২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যুক্তি উপস্থাপন

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তারেককে আসামী করা হয় : খন্দকার মাহবুব

খন্দকার মাহবুব - সংগৃহীত

২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামী সাবেক সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও আবদুর রহিমের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কালে বুধবার তাদের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এই মামলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য তারেক রহমান, রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, আবদুর রহিমসহ বিএনপি নেতাদের আসামী করা হয়েছে। তারা এই মিথ্যা মামলা হতে খালাস পাওয়ার যোগ্য।

বুধবার রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যুক্তি উপস্থাপন কলে খন্দকার মাহবুব হোসেন একথা বলেন। শুনানিতে তার সঙ্গে ছিলেন, আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: আহসান ও অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা। গতকাল পর্যন্ত এ মামলার ৪৩ আসামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ হয়।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ঘটনার পর ২৮ জনকে আসামী করে তাদের বিরুদ্ধে চাজশিট দেয়া হয়। পরবর্তীতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ ওই মামলার ৬১ জন সাক্ষীর জবানবন্দী জেরা সমাপ্ত হওয়ার পর মামলাটি পুন:তদন্তের জন্য নেয়া হয়।

পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২০ জুলাই পূর্বের ২৮ জনসহ আরো ৩০ জনকে আসামী করে চার্জশিট দেয়া হয়। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য উক্ত মামলায় মুফতি হান্নানের একটি কথিত স্বীকারুক্তিমুলে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের অন্তর্ভূক্ত করে চার্জশিট দেয়া হয়। সেই সঙ্গে ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিমকেও আসামী করা হয়। কেন না তারা বিভিন্ন সময় সরকারের অনুগত হিসেবে বিবেক বিহীনভাবে সরকারের নির্দেশ মোতাবেক কার্য পালনে অস্বীকৃতি জহানায়।

খন্দকার মাহবুব হোসেন আরো বলেন, যিনি এ মামলায় তদন্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেছেন তিনি সরকারের নির্দেশ মোতাবেক বিএনপি নেতাসহ সৎ ও নিষ্ঠাবান ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীকে আইনগত কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ ব্যতিত শুধুমাত্র মুফতি হান্নানকে মানুসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে কথিত একটি স্বীকারুক্তি মুলক জবানবন্দী যা তিনি প্রত্যাহার করেছেন। এমনকি এ মামলা চলাকালীন সময় তিনি যাতে সঠিক জবাবন্দী না দিতে পারেন সে কারণে তড়িঘড়ি করে তাকে অন্য একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।


বুধবার আসামী সাবেক সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীর পক্ষে তৃতীয় দিনে যুক্তিতর্ক শেষ করেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। এরপর আসামী আবদুস সালাম পিণ্টুর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী রফিকুল ইসলাম। মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য রয়েছে আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই।

এর আগে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেয়। আসামীপক্ষ্য স্বাক্ষিদের জেরা করেছে। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রধান কোঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান, অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল প্রমুখ।

এ মামলার আসামী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। অন্য দিকে তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল (এলপিআর) এটিএম আমিন, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারসহ ১৮ জন এখনো পলাতক। জামিনে থাকা আসামিরা হলেন- বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডি’র সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম।


আরো সংবাদ

সকল