১৫ নভেম্বর ২০১৮

রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য

রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য - তত

ঈদ আসলেই রাজধানীতে বেড়ে যায় অজ্ঞান পার্টির দৌরত্ব। বিশেষ করে ঈদুল আযহায় কোরবানীর পশু কেনার জন্য অনেকেই নগদ টাকা বহন করে থাকেন। এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চায় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। তারা কৌশলে ঘাপটি মেরে থেকে সুযোগ বুঝে মানুষদের অচেতন করে হাতিয়ে নেয়া টাকা ও অন্যান্য মালামাল। ঈদ মৌসুমের সময় অজ্ঞান পার্টি যেন এক অতঙ্কের নাম। ইতিমধ্যে রাজধানী থেকে অজ্ঞান পার্টির ৫৭ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্যমতে, এ পার্টির সদস্যরা এতটাই ধূর্ত যে তাদের দেখে চেনার উপায় থাকে না। বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে এ চক্রের সদস্যরা ছদ্মবেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। টার্গেটকৃত ব্যক্তির সঙ্গে ভাব জমিয়ে যে কোনো খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেয় নেশা জাতীয় ট্যাবলেট। যাত্রী অজ্ঞান হয়ে গেলে সর্বস্ব লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ চক্রের সঙ্গে মহিলা সদস্যও রয়েছে। অনেক সময় দুর্বৃত্তরা স্বামী-স্ত্রী সেজে যানবাহনে ওঠে। এরপর টার্গেটকৃত এক বা একাধিক ব্যক্তিকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে ফেলে। ফলে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই তাদের খপ্পরে পরছে। অজ্ঞান পার্টির খপ্পর থেকে বাঁচতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পÿে বেশ কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পুলিশের ওই পরামর্শে বলা হযেছে ‘ভ্রমন পথে অযাচিতভাবে অপরিচিত কেউ অহেতুক ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে পাত্তা দিবেন না। ডাবের ভিতরে সিরিঞ্জের মাধ্যমে চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়ে থাকতে পারে। তাই কখন কোথা হতে তৃষ্ণা মিটাচ্ছেন সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কারো হাতে রুমাল দেখলে সতর্ক থাকুন। কারণ রুমালের মধ্যে ক্লোরোফর্ম মিশিয়ে আপনার নাকের কাছে ধরলেই আপনি অজ্ঞান হয়ে যাবেন।

ফুটপাতে বা রাস্তার মোড়ে টং দোকান থেকে খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। ফেরিওয়ালা বা ভ্রাম্যমান কারো কাছ থেকে আচার, আমড়া, শসা, পেয়ারা প্রভৃতি খাবেন না। বাসে, ট্রেনে ভ্রমণের সময় লজেন্স বা চকলেট, আইসক্রিম ইত্যাদি জাতিয় কোন খাবার গ্রহণ করবেন না। সিএনজিতে চলার সময় যাত্রীরা ড্রাইভারের কাছ থেকে এবং ড্রাইভাররা যাত্রীদের কাছথেকে কোন খাবার গ্রহণ করবেন না। ভ্রমণের সময় নির্জণ পথ পরিহার করে সর্বদা গাড়ি চলাচল করে এবং লোক সমাগম থাকে এমন রাস্তা বেছে নিন। ভ্রমণের সময় পরিচিত কাউকে সাথে নেয়া ভালো’। শুধু একটু সচেতনতাই রক্ষা করতে পারে আপনার জীবন ও সম্পদ।


আরো সংবাদ