২১ নভেম্বর ২০১৯

দুই গোয়েন্দার অভিযান অভিযান

-

চব্বিশ.

‘জগন্ময় কী জন্য এত ঘন ঘন আসত এ বাড়িতে?’ ভুরু নাচাল রেজা। ‘শুধুই কি বাড়ির লোককে ভয় দেখাতে? নাকি হিরণ কুমারকে দেখতে? তদারক করতেও তো আসতে পারে, ক্রায়োচেম্বারের সব কিছু ঠিকঠাক আছে কি না, বন্ধুর অতি ঘুমে বিঘœ হচ্ছে কি না...’
‘অতি ঘুম মানে?’
‘হাইবারনেশন, হাইবারনেশন,’ রেজা বলল। ‘টিভিতে দেখোনি সারা শীতকাল ধরে ভালুকেরা কিভাবে গর্তে পড়ে পড়ে ঘুমায়, আধমরার মতো হয়ে থাকে, যাতে তাদের দেহের শক্তি অতিরিক্ত খরচ না হয়? যাতে অসময়ে গর্ত থেকে খাবারের খোঁজে বেরোতে না হয়? আমার অনুমান ভুল না হয়ে থাকলে হিরণ কুমারও ঠিক একই কাজ করছে।’
‘তার মানে তুমি বলতে চাও,’ চায়ের কাপটা নামিয়ে রাখল সুজা, কণ্ঠে ভীষণ উত্তেজনা, ‘হাইবারনেটিং করে বেঁচে রয়েছেন তিনি আবার নতুন জীবন লাভের আশায়? রেজা, আমাকে বলেছ বলেছ, আর কাউকে বলো না। কেউ বিশ্বাস করবে না আমাদের কথা। শেষে আমাদের ঠিকানাও হবে হাসপাতালে, জগন্ময়ের মতোই।’
‘জগন্ময় সব কথা জানে। সে বললে আমাদের কথা অবিশ্বাস করতে পারবে না কেউ।’
‘জগন্ময় যদি মুখ না খোলে? আমার কি মনে হয় জানো?’
‘কী?’
‘জগন্ময় পাগল নয়। পাগলের ভান করে বাঁচতে চাইছে।’
সুজার কথায় আরো একটা ভয়ঙ্কর সম্ভাবনার কথা মাথায় ঢুকল রেজার। রাতের বেলাই তড়িঘড়ি করে হিরণ কুমারের লাশ পুড়িয়ে ফেলার কী দরকার ছিল? তা ছাড়া, কার লাশ পোড়ানো হয়েছে গাঁয়ের লোকে দেখেনি।
(চলবে)


আরো সংবাদ