২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শালী-দুলাভাই অনৈতিক সম্পর্ক, বোনের সংসার বাঁচাতে গিয়েই খুন

বৃষ্টি ও সুমন সম্পর্কে শালী-দুলাভাই। কিন্তু তা একপর্যায়ে রূপ নেয় অনৈতিক সম্পর্কে। বড় বোনের স্বামী সুমনের সাথে বেশ কয়েক বছর ধরে বৃষ্টির এ সম্পর্ক চলে আসছিল। ঘটনা জানাজানি হলে পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা হয়। এরপর নিজের বোনের সংসার বাঁচাতে সুমনের কাছ থেকে দূরে সরে আসতে থাকে বৃষ্টি। এমনকি পরিবারের লোকজন বৃষ্টির বিয়েও ঠিক করে। এতে ক্ষিপ্ত হয় দুলাভাই সুমন। বিষয়টি সমঝোতার কথা বলে বৃষ্টিকে নিয়ে ঘটনার দিন মগবাজারের আবাসিক হোটেল বৈকালীতে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে রুম ভাড়া নেয় সুমন। তাদের মধ্যে আগের বিষয়গুলো নিয়ে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সুমন বৃষ্টির সাথে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে চাইলে বৃষ্টি রাজি না হওয়ায় সুমন প্তি হয়ে বৃষ্টির ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। 

গত ১৬ জুলাই সোমবার রাজধানীর মগবাজারের ওই আবাসিক হোটেলে একটি ক থেকে বৃষ্টির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দুলাভাই রিয়াজ ওরফে সুমনকে (২৯) রাজধানীর মিরপুর পাইকপাড়া থেকে গত মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩। গতকাল দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান। 
তিনি বলেন, আসামি সুমন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। সুমন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক। ২০১০ সালে ভিকটিম বৃষ্টির মেজো বোন হাসনার সাথে তার বিয়ে হয়। গত তিন চার বছর ধরে সে তার শ্যালিকাকে উত্ত্যক্ত করত এবং একপর্যায়ে সেটা অনৈতিক সম্পর্কে গড়ায়। বিষয়টি পরিবারে জানাজানি হলে বৃষ্টির অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়েছিল কিন্তু বিষয়টি সহ্য করতে না পেরেই বৃষ্টিকে হোটেলে ডেকে নিয়ে হত্যা করে সুমন।
তিনি জানান, হত্যার পর ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে বৃষ্টির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হোটেল রুমের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। পরে সে বুদ্ধি করে হোটেলের বাইরে যায় এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর ফিরে আসে। ফিরে আসার পর বৃষ্টি আত্মহত্যা করেছে বলে চিৎকার করতে থাকে। পরে হোটেলের লোকজন এলে সুমন নিজেই ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা লাশের মাথায় পানি দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে সুমন কৌশলে হোটেল থেকে পালিয়ে যায়। বৃষ্টি মারা গেছে বিষয়টি জানার পর হোটেল কর্তৃপ থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। 

র‌্যাব জানায়, খবর পেয়ে বৃষ্টির স্বজনেরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ছুটে যান এবং তার লাশ শনাক্ত করেন। পরে বৃষ্টির বাবা মো: আনোয়ার হোসেন রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। বিষয়টি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও ছায়াতদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩। জানা গেছে, বৃষ্টি মহাখালী সাততলা বস্তিতে বাবা-মায়ের সাথে থাকত। সে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করত।

শ্যালিকা হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার দুলাভাই সুমন ৫ দিনের রিমান্ডে
আদালত প্রতিবেদক জানান, ঢাকার মগবাজারে একটি আবাসিক হোটেল থেকে শ্যালিকা বৃষ্টির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দুলাভাই সুমনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার এসআই মো: মিজানুর রহমান তাকে ঢাকার অতিরিক্ত সি এম এম আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চান। আদালত শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

রিমান্ড প্রতিবেদনে বলা হয় গত মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে বৃষ্টি ও সুমন নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে প্রিয়া ও রিয়াজ নামে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মগবাজারের হোটেল বৈকালীতে ওঠেন। কিছুণ পর রিয়াজ নাশতা আনার কথা বলে বের হয়ে ঘণ্টাখানেক পর আসেন। এর কিছুণ পর রিয়াজ হোটেলের লোকজনকে বলেন, প্রিয়া গলায় ফাঁস দিয়েছে। হোটেলের লোকজন এলে রিয়াজ নিজেই ঝুলন্ত অবস্থায় প্রিয়াকে ওপর থেকে নামিয়ে মাথায় পানি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে কৌশলে রিয়াজ সেখান থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আনোয়ার হোসেন রমনা থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ সুমনকে গ্রেফতার করেছে। কেন সে তার শালীকে হত্যা করেছে তার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন। 

উল্লেখ্য, এই ঘটনায় বৃষ্টির বাবা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, বৃষ্টিকে ফুঁসলিয়ে ও প্রলোভন দিয়ে তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে সুমন। এ বিষয়ে কয়েকবার পারিবারিকভাবে সুমনকে সতর্ক করা হয়। গত ১৬ জুলাই সকাল ৮টার দিকে বৃষ্টি বাসা থেকে তার কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হয়। সাড়ে ৯টার দিকে সুমন ফোন দিয়ে জানায় বৈকালী হোটেলে বৃষ্টি মারা গেছে। সুমনসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে মগবাজার বৈকালী হোটেলে এনে তাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন আনোয়ার হোসেন।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme