০৬ ডিসেম্বর ২০১৯

দুই গোয়েন্দার অভিযান অভিযান

-

সাঁইত্রিশ.
অস্ফুট একটা গোঙানি বেরিয়ে এলো সুজার মুখ থেকে। রেজার হাত চেপে ধরল। থরথর করে কাঁপছে। ডালের ওপর বসে পড়ল দু’জনে। ওঠার সময় প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে কোনো কিছুই খেয়াল ছিল না, উঠে পড়েছিল। এখন বৃষ্টিভেজা পিচ্ছিল গাছ বেয়ে নামতে ভয় লাগছে। পিছলে পড়ে যদি?
কিন্তু সারা রাত এখানে বৃষ্টির মধ্যে ভেজা কাপড়ে বসে থাকা যাবে না। হিরণ-দানবের হাত থেকে বেঁচে গিয়ে শেষে ‘জীবাণু-দানবের’ আক্রমণে নিউমোনিয়া হয়ে মরতে হবে।
নামতে শুরু করল দু’জনে। সুজার অবস্থা শোচনীয়। রেজার অবস্থা তার চেয়ে খারাপ। তবে নিরাপদেই মাটিতে নেমে এলো ওরা। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
দানবটার সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না আর। যাওয়ার কথাও নয়। এত নিচে পড়েছে, তৃতীয়বার বোধহয় আর জীবন ফিরে পাবে না সে।
ভীষণ কর্দমাক্ত বুনোপথ বেয়ে প্রাসাদের দিকে ফিরে চলল দু’জনে।
এত কষ্টের মধ্যেও হিরণ কুমারের জন্য দুঃখ লাগছে রেজার। গবেষণা সফল হয়েছিল তাঁর। দ্বিতীয়বার বেঁচেও উঠেছিলেন। কিন্তু অসময়ে অস্বাভাবিক ভাবে জেগে ওঠাতেই বোধহয় দানবে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী করতে লাগল রেজা। পাইপটা কাটা না পড়লে অকালে হিমাগার থেকে হয়তো উঠে আসতে হতো না হিরণ কুমারকে। এভাবে মরতেও হতো না।
পুরো ঘটনাটাই একটা অ্যাক্সিডেন্ট ভেবে মনকে বোঝানোর চেষ্টা করতে লাগল সে। পারল না। মনে মনে দগ্ধ হতে থাকল ভীষণভাবে। কেবলই মনে হচ্ছে, সে ঘাস কাটতে ওদিকে না গেলেই তো আর ঘাস কাটা যন্ত্রে লেগে পাইপটা কাটত না।
শেষ হলো হিরণ কুমারের অসমাপ্ত ছবির গল্প। মর্মান্তিক পরিসমাপ্তি!
সুজা ভাবছে, এ ভাবে ছবিটা শেষ হলে দর্শক হিসেবে তার কেমন লাগত?
ভালো লাগত না। অবশ্যই না। কোনো সন্দেহ নেই তার। (শেষ)


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik