১৪ নভেম্বর ২০১৮

তুই বলায় মেহেদীকে হত্যা করা হয়

তুই বলায় মেহেদীকে হত্যা করা হয় - ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণখান থানা এলাকায় ছুরিকাঘাত করে মেহেদী হত্যা করা মামলার প্রধান আসামি সাইফসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ সাইফ, মনির, আরাফাত, সাইফুল, মেহেরাব, আপেল, সিফাত ও সোহেল। গ্রেফতারের সময় প্রধান আসামী সাইফের নিকট হতে ১টি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়। ডিবি উত্তরের একটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রাজধানীর দক্ষিনখান ও উত্তরা এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে।

রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোঃ মাসুদুর রহমান পিপিএম।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দক্ষিণখান থানাধীন চেয়ারম্যানবাড়ী ইউপি’র নগরিয়া বাড়ী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্ব এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে শান্ত ও আরাফাত গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই হাতাহাতি ও মারামারি হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। দক্ষিনখান থানাধীন চেয়ারম্যানবাড়ী এলাকায় উঠতি বয়সী ছেলেদের বিভিন্ন গ্রুপ (জিম-জিয়াদ গ্রুপ, শান্ত গ্রুপ, আরাফাত গ্রুপ, কামাল গ্রুপ ও আনছার গ্রুপ) সক্রিয় রয়েছে। এই গ্রুপ গুলো ওই এলাকায় চাঁদাবাজি, ইভ টিজিং, ছিনতাই, হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরনের অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে।

ঈদ-উল ফিতরেএর ১০/১৫ দিন আগে আরাফাত গ্রুপের সদস্য কাউসার ওরফে কডা শান্ত গ্রুপের হুন্ডা মেহেদীকে তুই বলে সম্বোধন করে। ওই ঘটনার রেশ ধরে শান্ত গ্রুপের হুন্ডা মেহেদী ও ভিকিটিম মেহেদী আরাফাত গ্রুপের কাউসার ওরফে কডাকে মারধর করে। ১৮ আগস্ট ভিকিটিম মেহেদীসহ শান্ত গ্রুপের সদস্যরা আরাফাত গ্রুপের সাইফকে মারধর করে। ৩১ আগস্ট শান্ত গ্রুপের ভিকটিম মেহেদী এবং নাজমুল ফজল হাজীর ছেলে আরাফাত গ্রুপের তৌকিরের বাম হাতের কব্জিতে ও বুকের বাম পাশে সুইস গিয়ার ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এই ঘটনার পর থেকে আরাফাত গ্রুপের সদস্যরা মেহেদী ও নাজমুলকে মারার জন্য খুঁজতে থাকে। ওই দিন বিকাল বেলায় কেসি কনভেনশন হলে একটি জনসভায় শান্ত গ্রুপের লোকজন মিছিল নিয়ে আসার সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আরাফাত গ্রুপের সদস্যরা মিছিলের উপর আক্রমণ করে। আরাফাত গ্রুপের সানি ও সোহেল মেহেদীকে জড়িয়ে ধরে এবং সাইফ চাকু দিয়ে মেহেদীর বাম কানের নিচে স্টেপ করে এবং অন্যরা লাঠি দিয়ে মারধর করে। আহত অবস্থায় ভিকটিম মেহেদীকে প্রথমে কেসি হাসপাতালে পরবর্তী সময়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মৃত্যুবরন করে।

এ সংক্রান্তে ডিএমপি’র দক্ষিণখান থানায় মামলা রুজু হয়েছে।
সূত্র : ডিএমপি নিউজ

আরো পড়ুন :

দৃষ্টি নষ্ট হয়ে যাওয়া নারীর আত্মহত্যা
চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা

যশোরের চৌগাছায় নাজনীন আক্তার (২৯) নামে দুই সন্তানের জননী এক অন্ধ নারী গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি চৌগাছা পৌর এলাকার জিওলগাড়ি বেলেমাঠ গ্রামের উজ্জল হোসেনে স্ত্রী।

নিহতের স্বামী উজ্জল হোসেন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি নিজ ঘরের আড়ার সাথে শিশু সন্তানের সামনেই গলায় রশি দেন। শিশু সন্তানটি পরিবারের সদস্যদের জানালে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে চৌগাছা ৫০ শয্যা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


চৌগাছা থানার এসআই সালাহউদ্দিন পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আত্মহত্যার শিকার নারীটির একবছর আগে জ্বর হয়ে দুই চোখ অন্ধ হয়ে যায়। সেখান থেকে তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। শুক্রবার বাড়ির অন্য সদস্যরা বাড়িতে ছিল না, এ সুযোগে নিজের ঘরে গলায় রশি দেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শনিবার জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হয়।

চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


আরো সংবাদ