১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পুলিশের ওপর বোমা হামলার দায় স্বীকার ‘আইএসের’

সাইন্সল্যাবে পুলিশের ওপর হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘আইএস’ - ছবি : নয়া দিগন্ত

ইসলামিক স্টেট গ্রুপ (আইএস) ঢাকায় পুলিশের ওপর বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উগ্রবাদ তৎপরতা নজরদারি প্রতিষ্ঠান সাইট ইন্টেলিজেন্স।

শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় পুলিশ বক্সের সামনে ওই বোমা হামলায় অন্তত দুইজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তাদের একজন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের প্রটোকলের সদস্য।

হামলার কয়েক ঘণ্টা পরে একটি বার্তায় সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ বলছে, ঢাকায় পুলিশের ওপর ওই বোমা হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে আইএস গ্রুপ। এর আগের হামলা দুটিরই দায়িত্ব স্বীকার করেছিল এই উগ্রবাদী গোষ্ঠীটি।

মালিবাগ ও গুলিস্তানে চালানো ওই হামলা দুইটির সাথেও মিল দেখতে পাচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ‘আইএসের’ দাবি নাকচ করলেও সেসব হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনো বের করতে পারেনি পুলিশ।

ধানমণ্ডি অঞ্চলের উপ-পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহেল কাফি বিবিসিকে বলেছেন, সোয়া নয়টার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে পুলিশ বক্সের সামনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের সনাক্ত করতে পুলিশ এর মধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।

তবে এ ঘটনা আইএসের দাবির ব্যাপারে পুলিশের কাছে তথ্য নেই বলে তিনি জানান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের বলেছেন, পুলিশকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। সায়েন্স ল্যাব মোড়ের পুলিশ বক্স টার্গেট করে ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছি।

আগের হামলার সাথে এই হামলার মিল রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পুলিশের দুই সদস্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে বলেছেন, সন্ধ্যার পর তিনি সীমান্ত স্কয়ারে একটি অনুষ্ঠান যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় সায়েন্স ল্যাব মোড়ে যানজটে পড়লে তার প্রটোকলের দায়িত্বে থাকা একজন এএসআই ট্রাফিক পুলিশের সাথে কথা বলতে যান। সে সময় যানজট ছেড়ে দেয়ায় তার গাড়ি চলে আসে। একটু পরেই তিনি জানতে পারেন যে, বোমা হামলায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থলে পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারি সাংবাদিকদের বলেছেন, ইম্পোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। মালিবাগ আর গুলিস্তানের হামলার সাথে এর সাদৃশ্য আছে।

এর আগে গত ২৩ জুলাই ঢাকার খামারবাড়ি ও পল্টন এলাকায় পুলিশের দুটি চেকপোস্টের সামনে থেকে দুটি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ।

সে ঘটনার পর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, ‘এর পেছনে আইএস, জেএমবি বা কোনো সংঘবদ্ধ দল জড়িত কি-না - তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।’

তার আগে ২৬ মে মালিবাগে পুলিশের বিশেষ শাখার সামনে একটি পিকআপে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ৩০ এপ্রিল গুলিস্তানে ট্রাফিক পুলিশকে লক্ষ্য করে হাতবোমা ছোড়া হলে তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

সূত্র : বিবিসি


আরো সংবাদ