১৯ নভেম্বর ২০১৮

শপিং করতে গিয়ে মাদক কারবারীর সাথে পরিচয়, অতঃপর...

মাদক - সংগৃহীত

বছর দুয়েক আগে ঢাকা নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে যায় গৃহবধূ সাদিয়া ইসলাম মায়া। সেখানে দুই মহিলা মাদক কারবারীর সাথে পরিচয় হয় তার। ফোন নম্বরও আদান-প্রদান করা হয়। মাঝে মাঝে ফোনে দুই মাদক কারবারীর সঙ্গে কথা হতো মায়ার। মাদক ব্যবসায় নগদ টাকা, অল্প সময়ে বিত্তবান হওয়ার গল্প দুই মাদক কারবারীর কাছ থেকে প্রায়ই শুনতো মায়া।

তারা মায়াকে মাদক কারবারীতে যোগ দেয়ার প্রস্তাব দেয় এবং মাদকের চালান পেতে সহযোগীতার আশ্বাসও দেয়। একপর্যায়ে লোভে পড়ে মাদক কারবারীর খাতায় নাম লেখায় মায়া। ব্যবসা করতে গিয়ে মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরাও পড়তে হয়েছে তাকে। সর্বশেষ গতকাল সহযোগীসহ ফের ধরা পেরেছে ভাটারা এলাকার শীর্ষ এই মাদক সম্রাজ্ঞী সাদিয়া ইসলাম মায়া।

র‌্যাব-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আশিকুর রহমান বলেন, বুধবার সকালে ভাটারা এলাকার ১৩ নম্বর রোডের সি-ব্ল¬কের একটি বাসা থেকে মায়াকে ও তার সহযোগী মুহাম্মদ কাইয়ুম খানকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। গোপন সূত্রে র‌্যাব জানতে পারে, মায়ার ভাটারার বাসায় ইয়াবার বড় একটি চালান এসেছে। সেই সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। মায়া দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা এনে ব্যবসা করত। ভাটারা থানায় তার নামে মামলা রয়েছে। এর আগে জেলও খেটেছে। জেল থেকে বের হয়ে ফের একই পেশায় যুক্তি হতো সে।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে কাইয়ুম ও মায়ার পরিবার একই ভবনের ভাড়া থাকত। সেই সুবাদে তাদের পরিচয়। তবে মাঝে দিয়ে কাইয়ুম লন্ডনে চলে যায়। বছর দুয়েক আগে দেশে আসে। দেশে ফিরার পর মায়া কাইয়ুমকে মাদক ব্যবসায় যুক্ত করে। তাদেরকে বিরুদ্ধে সংশি¬ষ্ট ধারায় মামলা করে পুলিশে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

আরো পড়ুন : তুই বলায় মেহেদীকে হত্যা করা হয়

 ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:২২

দক্ষিণখান থানা এলাকায় ছুরিকাঘাত করে মেহেদী হত্যা করা মামলার প্রধান আসামি সাইফসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ সাইফ, মনির, আরাফাত, সাইফুল, মেহেরাব, আপেল, সিফাত ও সোহেল। গ্রেফতারের সময় প্রধান আসামী সাইফের নিকট হতে ১টি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়। ডিবি উত্তরের একটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রাজধানীর দক্ষিনখান ও উত্তরা এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে।


রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোঃ মাসুদুর রহমান পিপিএম।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দক্ষিণখান থানাধীন চেয়ারম্যানবাড়ী ইউপি’র নগরিয়া বাড়ী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্ব এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে শান্ত ও আরাফাত গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই হাতাহাতি ও মারামারি হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। দক্ষিনখান থানাধীন চেয়ারম্যানবাড়ী এলাকায় উঠতি বয়সী ছেলেদের বিভিন্ন গ্রুপ (জিম-জিয়াদ গ্রুপ, শান্ত গ্রুপ, আরাফাত গ্রুপ, কামাল গ্রুপ ও আনছার গ্রুপ) সক্রিয় রয়েছে। এই গ্রুপ গুলো ওই এলাকায় চাঁদাবাজি, ইভ টিজিং, ছিনতাই, হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরনের অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে।

ঈদ-উল ফিতরেএর ১০/১৫ দিন আগে আরাফাত গ্রুপের সদস্য কাউসার ওরফে কডা শান্ত গ্রুপের হুন্ডা মেহেদীকে তুই বলে সম্বোধন করে। ওই ঘটনার রেশ ধরে শান্ত গ্রুপের হুন্ডা মেহেদী ও ভিকিটিম মেহেদী আরাফাত গ্রুপের কাউসার ওরফে কডাকে মারধর করে। ১৮ আগস্ট ভিকিটিম মেহেদীসহ শান্ত গ্রুপের সদস্যরা আরাফাত গ্রুপের সাইফকে মারধর করে। ৩১ আগস্ট শান্ত গ্রুপের ভিকটিম মেহেদী এবং নাজমুল ফজল হাজীর ছেলে আরাফাত গ্রুপের তৌকিরের বাম হাতের কব্জিতে ও বুকের বাম পাশে সুইস গিয়ার ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এই ঘটনার পর থেকে আরাফাত গ্রুপের সদস্যরা মেহেদী ও নাজমুলকে মারার জন্য খুঁজতে থাকে।

ওই দিন বিকাল বেলায় কেসি কনভেনশন হলে একটি জনসভায় শান্ত গ্রুপের লোকজন মিছিল নিয়ে আসার সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আরাফাত গ্রুপের সদস্যরা মিছিলের উপর আক্রমণ করে। আরাফাত গ্রুপের সানি ও সোহেল মেহেদীকে জড়িয়ে ধরে এবং সাইফ চাকু দিয়ে মেহেদীর বাম কানের নিচে স্টেপ করে এবং অন্যরা লাঠি দিয়ে মারধর করে। আহত অবস্থায় ভিকটিম মেহেদীকে প্রথমে কেসি হাসপাতালে পরবর্তী সময়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মৃত্যুবরন করে।


আরো সংবাদ