২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কোটা আন্দোলনের ছাত্রীকে ধর্ষণেল হুমকি ছাত্রলীগ নেতাদের

কোটা আন্দোলনের ছাত্রীকে ধর্ষণেল হুমকি ছাত্রলীগ নেতাদের - ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কিছু নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। জাবি শাখা ছাত্রলীগ নেতা ও কোটাধারী পাঁচ ছাত্রের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এক ছাত্রী। গত রোববার ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার জুলকারনাইন বরাবর এ অভিযোগ করেন।

হুমকির শিকার ওই ছাত্রী অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে আমি বিভিন্ন সময় সক্রিয় ছিলাম। তাই কোটা সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া একটি সঙ্ঘবদ্ধচক্র আমাকে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুধু আমাকে ধর্ষণের হুমকিই দেয়নি, আমার বংশপরিচয় নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে যাচ্ছে।’ 

অভিযোগপত্রে এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে হামজা রহমান অন্তরের (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব-৪১) নাম উল্লেখ করা হয়। তিনি ছাত্রলীগ সেক্রেটারি আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী ও শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি। তার অন্যতম সহযোগী হিসেবে ইশকাত হারুন আকিব (বাংলা-৪৬), জাহিদ হাসান ইমন (আইআইটি-৪৬), মাসুদ রানা (মাইক্রোবায়োলজি-৩৯) এবং রনি ভৌমিকের নাম অভিযোগে বলা হয়েছে। তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জাড়িত।

আরো পড়ুন :

আবাসিক হোটেল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার : পালিয়েছে দুলাভাই
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মগবাজারে একটি আবাসিক হোটেল থেকে গতকাল বৃষ্টি আক্তার (১৬) নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ সময় লাশের পাশ থেকে আলামত হিসেবে ওড়না ও একটি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে উঠার পর নিহত বৃষ্টির দুলাভাই সুমন পলাতক রয়েছেন। 
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হোটেলে ম্যানেজার নোমান সিদ্দিকীর কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে রমনা মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর দীপংকর চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে একটি দল বেলা সোয়া ১১টায় মগবাজার আবাসিক হোটেল বৈকালীর চার তলার ৪০৭ নম্বর কক্ষের বিছানায় শোয়া অবস্থায় বৃষ্টির লাশ উদ্ধার করেন। এর আগে ওই হোটেলে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে উঠেন। 
সাব ইন্সপেক্টর দিপংকর চন্দ্র দাশ গত রাতে নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এলেই বোঝা যাবে হত্যা না আত্মহত্যা। তিনি জানান, বৈকালী হোটেল ম্যানেজার নোমান সিদ্দিক জিজ্ঞাসাবাদে তাকে জানিয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় রিয়াজ-প্রিয়া নামে স্বামী-স্ত্রীর মিথ্যা পরিচয়ে তারা হোটেলের রুম ভাড়া করেন। ঘণ্টাখানেক পর ‘স্বামী’ ফিরে এসে দেখতে পান বৃষ্টি গলায় সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে। এরপর তিনি নিজেই ওড়না কেটে নিচে নামিয়ে মাথায় পানি ঢালেন। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পালিয়ে যান। 

সাব ইন্সপেক্টর বলেন, মূলত মেয়েটির নাম বৃষ্টি আক্তার। আর স্বামী পরিচয়ে যে ব্যক্তি সাথে ছিলেন, তিনি হচ্ছেন তার আপন দুলাভাই। বৃষ্টি মগবাজার এলাকার কোনো একটি গার্মেন্টে চাকরি করতেন। তবে সেই প্রতিষ্ঠানের নাম জানতে পারেনি। থাকতেন মহাখালী সাততলা বস্তিতে পরিবারের সাথে। সকালে বৃষ্টি কাজের উদ্দেশ্য বাসা থেকে বের হন। তবে তিনি কর্মস্থলে না গিয়ে দুলাভাইয়ের সাথে ওই হোটেলে গিয়ে ওঠে। বৃষ্টির মেঝো বোনের স্বামী সুমনের গ্রামের বাড়ি ভোলায়। 

এক প্রশ্নের উত্তরে সাব ইন্সপেক্টর দীপংকর বলেন, দুলাভাই যখন বুঝতে পারেন বৃষ্টি মারা গেছেন, তখন তিনি তার স্ত্রীকে (বৃষ্টির বোন) ফোন করে জানান, ‘তোমার বোন মগবাজারের বৈকালী হোটেলে আছে। তার কি জানি হয়েছে, যাও তার খোঁজ নাও’। নিহত বৃষ্টির বাবার নাম আনোয়ার হোসেন। গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুরে। গলায় অর্ধ চন্দকৃতির দাগ রয়েছে। 
অপহরণের আড়াই মাস পর অপহৃত উদ্ধার 

নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে অপহরণের আড়াই মাস পর অপহৃত ব্যক্তিকে মহাখালী এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত রোববার গভীর রাতে মহাখালীতে অভিযান চালিয়ে শহীদুল ইসলামকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ অপহরণকারী চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো লিপি, সুফিয়া বেগম, আওয়াল মাস্টার, মিন্টু, হাসি ও সোহেল।

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বশির আহমেদ জানান, একই গ্রামের হওয়ায় আসামিরা বিভিন্ন সময় সুবজবাগে শহীদুলের বাসায় আসা-যাওয়া করত। একপর্যায়ে সুফিয়া বেগম শহীদুলের স্ত্রী বকুল আক্তার আঁখির কাছে ব্যবসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা ধার চায়। ধার দিতে অস্বীকার করলে সুফিয়া বেগম ক্ষিপ্ত হয় এবং আঁখির ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয়। পরে গত ২ মে সকালে আঁখির স্বামী শহিদুল ইসলাম সবুজবাগ থানার ৫১ মধ্য বাসাবোর বাসা থেকে বের হওয়ার পর সুফিয়ার লোকজন তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে ভিকটিম শহীদুল ইসলামের মোবাইল থেকে তার স্ত্রী বকুল আক্তার আঁখির মোবাইলে অপহরণকারীরা ফোন করে বলে, ‘তুই যদি আমাদের কথামতো পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দিস কিংবা আমাদের কথামতো খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর না করিস তাহলে তোর স্বামীকে খুন করে টুকরো টুকরো করে বস্তায় ভরে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেবো।’ এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদি হয়ে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলার তদন্তের সূত্র ধরে গত রোববার মহাখালী এলাকা থেকে শহীদুলকে উদ্ধার করা হয়।


আরো সংবাদ