১৬ অক্টোবর ২০১৮

সন্তান সম্ভাবা নারীর উপর ঝাপিয়ে পড়লো ভাড়াটিয়া

সন্তান সম্ভাবা নারীর উপর ঝাপিয়ে পড়লো ভাড়াটিয়া - সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নবীনগর হাউজিংয়ের একটি বাসায় সন্তান সম্ভাবা এক নারীকে (১৯) যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক মেহেদীকে (২২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে ওই নারীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গত রোববার দুপুর একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় মঙ্গলবার ভুক্তোভোগী ওই নারীকে মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

গৃহবধূর স্বজনরা জানান, রোববার দুপুরে তার স্বামী কাজের জন্য বাসার বাইরে ছিলেন। বাসায় একা ছিলেন দেড় মাসের সন্তান সম্ভাবা ওই নারী। এসময় পাশের বাসার ভাড়াটিয়া মেহেদী তাদের রুমের দরজায় কড়া নাড়ে। পরে ওই নারী দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে মেহেদী রুমের ভেতর ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মেহেদীর হাঁটুর আঘাত লাগে ওই নারীর পেটে। এতে রক্তপাত শুরু হয় তার। দুপুরের খাবার খেতে এসে গৃহবধূর স্বামী এ ঘটনা দেখতে পান। পরে মেহেদীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি স্থানীয় হাসপাতালে যান। হাসপাতাল থেকে পরে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন তারা। এলাকায় প্রভাব থাকায় আটক অবস্থা থেকে বের হয়ে মেহেদীও থানায় যায় ওই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে। পুলিশ তখন মেহেদীকে গ্রেফতার করে। গতকাল স্থানীয় ক্লিনিক থেকে ওই গৃহবধূকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী জানান, তিনি পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক। তার স্ত্রী একজন গৃহিণী। ১০-১২ দিন আগে তারা গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে নবীনগর হাউজিংয়ের ওই বাসায় ভাড়া ওঠেন।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি মোঃ জামাল উদ্দিন মীর ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্ত যুবক মেহেদীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে ভিডিও রাখলো শ্রমিকলীগ নেতা
বগুড়া অফিস ০৫ অক্টোবর ২০১৮, ২২:০১

তুফান কান্ডের পর বগুড়ায় আবারো এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারন করেছে শাহিনুর রহমান নামের এক শ্রমিকলীগ নেতা। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

ধর্ষক শাহিনুর একজন পরিবহন ব্যবসার সাথেও জড়িত।


গ্রেফতারের পর ধর্ষনের ঘটনা পুলিশের কাছে সে স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। বুধবার রাতে বগুড়া শহরের চারমাথা বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত পরিবহন ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমান (৪৫) বগুড়া জেলা যুব শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক ও বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকার মৃত ওয়াজেদ আলীর পুত্র। সে বগুড়া-ময়মনসিংহ ও বগুড়া -রাজশাহীসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ঝটিকা পরিবহনের মালিক।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষিত কলেজ ছাত্রীকে শাহিনের সাথে গত ২৯ সেপ্টেম্বর পরিচয় করিয়ে দেয় তারই এক বন্ধু। এরপর ওই কলেজ ছাত্রীকে জোরপূর্বক গাড়ীতে তুলে ফুলতলা এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যায় শাহিন। এরপর জোরপূর্বক নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষন করে শ্রমিকলীগ নেতা শাহিন।

এমনকি ঘটনা ফাঁস না করতে হুমকি দিয়ে নিজের মোবাইল ফোনে ধর্ষনের ঘটনার ভিডিও ধারন করে শাহিন।

পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে শাজাহানপুর থানায় গিয়ে ধর্ষন মামলা করে ওই কলেজ ছাত্রী। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে বগুড়া ডিবি পুলিশ শাহিনকে রাতেই গ্রেফতার করে। শাহীন শ্রমিকলীগ নেতা হলেও কোটিপতি ব্যবসায়ী। এর আগেও সে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে।

বগুড়া ডিবি পুলিশের ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, বুধবার বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর সরকারী এম মনসুর আলী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সম্মান শেষবর্ষের ছাত্রী (২৪) শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। ওই মামলার প্রেক্ষিতে রাতেই শহরের চারমাথা এলাকা থেকে ধর্ষক শাহিনুর রহমানকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার ধর্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শাজাহানপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, কলেজ ছাত্রীর দায়ের করা মামলার এজাহারে আসামি ধর্ষক শাহিনুর রহমানকে তাঁর পূর্বপরিচিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁকে প্রলোভন দেখিয়ে শহরের ফুলতলা এলাকার সিয়েস্তা নামক একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছর বগুড়া শহর শ্রমিকলীগের তৎকালীন আহবায়ক তুফান সরকার এক কিশোরীকে ধর্ষন করে। এ ঘটনা ফাস হলে তার স্ত্রী ও স্ত্রীর বড় বোন পৌর কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকি ধর্ষিতা কিশোরী ও তার মাকে বেধড়ক মারপিট করে মাথা ন্যাড়া করে দেয়।

এরপর থানায় মামলা দায়ের করা হলে ধর্ষক তুফান , তার স্ত্রী , শ্বশুর , কাউন্সিলর রুমকিসহ ১০জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে সময় এ ঘটনায় দেশে বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে তুফানকে ক্ষমতাসীন দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তদন্ত শেষে আদালতে আসামীদের নামে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। ধর্ষক তুফানসহ কাউন্সিলর রুমকি এখনও কারাগারে রয়েছে।

আরো দেখুন : ধর্ষণ মামলা তুলে না নেওয়ায় বাড়ীতে ঢুকে কলেজ ছাত্রীকে মারধর
মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর থেকে, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাজীপুরে ধর্ষণ মামলা তুলে না নেওয়ায় সোমবার দিবাগত রাতে বাড়ীতে ঢুকে এক কলেজ ছাত্রীকে মারধর করেছে আসামিরা। এঘটনায় মঙ্গলবার ওই ছাত্রী থানায় অভিযোগ করেছে।

ওই ছাত্রীর পিতা ও স্বজনরা জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের দক্ষিণ সালনা মোল্লাপাড়া এলাকার মোঃ নূর ইসলামের ছেলে মোঃ কাওসার ওই কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের কথা বলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। এরপর গত ৭ জুন কাওসার ও তার ক’বন্ধু বিয়ের ব্যাপারে কথা আছে বলে কলেজ ছাত্রীকে বাড়ী থেকে ডেকে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ওই বাড়ীর সামনে বন্ধুদের পাহারায় রেখে কাওসার তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় ধর্ষিতার কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে কাওসার ও তার সঙ্গীরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখার জন্য হত্যার হুমকী দেয়। এঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী বাদী হয়ে গত ৯ জুন ওই কাওসার ও তার সহযোগী সবদুল আলীর ছেলে আসাদুল, আঃ ছাত্তারের ছেলে জনি, সোহেল এবং মোহাম্মদ আলীকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে গত ১৯ সেপ্টেম্বর এ মামলায় আদালতে চার্জশীট প্রদান করেন।


এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা মামলা তুলে নিতে বারবার হুমকি দিয়ে আসছিল। মামলা প্রত্যাহার না করায় এবং পুলিশ অভিযোগপত্র দেয়ার খবর শুনে ক্ষুব্ধ হয় আসামীরা। সোমবার সন্ধ্যায় কাওসারসহ আসামীরা ওই ছাত্রীর বাড়ী যায় এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে। শীঘ্রই মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আসামীরা মামলার বাদী ওই ছাত্রীকে বড় ধরণের ক্ষতি করবে এবং জীবননাশের হুমকী দিয়ে চলে যায় বলে ওই ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছে ওই কলেজছাত্রী।


আরো সংবাদ