২৩ এপ্রিল ২০১৯

পরিবহন শ্রমিকদের জন্য অবাধ ‘নেশা’

পরিবহন শ্রমিকদের জন্য অবাধ ‘নেশা’ - ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গভবন পার্কের পাশের রাস্তায় সারিবদ্ধ গাড়িগুলো দেখলে যে কেউ মনে করবেন মিনি টার্মিনাল। গাড়িগুলো লাইন দিয়ে রাস্তার পাশে রাখা। রাত ৯টার পরে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় কেউ গাঁজার গন্ধ পাবেন। কখনো গাড়িগুলোর ভেতর থেকে, আবার কখনো পার্কের ভেতর থেকে বের হওয়া এ গন্ধ যেকোনো পথচারীর অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে। অনেকে প্রকাশ্যেই গালাগাল করেন গাঁজাখোরদের। এখানে আরো অনেক নেশা চলে। নেশাখোরদের বেশির ভাগই পরিবহন শ্রমিক। পার্কিং করে কখনো গাড়ির ভেতরে; আবার কেউ পার্কে ঢুকে গাঁজা সেবন করে। এই নেশাখোররাই আবার গাড়ি চালায়।

সম্প্রতি একটি গাড়িতে করে শ্রীনগর থেকে ঢাকায় আসছিলেন শামীম, আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন। তাদের গাড়িটি কেরানীগঞ্জের দিকে ঢুকতে একটি গর্তে ফেলে দেয় চালক। এ সময় গাড়ির অনেক যাত্রীই কমবেশি আহত হন। চালকের কাছে যখন যাত্রীরা জানতে চান তখন চালাক বলেন, মনে হচ্ছিল গর্তটা পার হয়ে যেতে পারব। কিন্তু পেছনের চাকা আটকে গেছে। যাত্রীদের অনেকেই বলেছেন, নেশাগ্রস্ত না হলে চালকের ওই বিষয়টি মনে হওয়ার কথা নয়।

সম্প্রতি ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চে পরিবহন মালিক, শ্রমিক এবং ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি যৌথ সভা হয়। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকদের মাদক গ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে। শ্রমিকদের মাদকাসক্তের বিষয়টি তুলে ধরেন সেখানে পরিবহন মালিক নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। ওই মিটিংয়ে পরিবহন মালিক সমিতির সেক্রেটারি খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ঢাকায় প্রায় ৫০ হাজার পরিবহন শ্রমিক রয়েছে, যার ৫০ শতাংশই মাদকাসক্ত। মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এক ঊর্ধŸতন কর্মকর্তা বলেছেন, ইয়াবা সেবন করলে তা তাৎক্ষণিক পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। অ্যালকোহল সেবন করলে তা পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব। কিন্তু ইয়াবা সেবন করলে তা পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। ফলে পরিবহন শ্রমিকেরা এখন নির্বিঘেœ ইয়াবা সেবন করে গাড়ি চালান।

রাজধানীর মতিঝিলের টিঅ্যান্ডটি কাঁচা বাজারের রাস্তায় মতলব এক্সপ্রেস, এয়ার এশিয়ানসহ বিভিন্ন পরিবহনের গাড়ি লাইন ধরে পার্কিং করা থাকে। বিআরটিসিরও বেশকিছু গাড়ি কমলাপুর কাউন্টারের আশপাশে রাখা থাকে। পাশে ব্যাংক কলোনির একাধিক বাসিন্দা জানান, পার্কিং করা এ গাড়িগুলোর ভেতর ও বাইরে মাদকাসক্তদের ভিড় জমে যায় সন্ধ্যার পরে। তখন সাধারণ মানুষের হাঁটা দায় হয়ে ওঠে।

বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা নয়া দিগন্তকে বলেন, মাদকের ব্যবহার সর্বত্রই বেড়েছে। সেই সাথে পরিবহন সেক্টরের শ্রমিকদের মধ্যেও বাড়বে- এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের হাতে নগদ অর্থ থাকে। শ্রমিকদের কেউ কেউ মাদকের পেছনেই এ অর্থ ব্যয় করেন। অনেক শ্রমিক রয়েছে যারা মাদক আনা-নেয়ার সাথেও জড়িত। এরূপ অন্তত ৫০ শ্রমিক রয়েছে যারা এখন মাদক মামলায় জেলে। 
আলী রেজা আরো বলেন, অনেক মালিক আছেন যারা ইয়াবা ক্যারির জন্য চালকদের ব্যবহার করে থাকেন। ওইসব মালিক রাতারাতি বড়লোক হয়ে গেছেন। এ নিয়ে মালিকপক্ষের সাথে একবার বৈঠকে বসেছিল কিন্তু বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত হয়নি।

পুলিশের একাধিক সদস্য বলেছেন, প্রায়ই পরিবহন শ্রমিকদের নেশা করার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যায়। নেশা করে একপর্যায়ে তারা বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তার পরেও তারা গাড়ি চালায়। এ ক্ষেত্রে মালিকেরাও দোষী বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তারা।


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat