২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

স্বামীর ঘুরতে যাওয়ার সময় নেই, তাই স্ত্রীর আত্মহত্যা 

স্বামীর ঘুরতে যাওয়ার সময় নেই, তাই স্ত্রীর আত্মহত্যা  - সংগৃহীত

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় গৃহবধূ ও এক কলেজ ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। নিহতরা হলেন অর্থি দাস (২৫) ও আনিকা আক্তার (১৭)। নিহত অর্থির স্বামী ব্যাংক কর্মকর্তা দীলিপ জানান, স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে নারিন্দা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন তারা। কয়েক দিন আগে ব্যাংকের কয়েকজন মিলে সিলেটে ঘুরতে গিয়েছিলেন দীলিপ। রোববার সকালে সিলেট থেকে বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় অর্থি তার উপর অভিমান করেন।

তিনি আরও জানান, রোববার তাদের জন্মাষ্টমীর পূজা ছিলো। স্ত্রীকে নিয়ে পূজায় যেতে চাইলে সে জানায় মঙ্গলবার ঘুরতে বের হবে। কিন্তু মঙ্গলবার দীলিপের ব্যাংকে কাজ থাকায় ঘুরতে পারবে না বলায় আরো ক্ষেপে যায়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া লাগে। এক পর্যায়ে দুপুর একটার দিকে তার স্ত্রী ঘরের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয়। টের পেয়ে তিনি দরজা ভেঙ্গে অর্থিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার উচ্চপাড়া গ্রামে।

এদিকে রোববার ভোর ৬টার দিকে যাত্রাবাড়ী সুতি খালপাড় ৫৪/২ নম্বর ৫ তলা বাসার ৩য় তলার বাসায় আত্মহত্যা করে আনিকা। পরে দুপুর ১২ টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অনিকা সেন্টাল ওমেন্স কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ১ম বর্ষের ছাত্রী ছিলো। পারিবারিক সুত্র জানায়, মানিকগঞ্জ সিংগাইর উপজেলার মানিকনগর গ্রামের আমির হোসেনের মেয়ে আনিকা। বাবা প্রবাসী (বাহরান)। মা রেহেনা আক্তার বড় ছেলে রবিউল ইসলামকে নিয়ে থাকেন গ্রামের বাড়িতে থাকেন। আনিকা দীর্ঘদিন যাবৎ যাত্রাবাড়িতে খালা শাহনাজ পারভিনের বাসায় থাকতো। খালাতো ভাই রুহুল আমিন জানান, দীর্ঘ দিন যাবৎ তাদের বাসায়য় থেকেই লেখাপড়া করে আনিকা।

রোববার ভোরে বাসার বাথরুমে যায় আনিকা। অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও বের না হওয়ায় পরে বাথরুমের দরজা ভেঙ্গে বাথরুমের ঝর্ণার সাথে গলায় ওড়না পেচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায় তাকে। পরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানো হয়। ভোরের দিকে ঘটনা হলেও এত দেড়ি করে হাসপাতালে আনার কারণ জানতে চাইলে ভাই রুহুল আমিন জানান, ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানোর পরই তাকে মৃত দেখা যায়। পরে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পক্রিয়া চলছিলো। তবে পুলিশের ঝামেলা থাকায় পরে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। গলায় ফাঁস দেওয়ার কারণ জানাতে না পারলেও প্রেম ঘটিত কোনো কারণে সে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা স্বজনদের।

আরো পড়ুন: গুম হওয়া ভাইয়ের অপেক্ষায় ৪ বছর ৯ মাস
বিবিসি ৩০ আগস্ট ২০১৮, ১২:৩৯

যারা গুমের শিকার হয়েছেন তাদের জন্য আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতিসঙ্ঘ ঘোষিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে অফ দ্যা ভিকটিমস অব এনফোসর্ড ডিসঅ্যাপিয়ারেনসেস’।

বাংলাদেশে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী , ২০১৩ সাল থেকে দেশে গত পাঁচ বছরে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৭২৭ জন।


গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ ফেরত এলেও তাদের অধিকাংশ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

আর এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের হিসেবে, গত নয় বছরে গুম হয়েছে ৪৩২ জন - যার মধ্যে সন্ধান মিলেছে ২৫০ জনের।

বাংলাদেশে গুমের তালিকায় রয়েছেন সাবেক সাংসদ ইলিয়াস আলী, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান ছাড়াও অনেক রাজনৈতিক কর্মীসহ নানা পেশার মানুষ।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় নিখোঁজ হন সাজেদুল ইসলাম।

তার পরিবারের অভিযোগ, র‍্যাব পরিচয় দিয়ে কিছু লোক তাকে তুলে নেয়। তিনি ছিলেন বিএনপির একজন মাঠ পর্যায়ের নেতা।

একই দিনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের আরো সাতজন নিখোঁজ হয়ে যান, যাদের সন্ধান এখনও মেলেনি।

ওইসব পরিবারের অভিযোগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই তাদের তুলে নিয়ে গেছে।

যদিও পুলিশ বা র‍্যাবের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

সাজেদুল ইসলামের বোন সানজিদা ইসলাম বলছেন, সাড়ে চার বছর ধরে প্রতিটি মুহূর্তে ভাইয়ের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তারা।

‘আমার ভাই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আরও পাঁচজন বন্ধুসহ আড্ডা দিচ্ছিলেন, সন্ধ্যার পর ৪ঠা ডিসেম্বর রাতে। র‍্যাব-১ লেখা একটি ভ্যান ও মাইক্রোতে করে র‍্যাবের ইউনিফর্ম পরা কয়েকজন আসেন। তারা আমার ভাইসহ অন্যদের মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে যান।’

সানজিদার দাবি, সেখানে কিছু নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন যারা এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘এক ঘণ্টার মধ্যেই পরে র‍্যাব অফিসে যাই আমরা। তারা অস্বীকার করে। পরে আমরা থানায় যাই জিডি করার জন্য। কিন্তু পুলিশ জিডি গ্রহণ করেনি। এই চার বছর নয় মাস আমরা প্রশাসনের প্রতিটি জায়গায় গিয়েছি।’

‘পুলিশ র‍্যাবের নাম থাকায় জিডি নেয়নি, মামলাও নেয়নি থানায়। প্রায় তিন বছর নানা চেষ্টার পর আমার মা একটা রিট করেন হাইকোর্টে। আদালত একটি রুল জারি করে, কিন্তু পরে আর শুনানি হয়নি।’

এতদিন পর ভাইয়ের সন্ধান পাওয়ার আশা করেন কি? - এমন প্রশ্নের জবাবে সানজিদা ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশা করি। ভাইয়ের দু’টি মেয়ে আছে। আমার মা প্রতিটি মুহূর্ত অপেক্ষা করছেন। যেভাবে হঠাৎ করে নিয়ে গেছে হয়তো সেভাবেই একদিন হঠাৎ করে ফেরত দেবে।’

‘চার বছর নয় মাস পার করেছি। আশা করি আমার ভাই ফেরত আসবেন। তিনি শুধু রাজনীতি করতেন। আর কোনো দোষ ছিলো না।’

সানজিদা ইসলাম জানান, মানবাধিকার কমিশন ছাড়াও জাতীয় আন্তর্জাতিক নানা সংস্থাকে জানানো হয়েছে কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনো উদ্যোগ তাদের চোখে পড়েনি।

বাংলাদেশে বেশ কিছু গুমের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও এসব বাহিনী এবং সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নাকচ করে দেয়া হয়েছে।

বরং সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিখোঁজ হয়ে যাওয়া লোকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme