২৪ মে ২০১৯

বিশ্ব ঐতিহ্য জেবেল বারকাল

-

আজ তোমরা জানবে জেবেল বারকাল সম্পর্কে । ২০০৩ সালে জেবেল বারকাল আর এর পাদদেশের নাবাতা শহর ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের মর্যাদায় ভূষিত হয়। লিখেছেন মুহাম্মদ রোকনুদ্দৌলাহ্
জেবেল বারকাল মানে পবিত্র পর্বত। ছোট্ট এই পর্বতটির অবস্থান কারিমা শহরে, নীল নদের বড় একটি বাঁকে। সুদানের রাজধানী খার্তুম থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তরে নুবিয়া এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে এটি।
কুশিতীয় ও মিসরীয় উভয় জাতি বিশ্বাস করত, এটি এমন একটি স্থান যেখানে পৃথিবীর প্রাণের সূত্রপাত হয়। ইতিহাসের সব যুগেই পর্বতটি নুবিয়ার ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এখানে নির্মিত হয় অনেক মন্দির। এগুলোরই একটি আমুন মন্দির। এ মন্দিরে প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হতো। আর ফারাওদের (সম্রাট) টীকাও রচিত হতো এখানে। ২০০৩ সালে জেবেল বারকাল আর এর পাদদেশের নাবাতা শহর ইউনেস্কোর বিশ্বঐতিহ্য স্থানের মর্যাদায় ভূষিত হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ১৪৫০ সালের দিকে মিসরীয় ফারাও তৃতীয় থুতমোস এই অঞ্চল পর্যন্ত তার সাম্রাজ্য বিস্তার করেন এবং জেবেল বারকালকে দক্ষিণের সীমানা বিবেচনা করেন। তিনি নাবাতা পর্যন্ত অভিযান চালান। এর ৩০০ বছর পরে এটি স্বাধীন কুশ রাজ্যের রাজধানী হয়। ২৫তম রাজবংশের নুবীয় রাজা পরবর্তীকালে এখানে আমুনের নতুন রাজ্য মন্দির বড় করেন।
১৮২০-এর দশকে ইউরোপীয় অভিযানকারীরা জেবেল বারকাল-এর চার পাশে কমপক্ষে ১৩টি মন্দির ও তিনটি প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান। ১৮৬২ সালে মিসরীয় কর্মকর্তারা এখান থেকে অতি প্রাচীন তিনটি অভিলিখন উদ্ধার করেন, যা কায়রো জাদুঘরে স্থান পায়। ১৯১৬ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বোস্টনের মিউজিয়াম অব ফাইন আর্টস জর্জ রেইসনারের পরিচালনায় এখানে খননকাজ চালায়। ১৯৭০-এর দশকে সার্জিও ডোনাডোনি এখানে কাজ করেন। ১৯৮০-এর দশকে বোস্টন মিউজিয়ামের একটি দল এখানে টিমোথি কেনড্যালের অধীনে গবেষণা চালান। স্থানীয়দের কাজে আমুনের মতো বড় মন্দিরগুলো এখনো পবিত্র। পর্বতটির উচ্চতা ৯৮ মিটার। এর উপরিভাগ সমতল। দূর থেকে দেখা যাওয়ায় মধ্য আফ্রিকা, আরব ও মিসরের প্রাচীন বণিকেরা এ পর্বত এলাকায় আসত বাণিজ্যপথের বড় নদী পারাপারের জন্য। আজো এ পর্বত মানুষকে আকর্ষণ করে।
তথ্যসূত্র : ওয়েবসাইট

 


আরো সংবাদ




Instagram Web Viewer
agario agario - agario