১৭ নভেম্বর ২০১৯

যুবলীগ পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধার ভিটে মাটি দখল, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

যুবলীগ পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধার ভিটে মাটি দখল, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা - নয়া দিগন্ত

নিজের বসত ভিটে মাটি ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধা পেয়ার মোহাম্মদ। তার অভিযোগ ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর কর্ণফুলি উপজেলা যুবলীগ সভাপতি সোলায়মান তালুকদার তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে তাদের বসতবাড়ী ভেঙ্গে ১০ বিঘা সম্পত্তি দখল করে নেয়। এর পর বসত ভিটা ফিরে পেতে প্রভাবশালীদের দ্বারস্থ হলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তিনি। পেয়ার মোহাম্মদের পক্ষে তার ভগ্নিপতি রেজাউল করিম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছেও লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সোলায়মান তালুকদার ইউনিয়ন পরিষদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন সাধারণ নৈশ প্রহরী থেকে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। এই সম্পদ গড়তে গিয়ে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করেছেন। তবে অনেকেই ভয়ে মুখ খোলেনি।

তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। অক্ষর জ্ঞান না থাকার কারণে পরবর্তীতে কাগজপত্র নিবন্ধন নিতে পারিনি। তবে বিষয়টি জেলা ও উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা কামান্ডসহ এলাকার সবাই জানে। আমার জমি যদি বিএনপি-জামায়াতের আমলে কোনো রাজাকার দখল করতো তাহলে হয়তো এতো কষ্ট পেতাম না। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বের সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন আমাদের ৩ পরিবারের ২০ সদস্য নিয়ে ভিটা মাটি ফিরে পেতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছি- এটা বেমানান।

তিনি আরো বলেন, সোলায়মান তালুকদারের পিতা ১৯৭১ সালে রাজাকার ছিলেন। স্বাধীনতার পর মাদক ব্যবসায় করেন। বিষয়টি এলাকার সবাই জানে। ওই সময় তাদের ভাঙ্গা কুড়ে ঘর ছিল। নৈশ প্রহরীর চাকরি পাওয়ার পর সোলায়মান ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দোতলায় মা-বাবাসহ বসবাস করতো। যুবলীগের নাম বিক্রি করে বর্তমানে সে কোটি কোটি টাকার মালিক। তার রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ী। চলাফেরাও করেন বিলাসবহুল গাড়ীতে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও তার অপকর্মে অতিষ্ঠ।

পেয়ার মোহাম্মদ বলেন, তিন ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুবই মানবেতর জীবন-যাপন করছি। শেষ বয়সে আর কিছু নয়, শুধুমাত্র নিজের ভিটাতে মরতে চাই। তাই আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে সোলায়মান যেসব অপকর্ম করে যাচ্ছে, তা দ্রুত বন্ধ করে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন করেন তিনি।


আরো সংবাদ