে শক্ত কোনো কিছুতে। খোসা ছাড়ানো নারকেলের সমান। পিচ্ছিল।
প্রথমে গুরুত্ব দিলো না। সমুদ্র-সৈকতে নারকেল থাকতেই পারে। কিন্তু খোসা ছাড়ানো? উঁহুঁ, সেটা সম্ভব নয়!
আঙুলের স্পর্শে জিনিসটা কী বোঝার চেষ্টা করল। আচমকা বেড়ে গেল নাড়ির গতি। মানুষের মুখ না তো? হয়তো জাহাজডুবি মানুষ, বালিতে অর্ধেক দেবে রয়েছে!
ক্লান্তি উধাও হয়ে গেল মুহূর্তে। এক কনুইয়ে ভর রেখে উঁচু হলো সে। ঠিক এই সময় দূর থেকে কানে এলো চিৎকার-চেঁচামেচি। ওর নাম ধরে ডাকছে।
‘এই যে আমি এখানে!’ চিৎকার করে জানাল সুজা। খসখসে কণ্ঠস্বর। জিভে লবণের স্বাদ। হাঁটু গেড়ে বসে আবার চিৎকার করল।
সুজার চিৎকার শুনে ছুটে এলো রেজা। সাথে জেরি, রিড, নেড ও জিমি।
হাত ধরে সুজাকে টেনে তুলল রেজা। জিজ্ঞেস করল, ‘কী হয়েছে তোমার?’
‘নারকেলের ডাল পড়েছিল,’ মাথার পেছনে হাত চলে গেল সুজার। ডিমের মতো ফুলে উঠেছে জায়গাটা। (চলবে)

 


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik